মামুনুল হক © ফাইল ফটো
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার হুমকি দেয়ায় হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মামুনুল হকসহ আরও ৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়েছে। মামলার প্রতিক্রিয়ায় মামুনুল হক বলেছেন, ‘এ মামলার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশবিরোধী একটি চক্রান্তের স্পষ্ট আভাস পাচ্ছি।’
আজ সোমবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক লাইভে মামুনুল হক বলেন, এ মামলার যে প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়েছে এর মাধ্যমে আমরা উদ্বিগ্ন। শুধু আমাকে নিয়ে নয়, মামলার বিবাদী অন্যদেরকে নিয়েও নয়; আমি উদ্বিগ্ন আমার প্রিয় ভূমি বাংলাদেশ এবং এর স্বার্থ নিয়ে।
মামুনুল বলেন, এ বিষয়ে আমার দ্যার্থহীন বক্তব্য হলো, এ মামলার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশবিরোধী একটি ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্তের স্পষ্ট আভাস পাচ্ছি। এ মামলায় আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, আমি মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে তার সম্মানহানিকর মন্তব্য করেছি। অন্যবাদী সৈয়দ ফয়জুল করীম সাহেব সম্পর্কেও একই ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে।
পড়ুন: এ মামলা নাজাতের উছিলা হবে: বাবুনগরী
মামলার অন্যবাদী আল্লামা বাবুনগরী সম্পর্কে মামুনুল বলেন, এ মামলায় সবচেয়ে ভয়ঙ্কর যে জায়গাটি আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে সেটি হলো, হেফাজতের আমীর আল্লামা বাবুনগরীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি করা হয়েছে সেটি নিয়ে। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি মদীনার সনদের মাধ্যমে বাংলাদেশ চলবে বলে মন্তব্য করেছেন। এখানে বাংলাদেশর সংবিধানের বিরুদ্ধাচারণ আখ্যায়িত করে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মামুনুল বলেন, তবে তারা এখন তার এ বক্তব্যকে কেন রাষ্ট্রদ্রোহ হিসাবে চিন্হিত করলো সেটি আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। এর আগেও তো অনেকে মদীনার সনদের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন।
ভাস্কর্যে ভাঙচুরের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে মামুনুল বলেন, কুষ্টিয়ায় রাতের অন্ধকারে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার মাধ্যমে একটি অনভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক ও অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা আমাদের বক্তব্যে কোথাও আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার কথা বলিনি। এটা দুঃখজনক ঘটনা।
তিনি বলেন, অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় আমরা বলছি, আমার কোনও বক্তব্যের মাধ্যমে অথবা আমার কোনও কথায় এভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়ার কোনও কথা আমি কস্মিনকালেও বলিনি। দেশের আইনশৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল কোনও ব্যক্তি এমনটা কখনও করতে পারেন না।