© সংগৃহীত
দিনাজপুরের হিলির আলিহাট ইউনিয়নের কাশিয়াডাঙ্গা ও বাশমুড়ি গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে তুলশিগঙ্গা নদী। ব্রিজ না থাকায় দুই গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে পানি-কাদা ভেঙে কিংবা অনেক দূর দিয়ে ঘুরে বিপরীত সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করতে হতো। তবে তাদের কষ্ট লাঘব করে দিয়েছেন করোনায় ঘরবন্দী এই এলাকার শিক্ষার্থীরা।
স্বেচ্ছাশ্রম ও গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় গ্রামবাসীর জন্য ২৫০ ফুট লম্বা একটি কাঠের সেতু তৈরি করে দিয়েছেন তারা। এর ফলে কয়েক গ্রামের মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছেন। তবে স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর।
ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোক্তা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাসির উদ্দিন, নাসির উল্লাহ ও চীনে অধ্যয়নরত আনাছ আহমেদ। তারা জানান, করোনার কারণে প্রায় ৬ মাসে ধরে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। ফলে এই গ্রামের ছেলেরা যারা বাইরে পড়ালেখা করতাম সবাই ছুটি পেয়ে বাড়িতে বসে ছিলাম। আমরা দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছিলাম গ্রামের তুলশিগঙ্গা নদীর ওপরে ব্রিজ নির্মাণ হবে, হচ্ছে। কিন্তু তারপরও হয় না। এ অবস্থায় এলাকাবাসীর উপকারের কথা চিন্তা করে আমরা এখানে ব্রিজটি নির্মাণের উদ্যোগ নিই।
তারা আরও জানান, বিত্তবান থেকে শুরু করে গ্রামের সবাই আমাদের অর্থ দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে, গাছ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। ব্রিজটি নির্মাণ করতে ২৫০টির মতো গাছের গুঁড়ি লেগেছে। এর সঙ্গে কাঠ দিয়ে দীর্ঘ ৪৫ দিন ধরে কাজ করে ব্রিজটি নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি। তবে এই ব্রিজটি যেহেতু ক্ষণস্থায়ী তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি এখানে যেন একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা হয়।
এ বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলার চেয়ারম্যান হারুন উর রশীদ হারুন বলেন, কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামে যে নদী রয়েছে সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিজ নেই। এ কারণে মানুষ অনেক কষ্ট করে যাতায়াত করতো। করোনার কারণে স্কুল, কলেজ বন্ধ থাকায় এলাকার ছেলেরা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতায় কাঠের সেতুটি নির্মাণ করেছেন। এটি আসলেই একটি সুন্দর উদ্যোগ। ব্রিজ করতে যারা এগিয়ে এসেছেন উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি এমপি মহোদয় আমাদের কথা দিয়েছেন, অচিরেই এলজিইডির মাধ্যমে সেখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।