কেন পড়বেন বি.এড অনার্স?

১৩ জুলাই ২০২৩, ০৮:৪৪ AM , আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৫, ১১:১৫ AM
গোলাম রাব্বী

গোলাম রাব্বী © টিডিসি ফটো

২০২১ ও ২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এখন পর্যন্ত যারা পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের বিষয়ে স্নাতক (সম্মান)-এ ভর্তি হতে পারেননি৷ হতাশ হওয়ার করণ নেই। এখনো আপনাদের জন্য সবচেয়ে ভালো সুযোগ হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ সমূহে বি.এড অনার্স বা শিক্ষা বিজ্ঞানে অনার্স করা৷

গত ০৯ জুলাই সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ সমূহে বি.এড অনার্সের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। প্রাথমিক আবেদন চলবে ১২ জুলাই বিকাল ৪টা থেকে ৩০জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত। ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট www.nu.ac.bd এর Prospectus ( Professional) / Important Notice অপশন থেকে জানা যাবে।

আসুন জানার চেষ্টা করি বি.এড অনার্স কি? আর কেনই বা পড়বো এই বিষয়ে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ স্নাতক সমমানের তিন ধরণের ডিগ্রি অফার করে থাকে-
ক) স্নাতক (সম্মান)
খ) স্নাতক (প্রফেশনাল)
গ) স্নাতক (পাস)

বি.এড অনার্স হলো স্নাতক (প্রফেশনাল) এর একটি কোর্স। এর একটি মাত্র বিভাগ হলো ‘শিক্ষা বিজ্ঞান’৷ আরেকটু সহজ করে বললে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইআর) যে স্নাতক ডিগ্রি অফার করে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ সমূহের শিক্ষা বিজ্ঞানে অনার্স হলো একই ডিগ্রি৷

বি.এড অনার্স কেন পড়বেন-
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্নাতক (সম্মান) কোর্স ৪ বছর মেয়াদি এবং প্রতি বছরে একবার পরীক্ষা মাধ্যমে পরবর্তী বর্ষে পদায়ন করা হলেও অনেক সময় দেখা যায় পনেরো থেকে আঠারো মাসের এক বর্ষ শেষ হয় না৷ কিন্তু বি.এড অনার্স কোর্সটি পরিচালিত হয় সেমিস্টার পদ্ধতিতে, অর্থাৎ প্রতি বছর, ছয় মাস করে দুই সেমিস্টারে মোট আট সেমিস্টারে শেষ হয় স্নাতক৷ এতে করে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হওয়ার কোন সম্ভবনা থাকে না৷

এদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স প্রফেশনাল কোর্সগুলো প্রাইভেট কলেজে পড়ানো হলেও শুধু মাত্র বি.এড অনার্স বা শিক্ষা বিজ্ঞান-ই পড়ানো হয় সরকারি প্রতিষ্ঠানে৷ এতে করে প্রাতিষ্ঠানিক কোন খরচ বা টিউশন ফি নেই৷

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগে সেশনজট থাকলেও বি.এড অনার্স সেমিস্টার পদ্ধতি ও অনুষদে একটি মাত্র বিভাগ ‘শিক্ষা বিজ্ঞান’ থাকায় সেশনজট নেই৷ করোনার মতো বড় কোন মহামারী আঘাত না হানলে সেশনজটের কোন সম্ভবনাও নেই৷

অন্য যেকোনো কলেজের শিক্ষকগণের তুলনায় সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষকগণ অনেক বেশি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত হন৷ কারণ উনার সারা বছরই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন এবং এই বিষয়েই গবেষণা করেন৷

এখানে রয়েছে পর্যাপ্ত গবেষণার সুযোগ৷ কেবল শিক্ষার সাথেই গবেষণা করা বা শিখা যায়৷ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে এই কোর্সের নাম শিক্ষা বিজ্ঞান হলেও এটি মূলত শিক্ষা বিজ্ঞান ও গবেষণা৷

বি.এড অনার্স ও চাকরি বাজার-
বি.এড অনার্স করে বিসিএস, বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ সমূহের শিক্ষক, ব্যাংক সহ সমমানের সকল ক্ষেত্রেই ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে৷ কিন্তু কিছু কিছু চাকরি ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে কেবল মাত্র বি.এড অনার্সের গ্র‍্যাজুয়েটগণের জন্যই বরাদ্দ৷ এদের বাইরে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই৷ যেমন-
ক) পিটিআই ইনস্ট্রাকটর(সাধারণ)।
খ) পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক।
গ) থানা শিক্ষা অফিসার পদে৷
ঘ) উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার৷
ঙ) উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাকটর৷
চ) জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নেপ) বিভিন্ন পদে।
ছ) এনজিও গুলোতে বি.এড (অনার্স) করা গ্র‍্যাজুয়েটদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
জ) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মানব সম্পদ উন্নয়ন বিভাগের বিভিন্ন পদে শিক্ষায় স্নাতকদের সম্ভাব্য কর্মস্থল সেটাও হতে পারে সহজেই। কারণ শিক্ষায় স্নাতকধারীদের সংখ্যা তুলনা মূলক কম হওয়ার ফলে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতাও কম৷ এছাড়াও বি.এড( অনার্স) করা গ্র‍্যাজুয়েটগণ দেশে বিদেশে সুনামের সাথে সরকারি,বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে।

সারাদেশে ১৪টি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ আছে। ময়মনসিংহে দুটি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ আছে। যার মধ্যে একটি পুরুষ আরেকটি নারীদের জন্য। এর মধ্যে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, সিলেট এর শিক্ষার মান, হোস্টেল সুবিধা ও আনুষাঙ্গিক সুবিধা অনেক ভালো।

সিলেটের সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে অনার্সে পড়ার খরচ কম। এই কলেজে থাকার জন্য হোস্টেল সুবিধা রয়েছে। দেশে একমাত্র ছাত্র রাজনীতি মুক্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানিএটি৷ শিক্ষা ও ক্যাম্পাসের পরিবেশ মনোরম৷ দেশ ও বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত অধ্যাপক দ্বারা পাঠদান, অধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, সমৃদ্ধ লাইব্রেরী ও সেমিনার সহ সকল সুবিধা৷ ভবিষ্যতে যারা শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে চান বা আদর্শ শিক্ষক হতে চান তাদের জন্য আদর্শ ঠিকানা হতে পারে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ সিলেট৷

[শিক্ষার্থী, শিক্ষা বিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, সিলেট]

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ: কোন জেলায় কতজন টিকলেন
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
জামায়াত আমিরের ৪ দিনের সফরসূচি ঘোষণা
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের জেলা ভিত্তিক ফল দেখুন এখানে
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
গণঅধিকার পরিষদ থেকে ছাড় পেল না বিএনপি
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেলেন ১২ চিকিৎসক
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
প্রাথমিকের ফল দেখুন এখানে
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬