শিক্ষা আইন-২০২৬ এর খসড়া প্রকাশ © টিডিসি সম্পাদিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে শিক্ষা আইন-২০২৬ এর খসড়া প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এর ওপর মতামত দিতে বলা হয়েছে। এ আইনে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার করার কথা বলছে সরকার।
জানা গেছে, দেশের সব ধরনের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে থাকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। আইনের খসড়ায়ও আগামীতে সরকারি এই সংস্থাটির হাতেই শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা রাখা কথা বলা হয়েছে।
শিক্ষক নির্বাচন ও নিয়োগ শীর্ষক ১৮ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ করা হইবে; সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের শিক্ষক ও জনবল নিয়োগে সরকারের প্রচলিত নিয়োগ বিধি প্রযোজ্য হইবে; বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস কম্পোজিশন এন্ড ক্যাডার রুলস ও বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস রিক্রুটমেন্ট রুলস প্রযোজ্য হইবে; বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পর্যায়ের পদে (Entry Level) শিক্ষক নিয়োগের উদ্দেশ্যে যোগ্য শিক্ষক নির্বাচন, তালিকা প্রণয়ন, নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন "বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ" কর্তৃক সম্পন্ন হইবে এবং পদভিত্তিক সকল শিক্ষক নিয়োগ এর পদ্ধতি ও যোগ্যতা আইন বা বিধি দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে"; আচরণ বিধির পরিপন্থি কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকিবার বিষয় প্রমাণিত হইলে শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ, সরকারের অনুমোদন-সাপেক্ষে, যেকোনো শিক্ষকের নিবন্ধন বাতিল করিতে পারিবে; বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ উহার নিজস্ব বিধিবিধান দ্বারা পরিচালিত হইবে।
জানা যায়, প্রায় দেড় বছর পর অন্তর্বর্তী সরকার মেয়াদের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে সম্প্রতি শিক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। একটি আধুনিক, যুগোপযোগী ও বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘শিক্ষা আইন, ২০২৬’ এর খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এই খসড়া প্রকাশ করে জানিয়েছে, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে opinion_edu_act@moedu.gov.bd এই ইমেইলে এই আইনের খসড়ার ওপর মতামত পাঠাতে হবে।
প্রস্তাবিত এই আইনকে ১১টি অধ্যায় এবং ৫৫টি ধারায় বিন্যস্ত করা হয়েছে। জনগণের মতামতের পর তা চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনে বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার জানিয়েছেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আইনি কাঠামোর আওতায় এনে শিক্ষাকে নাগরিকের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।