হঠাৎ দলবল নিয়ে অধ্যক্ষের দপ্তরে এমপি ওমর ফারুক © সংগৃহীত
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ওমর ফারুক চৌধুরী হঠাৎ দলবল নিয়ে লাঞ্ছিত অধ্যক্ষ মো. সেলিম রেজার কলেজে গিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। সেখানে গিয়ে নিজের নিউজ পোর্টালে অধ্যক্ষের লাইভ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন এমপির টপ নিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কমের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সিরাজি ফেরদৌস ইমন। রোববার দুুপুরে এ সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
জানা গেছে, জেলার গোদাগাড়ী রাজাবাড়ী ডিগ্রি কলেজে গিয়ে এমপি অধ্যক্ষের দফতরে প্রায় ৩০ মিনিট বসে ছিলেন এমপি ওমর ফারুক। এ সময় কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদুল হক ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেলসহ আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন দুপুর ১টার দিকে টপ নিউজ পোর্টালে সংবাদটি প্রচারের চার ঘণ্টা পর এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী তার ফেসবুক পেজে লাইভ সাক্ষাৎক্ষারটি শেয়ার করেন।
আরও পড়ুন: ‘কিল-ঘুষি-লাথির পর হকিস্টিক দিয়ে মারতে থাকে’, সেই অধ্যক্ষের ফোনালাপ ফাঁস
লাইভ সাক্ষাৎকারে অধ্যক্ষ বলেন, এমপি সাহেব এবং আমাকে নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই হচ্ছে। তানোর- গোদাগাড়ীর উন্নয়নের জোয়াড় দেখে হিংসা করার কারণেই এসব কাজ করা হচ্ছে। অধ্যক্ষকে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি গত ১৪ তারিখের সংবাদ সম্মেলনে বলেছি আজও বলছি, ওই দিন এমপির চেম্বারে আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে টপ নিউজের সাংবাদিক সিরাজি ফেরদৌস ইমনের বলেন, ‘এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর অনুরোধ বা নির্দেশে সেই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়নি। এমনকি সেখানে গিয়ে তাকে বলতে বাধ্যও করা হয়নি। একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে দেশের চাঞ্চল্যকর সংবাদের সত্য তথ্য পাঠকদের তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই অধ্যক্ষের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে।’
এদিকে ঘটনার পর থেকেই লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন অধ্যক্ষ সেলিম রেজা। তাকে মারধরের খবরে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় উঠলে ১৪ জুলাই অধ্যক্ষকে নিয়ে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ওমর ফারুক চৌধুরী।
ওই সময় অধ্যক্ষ দাবি করেন, এমপি তাকে মারধর করেননি। অপরদিকে এমপি ওমর ফারুকের দাবি, তার উন্নয়নে ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে (এমপিকে) নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।
তবে এমপির করা মন্তব্যের প্রতিবাদে গত শনিবার সংবাদ সম্মেলন করেন জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। আসাদ সাংবাদিকদের অধ্যক্ষ সেলিম রেজা ও আওয়ামী লীগের এক নেতার কথোপকথনের একটি অডিও দেন। ওই অডিওতে শোনা যায়, নিজেকে অধ্যক্ষ দাবি করা ব্যক্তি এমপির হাতে মারধর শিকার হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করছেন।