নজরুল ইসলামের সাথে স্বপ্না ও তার দাদি © সংগৃহীত
বাবা-মা হারা স্বপ্না আক্তারের (৯) দায়িত্ব নিলেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম। স্বপ্নার বাবার নাম আমির হোসেন। মায়ের নাম আসমা বেগম। স্বপ্নার বয়স যখন ৯ মাস তখন স্ত্রী-সন্তানকে ফেলে অন্যত্র চলে যায় আমির হোসেন। তার পর থেকে স্ত্রী-সন্তানের খোঁজ-খবর নেয়নি। আর স্বপ্নার বয়স যখন তিন বছর তখন স্বপ্নাকে তার দাদির কাছে রেখে মা আসমা বেগমও অন্যত্র চলে যায়।
স্বপ্নার ভবিষ্যত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়ে নিজেদের সুখের ঠিকানায় পাড়ি জমায় স্বপ্নার বাবা-মা। আর মা-বাবা হারা মেয়েকে মানুষের মতো মানুষ করতে দাদি নুরজাহান বেগম (৬৮) নামে বৃদ্ধা পড়েন বিপাকে। বাড়িতে বাড়িতে কাজ করে এবং রাস্তায় লাকড়ি টোকাইয়া স্বপ্নাকে মানুষ করার যুদ্ধে নামে। স্বপ্নাকে স্কুলেও ভর্তি করায়। স্বপ্নাকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়ায় করায়। কিন্তু অর্থের অভাবে আবার স্বপ্নার লেখাপড়া বন্ধ করে দেয়। এমন একটি মর্মাহত ঘটনা ঘটে নারায়ণগঞ্জ আড়াইহাজার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের কল্যানন্দী এলাকায়।
রোববার (১২ জানুয়ারি) নুর জাহান তার নাতনি স্বপ্নাকে নিয়ে লাকড়ি কুড়াতে যান আড়াইহাজার থানার মাঠে। সেখানে দাদী-নাতনিকে লাকড়ি কুড়াতে দেখেন ওসি নজরুল। এ সময় নুর জাহানের কাছ থেকে স্বপ্নার জীবন কাহিনী শুনে তার দায়িত্ব নেন থানার ওসি নজরুল।
এদিকে প্রতিদিনের ন্যায় রবিবার (১২ জানুয়ারি) নুরজাহান বেগম তার নাতনিকে নিয়ে লাকড়ি কুড়াতে যায় আড়াইহাজার থানার মাঠে। সেখানে দাদি-নাতনিকে দেখতে পায় থানার ওসি নজরুল ইসলাম। তখন দাদি-নাতনি স্বপ্নার জীবন কাহিনী শুনে স্বপ্নার লেখাপড়ার দায়িত্ব নেন থানার ওসি নজরুল ইসলাম। তিনি স্বপ্নাকে কাজ না করিয়ে স্কুলে পাঠানোর জন্য বলা হয়।
আড়াইহাজার থানার ওসি জানান, আমার চোখের সামনে অর্থের অভাবে এক ফুটফুটে কন্যার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে তা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারি না। স্বপ্নাকে মানুষের মতো হতে হলে তাকে লেখাপড়া করতে হবে। অর্থের অভাবে কিছুতেই স্বপ্নার জীবন ঝড়ে যেতে পারে না। স্বপ্নার লেখাপড়ার সকল খরচ আমি নিজে বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এছাড়াও শিশুটির দায়িত্ব আমি নিয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে যা লাগে সব কিনে দিয়েছি।
তিনি আরো জানান, শিশুটি যখন তার দাদির সঙ্গে লাকড়ি কুড়াতে থানায় আসে তখন তাকে দেখে আমার মায়া হয়েছে। কেন ছোট একটি মেয়ে কাজ করবে জানতে গিয়ে মর্মাহত কাহিনী জানতে পারলাম। আর বাবা-মা হারা মেয়ের লেখাপড়াসহ তার দায়িত্ব আমি নিয়েছি। অর্থের অভাবে শিশুটির মতো কারো জীবন যেন ঝড়ে না পড়ে সেদিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আসুন আমরা সবাই স্বপ্নার মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই।