প্রবীণ জীবনের পূর্বাপর!

অধিকার বঞ্চিত প্রবীণদের ঠাঁই মেলে বৃদ্ধাশ্রমে

অধিকার বঞ্চিত প্রবীণদের ঠাঁই মেলে বৃদ্ধাশ্রমে

দিন শেষে সূর্য যেমন চতুর্দিক রাঙিয়ে দিয়ে অস্ত যায়, তেমনি একজন মানুষ যত প্রবীণতর হতে থাকবে ততই তার চতুর্পাশ রাঙিয়ে দিতে থাকবে। আমাদের চারপাশে এটাই হওয়ার কথা থাকলেও প্রায়শই তা হয় না।

আজ ১ অক্টোবর, বিশ্ব প্রবীণ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে বাবার কথা। ঢাকা থেকে যখন গ্রামের বাড়ি যেতাম বাবা বিদায় বেলায় খুব করে বলে দিতেন ‘ঢাকায় পৌঁছে-ই কিন্তু আমাকে ফোন দিবি’। যতদূর মনে পড়ে একবার ঢাকায় এসে বাবাকে কোনো কারণে ফোন দিতে ভুলে গিয়েছিলাম। বাবা গভীর রাতে ৫ কিলোমিটার হেঁটে বাজারের এক দোকান থেকে আমাকে ফোন দিয়েছিল। গভীর রাতে ফোন পেয়ে বাবাকে শুধু বলেছিলাম, ‘কষ্ট করে এত রাতে ফোন দেবার কি প্রয়োজন ছিল?’ বাবা খানিকটা অভিমান করে শুধু বলেছিল, ‘আমার মতো যেদিন তুমি বাবা হবে সেদিন বুঝবে এত গভীর রাতে কেন ফোন দিয়েছি!’ বাবা আজ আর বেঁচে নেই; কিন্তু বাবার সেই অভিমানী কথার গভীরতা জীবন সায়াহ্নের এই বেলায় ঠিকই বুঝে নিয়েছি। কারণ এখন যে আমারও নীল আকাশজুড়ে কেবলই বার্ধক্য সদৃশ মেঘের ঘনঘটা!

‘বার্ধক্য’ আহা! এ যেন মেনে না নেওয়া আরাধ্য মানব জীবনের একটি অবশ্যম্ভাবী প্রক্রিয়া। যে প্রক্রিয়াকে মানব জীবনের শেষ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। জীবনের এ অবেলায় এসে একজন মানুষ বহুমাত্রিক সমস্যায় পতিত হন; যদিও আমাদের খাতা-কলমে সমাজ-সংসারে প্রবীণদের অধিকার সুরক্ষিত। বিদেশে সাধারণত বয়স্কদের সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়; কিন্তু আমাদের দেশের শহরাঞ্চলে বয়স্ক লোকদের ‘প্রবীণ’ এবং গ্রামাঞ্চলে বুড়ো-বুড়িই বলা হয়ে থাকে। সময়ের পরিক্রমায় চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির প্রেক্ষিতে এই বয়স্ক মানুষের সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে দেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠী। ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের যে ২৫টি দেশ প্রবীণ জনগোষ্ঠীর দিক হতে অগ্রভাগে অবস্থান করবে, এদেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হবে বাংলাদেশ। ধারণা করা হচ্ছে, এশিয়া মহাদেশের ৪টি দেশসহ বিশ্বের ২৫টি দেশে পৃথিবীর মোট প্রবীণ জনগোষ্ঠীর ৪৪ শতাংশ বসবাস করবে। দেশে পরিচালিত একটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে, বর্তমানে বসবাসরত প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৯৫ শতাংশেরও অধিক প্রবীণ কোনো-না-কোনো ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছে। সময়ের সাথে নগরায়ণ, শিল্পায়ন, চাকরিগত ও অন্যান্য পরিবর্তিত পেক্ষাপটে বিশেষ করে বাংলাদেশে বাঙালির ঐতিহ্যমণ্ডিত যৌথ পারিবারিক ব্যবস্থার ফাটল আর পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় প্রবীণদের স্বাস্থ্যগত সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে। সাধারণত একান্নবর্তী পরিবার-ব্যবস্থায় প্রবীণদের অবস্থান থাকে অত্যন্ত সম্মানজনক। কিন্তু পশ্চিমা সমাজ-ব্যবস্থার প্রভাব এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের ফলে দেশের প্রবীণরা আজ পরিবার-সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের কাছে বোঝা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মূল কারণ প্রবীণদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা। প্রতিটি মানুষ যখন বার্ধক্যে পা দেন তখন তার সাথে যোগ হয় কিছু শারীরিক পরিবর্তন। পরিবর্তনের ফলে ব্যক্তির কর্মক্ষমতা একটু একটু করে হ্রাস এবং অসামর্থ্যতার হার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়। ফলে প্রবীণদের মাঝে পরনির্ভরশীলতা, অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা, অসহায়ত্তবোধ দেখা দেয়। তাছাড়া এ সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে দেহে বাসা বাঁধে কিছু ‘চিরাচরিত রোগ’। পরিবার ও পরিবেশ যদি প্রবীণবান্ধব না হয় এবং প্রবীণ ব্যক্তিটি নিজেও যদি স্বাস্থ্য সচেতন না হন, এক্ষেত্রে ভোগান্তির মাত্রা বেড়ে যায় বহুগণ। সময়ের এই তো বিধি ‘আমরা কখনও বার্ধক্যকে রোধ করতে পারি না; কিন্তু একটা সুনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত স্বাস্থ্যকে সহনশীল মাত্রায় বেঁধে রাখতে পারি। এজন্য প্রয়োজন প্রবীণ ব্যক্তি, তার পরিবার, সমাজ কাঠামো এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রবীণ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

older

অচল' পায়ে ঘোরে রিকশার চাকা

প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক চিত্রায়ন
দিন শেষে সূর্য যেমন চতুর্দিক রাঙিয়ে দিয়ে অস্ত যায়, তেমনি একজন মানুষ যত প্রবীণতর হতে থাকবে ততই তার চতুর্পাশ রাঙিয়ে দিতে থাকবে। আমাদের চারপাশে এটাই হওয়ার কথা থাকলেও প্রায়শই তা হয় না। পশ্চিমাকাশে গাঢ় মেঘের প্রতিবন্ধকতার মতো বিভিন্ন সমস্যার কারণে অধিকাংশ প্রবীণরা তাদের চতুর্পাশ রাঙিয়ে দিতে পারেন না। যদিও দেশে প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ, দারিদ্র্যমুক্ত, কর্মময়, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ সামাজিক জীবন নিশ্চিত করতে ‘জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা ২০১৩’ এবং বাংলাদেশের সংবিধানে দেশের সকল অসুবিধাপ্রাপ্ত মানুষকে সহায়তা প্রদানের নিশ্চয়তা বিধানের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর একটি অংশ সবসময় অসুবিধাগ্রস্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

একজন মানুষের জীবনচক্র যথা- নবজাতককাল, শৈশবকাল, কিশোরকাল, প্রাপ্ত বয়স্ককাল এবং বার্ধক্যকাল। এই ৫টি ধাপের শেষ ধাপ হলো বার্ধক্যকাল। এ-কালে অবস্থানরত মানুষগুলোকে আমরা বলি প্রবীণ। ‘প্রবীণ’ যাত্রাপথ ৬০ বছর হতে শুরু করে জীবনের সমাপ্তি পর্যন্ত ধরা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে একজন মানুষকে ৬০ বছর পার হওয়ার পূর্বেই বার্ধক্যে পতিত হতে দেখা যায়। এর পেছনের কারণগুলো হলো- দারিদ্র্য, কঠোর পরিশ্রম, অপুষ্টি, অসুস্থতা এবং ভৌগোলিক অবস্থান। বিশ্ব প্রবীণ জনসংখ্যা প্রতিবেদন ২০১৩-এর তথ্য মোতাবেক, বাংলাদেশে ১৯৭৪ হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রবীণ জনসংখ্যা যে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে তা খুব স্পষ্ট। যেমন, ১৯৭৪ সালে দেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠী বৃদ্ধির হার ছিল ৫.৭ শতাংশ এবং ২০৫০ সালে এই হার বৃদ্ধি পেয়ে হবে ২০ শতাংশ। অনুমান করা হচ্ছে এভাবে যদি দেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেতে থাকে, তা হলে ২০৫০ সালে এদেশে প্রতি পাঁচজনের মাঝে একজন হবে প্রবীণ। তথ্যমতে, বর্তমানে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ প্রবীণ বিবাহিত ও বিবাহিত প্রবীণ নারীদের মধ্যে ৬০ শতাংশ বিধবা এবং ৯৮ শতাংশ প্রবীণদের সন্তান রয়েছে। তাছাড়া অন্য এক তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৭০ শতাংশ প্রবীণ বেতন বা মজুরিভিত্তিক কোনো-না-কোনো কাজের সাথে জড়িত। অন্যদিকে প্রবীণ নারীদের মধ্যে অধিকাংশ বেতন বা মজুরিবিহীন কাজের সাথে সম্পৃক্ত।

২০১০ সালে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলংকার মোট জনসংখ্যার প্রবীণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ সেদেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার ১২ শতাংশ। তাছাড়া ইন্দোনেশিয়ায় ছিল মোট জনসংখ্যার ৮.৯ শতাংশ, ভারতে ৭.৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশে ছিল ৬.৩ শতাংশ প্রবীণ জনগোষ্ঠী। দেশে দেশে প্রবীণদের বয়সভেদে সংখ্যাগত দিকে বেশ তারতম্য রয়েছে। যেমন- বাংলাদেশে ৮০-এর অধিক প্রবীণ মানুষের সংখ্যা মোট প্রবীণ জনগোষ্ঠীর ০.৫৭ শতাংশ হলেও নেপালে এই হার ০.৪৬ শতাংশ। আবার নেপালে ৭৫ হতে ৭৯ বয়সের প্রবীণ মানুষের সংখ্যা মোট প্রবীণ জনগোষ্ঠীর ০.৭১ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে এই সংখ্যা ০.৬৮ শতাংশ। ক্রমান্বয়ে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে- এ কথা যেমন সত্য, ঠিক তেমনি তার সাথে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাদের জীবনের স্বাভাবিক নিয়মে স্বাস্থ্যগত কারণে বিপদাপন্ন। এ বিপদাপন্নতার মূল কারণ অর্থনৈতিক, শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা, আবেগীয় সমস্যা এবং পরিবারের কাছে বার্ধক্যে ন্যূয়ে যাওয়া মানুষটিতে বোঝা মনে করা। এই বিপদাপন্নকালে অবস্থানরত একজন মানুষ; যাকে আমরা বলি ‘প্রবীণ’, তার কর্মক্ষমতা হ্রাস পেয়ে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ক্রমান্বয়ে ভঙ্গুরতার দিকে ধাবিত হয়। চিরাচরিত এ নিয়মকে আমরা কখনও রোধ করতে পারি না; তবে প্রবীণবান্ধব কার্যক্রম বিশেষ করে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তাদের পড়ন্ত বিকেল হতে পারে কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক।

প্রবীণ জনগোষ্ঠী এবং আমাদের সামাজিক বাস্তবতা
প্রবীণরা আমাদের বটবৃক্ষ, তাদের সারাজীবনের অভিজ্ঞতা আমাদের চলার পথের পাথেয়। প্রবীণ ব্যক্তিটি আমাদের পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে জীবনব্যাপী অবদান রেখেছেন। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট অংশ প্রবীণ শ্রেণি নিজের সন্তানদের কাছেও হচ্ছেন অবাঞ্ছিত। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে বয়স্ককেন্দ্রে তাদের মলিন মুখ। যদিও এই দৃশ্য সার্বজনীন নয়। কারণ এদেশের সমাজ-সংসারে প্রবীণদের অবস্থান উন্নত বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় এখনও অনেকাংশে সম্মানজনক। বিশেষত যৌথ পরিবারগুলোতে পারিবারিক পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা আয়-ব্যয়ের হিসাবসহ বহুবিধ কাজে প্রবীণদের ভূমিকা আজও গুরুত্ববহ। বিশেষ করে চাকরি কিংবা কাজ থেকে অবসর গ্রহণের সাথে সাথে দাম্পত্য সম্পর্কেও সুস্পষ্ট পরিবর্তন আসে। এ-সময় প্রবীণ ব্যক্তিটি অধিকাংশ সময় বাড়িতে অবস্থান করায় পরিবারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ তার জন্য অবশ্যসম্ভাবী হয়ে ওঠে।

জীবন বাস্তবতার তাগিদে যখন সন্তানরা যার যার মতো দূরে সরে যেতে বাধ্য হন, তখন বয়স্ক স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা আরও সুগভীর হয়। উভয় যে কোনো বিষয়ে যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণে মনযোগী হন। তবে আমাদের বিদ্যমান সমাজ-ব্যবস্থার কোনো একপর্যায়ে পরিবারের বয়স্ক ব্যক্তিটির নাতি-নাতনীরা যখন ছোট থাকে তখন তাদের সাথে খেলাধুলা ও গল্প বলার বিষয়টি তাদের জীবনে প্রভাব সৃষ্টি করে; কিন্তু নাতি কিংবা নাতনীরা কৈশোর বা যৌবনে পদার্পণ করে তখন তাদের জীবনে ঘরের প্রবীণ ব্যক্তিটির (দাদা-দাদী) অনেকাংশে প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়। এ-সময় কেন জানি প্রবীণদের সাহচর্য তাদের কাছে বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। তবে এক্ষেত্রে প্রবীণ ব্যক্তিটির আর্থ-সামাজিক অবস্থান পরিবারের সাথে সম্পর্ক কেমন হবে তা কিছু ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ করে। এ কথা রূঢ় হলেও বাস্তব। মূলত আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল প্রবীণ ব্যক্তিরাই পরিবার ও সমাজে উপেক্ষা, অবহেলা কিংবা বঞ্চনার শিকার হন তুলনামূলকভাবে বেশি। এক্ষেত্রে আর্থ-সামাজিক অবস্থানের স্তর ভেদে (উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত) প্রবীণদের ভ‚মিকাও হয় ভিন্ন ভিন্ন। সাধারণত গ্রামে বা শহরে স্বচ্ছল প্রবীণরা পারিবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন, ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে নিজেদের ব্যস্ত রাখেন। মধ্যবিত্ত সমাজে অর্থনৈতিক অস্থিরতা তাদের সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। আর্থিকভাবে সন্তানের মুখাপেক্ষী হয়ে নিজেদের ব্যস্ত থাকতে হয়। বাজার করা, নাতি-নাতনীকে স্কুলে আনা-নেওয়া ও পড়ানো ইত্যাদি তাদের অন্যতম দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। মধ্যবিত্ত প্রবীণরাও বিভিন্ন পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন, তবে নিম্নবিত্ত বা দরিদ্র প্রবীণরা যতদিন শারীরিক ক্ষমতা থাকে ততদিনই উপার্জনে নিয়োজিত থাকেন। তবে যে কোনো সামাজিক অবস্থানে একজন প্রবীণ অবস্থান করুক না কেন জীবন সায়াহ্নে এসে স্বামী বা স্ত্রীর একজনের মৃত্যু অন্যজনের কাছে সৃষ্টি হয় পরম শূন্যতার। এ যেন একাকীত্বের আরেক করুণ অধ্যায়!

বয়স্ক ভাতা হিসেবে মাসে ১০হাজার টাকা দেয়ার কথা জানিয়েছে ভারতের নোরেন্দ্র মোদী সরকার

প্রবীণ স্বাস্থ্য : সমস্যা ও উত্তরণ
বার্ধক্য কোনো রোগ নয়। এটা জীবনের চলমান একটি প্রক্রিয়া। এই চলমান প্রক্রিয়ার অমুক নিয়মে একজন প্রবীণ তার শেষ জীবনে বিশেষ করে পূর্ব হতে স্বাস্থ্য সচেতন না হলে বহুবিধ স্বাস্থ্যগত সমস্যায় পতিত হতে হয়। দেশে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, প্রবীণদের মধ্যে ৬০ শতাংশ সাধারণত ৫টি কমন স্বাস্থ্যগত সমস্যায় পতিত হন। কেবলমাত্র একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভোগে এ-রকম প্রবীণ মানুষের সংখ্যা ৯৯.৮ শতাংশ, ৫টি স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভোগে ৫৯.৭ শতাংশ এবং ১০টি স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভোগে এ-রকম প্রবীণ মানুষের সংখ্যা ২.৭ শতাংশ। এতে সহজেই অনুমেয় যে, বার্ধক্যের চিরাচরিত রূপ হচ্ছে স্বাস্থ্যগত সমস্যা। এই স্বাস্থ্যগত সমস্যার মধ্যে বাত-ব্যথা, আর্থ্রাইটিস, হাড় ও পেশির ক্ষয়রোগ, হার্ট ও রক্তনালির বিভিন্ন অসুখ, শ্বাসতন্ত্র ও হাঁপানি, আবেগজনিত অসুবিধা, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়া, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, খাবারে অরুচি, ঘুমের সমস্যা, দৃষ্টি সমস্যা, প্রস্রাবে সমস্যা, দাঁতের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা হঠাৎ পড়ে গিয়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় স্বাস্থ্যঝুঁকি।

এ সমস্যা উত্তরণে প্রয়োজন সর্বোপরি নিজ ও পরিবারের প্রবীণের প্রতি স্বাস্থ্যগতসহ সামগ্রিক সচেতনতা। এজন্য প্রয়োজন এক. পরিবারের সদস্যদের সাথে স্বাস্থ্যগত সমস্যা লাঘবে দায়িত্ববোধ জাগ্রত বোধকরণ এবং তাদের এ বিষয়ে মতামত গ্রহণ, দুই. প্রতিটি পরিবার, স্কুল ও কলেজে প্রবীণ স্বাস্থ্য সমস্যা বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্ঠি করা, তিন. প্রতিটি প্রবীণ ব্যক্তিকে নিজ স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান, চার. প্রবীণদের প্রতি দায়িত ও কর্তব্যাবলি বিষয়ে পাঠ্যবইয়ে সংযোজন; যাতে নবীনরা প্রবীণদের প্রতি মানবতাবোধ জাগ্রত করার সুযোগ পায়, পাঁচ. প্রবীণদের খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা, ছয়. প্রবীণ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিবার-সমাজ ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণ, সাত. বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রবীণদের পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ, আট. চাকরি হতে অবসরের বয়স ৬৫ বছর করার পদক্ষেপ গ্রহণ, নয়. তৃণমূল পর্যায় হতে সকল স্তরে বসবাসরত প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় অবসর ভাতা, প্রবীণ ভাতা এবং স্বাস্থ্য বীমা চালু ও বৃদ্ধিকরণ, দশ. দেশব্যাপী প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রকৃত সংখ্যা ও তাদের স্বাস্থ্যগত সমস্যাসমূহ নির্ণয় করার পদক্ষেপ গ্রহণ। আর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন, প্রতিদিন কমপক্ষে এক ঘণ্টা প্রতিটি পরিবারে প্রবীণ সদস্যটির জন্য তার সাথে আলাপচারিতার সময় বরাদ্দ রাখা। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, একজন প্রবীণ; জীবন সায়াহ্নে হয় সে আবার শিশু!

লেখক : উপাচার্য, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

 

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে সংবিধানে যা যা বদলে যাবে, নতুন যুক্ত হ…
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
আজ কুষ্টিয়ায় যাচ্ছেন জামায়াত আমির
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীদের সাংবাদিকতায় প্রশিক্ষণ দিল কনকসাস
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
আ.লীগ নেতাকে ধরতে যাওয়া পুলিশের ওপর হামলা, ৩ এসআই আহত
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
রাস্তায় মরা ইঁদুর ফেলা নিয়ে দোকানী-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ, আহত ৭
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
আজ থেকে শুরু কুবি ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬