স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: সেই রাজুকে রেখেই খালি হাতে কুমিল্লায় ফিরল ডিবি

১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৮ AM
আটক হওয়া রাজু

আটক হওয়া রাজু © সংগৃহীত

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাজমিন (১৫) ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন কথিত প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন রাজুকে কক্সবাজার সদর থানায় রেখেই কুমিল্লায় ফিরেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে কক্সবাজারে গিয়ে সদর থানা পুলিশের কাছ থেকে রাজুকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল দলটি। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে কুমিল্লায় নেওয়া হয়নি। সন্ধ্যায় বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া বিভাগের মুখপাত্র মো. লুৎফর রহমান।

কেন রাজুকে না নিয়েই ফিরেছে ডিবি—এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে রাজুর সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাঁকে কুমিল্লায় আনা হয়নি। বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেও ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তবে ওই ছাত্রীর সঙ্গে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা রাজু স্বীকার করেছেন। কক্সবাজার থেকে ফিরে আসার পরও তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার হোটেল-মোটেল জোনসংলগ্ন চন্দ্রিমা উদ্যান এলাকা থেকে রাজুকে আটক করে পুলিশ। ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে ওই ছাত্রীকে বাড়ি ছাড়তে প্ররোচিত করা এবং হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে তাঁর কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তাঁকে আটক করা হয়েছিল।

পুলিশ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজু কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন। ফেসবুকে তাজমিনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রাজুর ডাকে সাড়া দিয়েই কিশোরী বাড়ি ছেড়ে কক্সবাজারে যায়। সেখানে একটি হোটেলে তাঁরা ‘স্বামী-স্ত্রী’ পরিচয়ে অবস্থান করেন।

গত বুধবার কক্সবাজার থেকে বাসে করে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয় তাজমিন। ওই রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার হোটেল নূরজাহানের সামনে নেমে শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পথে অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়া তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ঘটনার পরদিন সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। তবে তাজমিনকে বাড়ি ছাড়তে প্ররোচিত করা, তাঁকে কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়ার পেছনে রাজুর ভূমিকা এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর অন্য কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা জানতে রোববার রাতে রাজুকে আটক করা হয়।

সোমবার সকালে রাজুকে গ্রহণ করতে কক্সবাজারে যায় কুমিল্লা ডিবির একটি দল। এর নেতৃত্বে ছিলেন উপপরিদর্শক পবিত্র সরকার। এ সময় রাজুকে কক্সবাজার সদর থানা থেকে বের করে ডিবি পুলিশের একটি গাড়িতে তোলার দৃশ্য দেখা যায়। তাঁকে গ্রহণের পর ডিবি দলের সদস্যদের ফটোসেশন করতেও দেখা যায়।

তবে সন্ধ্যায় কুমিল্লা ডিবি জানায়, রাজুকে কুমিল্লায় আনা হয়নি। তাঁকে কক্সবাজার সদর থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে রেখেই ফিরে এসেছে দলটি।

এদিকে, ডিবির উপপরিদর্শক পবিত্র সরকারের স্বাক্ষর করা রাজুকে গ্রহণসংক্রান্ত একটি চিঠি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লেখা চিঠিতে মামলার নম্বর ৪, তারিখ ৮ অক্টোবর ২০২৬, জি আর নম্বর ১১৮ এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩০২/৩০২/৩৪ ধারার উল্লেখ রয়েছে।

চিঠিতে পবিত্র সরকার নিজেকে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করে লেখেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। তদন্তের সময় ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে জানা যায়, ঘটনার আনুমানিক দুই দিন আগে তাজমিন কক্সবাজার সদর থানা এলাকায় অবস্থান করেছিল। সেখানে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের হাতে আটক রিয়াজ উদ্দিন রাজুর সঙ্গে তার দেখা-সাক্ষাৎ হয়। এ ছাড়া ঘটনার আগে ভুক্তভোগীর সঙ্গে রাজুর একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া যায়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, তাজমিনের সঙ্গে রাজুর পূর্বপরিচয় ও সম্পর্কের ধরন, ঘটনার আগে তাঁদের যোগাযোগের কারণ এবং মামলার ঘটনা সম্পর্কে রাজুর কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য রয়েছে কি না, তা উদ্‌ঘাটন করা প্রয়োজন। এ জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার।

চিঠির শেষাংশে বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রাজুকে গ্রেপ্তারের জন্য হস্তান্তরসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

সোমবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘স্কুলছাত্রী হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা না থাকায় রাজুকে গ্রহণ করেনি কুমিল্লা ডিবি পুলিশ। তাকে কক্সবাজার সদর থানায় রেখে কুমিল্লায় ফিরে এসেছে ডিবি।’

সকালে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের কাছ থেকে রাজুকে গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে একটি চিঠি পাওয়ার কথা জানানো হলে তিনি বলেন, ‘আমরা আসামিকে গ্রহণ করিনি। ওই থানায় আছে আসামি।’

অন্যদিকে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, ‘আমাকে দুপুরে কক্সবাজার সদর থানার ওসি প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিলেন আসামিকে নিয়ে গেছে কুমিল্লা ডিবি। পরে শুনলাম তারা নেয়নি। তারা আসামিকে সদর থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে রেখে চলে গেছে।’

অহিদুর রহমান আরও বলেন, কুমিল্লা ডিবি জানিয়েছে, ঘটনায় রাজুর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাকে কুমিল্লায় না নিয়ে কক্সবাজার সদর থানায় রেখে আসা হয়েছে। পরে কক্সবাজার জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে রাজুকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়। বিকেলে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাজুকে ৬৪ ধারায় আদালতে পাঠিয়ে কারাগারে রাখার কারণ জানতে চাইলে অহিদুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু একটি ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে; ওই ছাত্রী প্রথমে রাজুর সঙ্গে কক্সবাজারে হোটেলে উঠেছিল, বাড়ি ফেরার পথে ঘটনাটি ঘটেছে সেহেতু ঘটনায় অবশ্যই রাজুর কোনও না কোনও ভাবে সংশ্লিষ্টতা আছে। সেজন্য আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে অবশ্যই আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি প্রথম পর্বের পরীক্ষার সময়সূচি …
  • ১৩ অক্টোবর ২০২৬
মঙ্গলবার টানা ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
  • ১৩ অক্টোবর ২০২৬
স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: সেই রাজুকে রেখেই খালি হাতে কুমিল্…
  • ১৩ অক্টোবর ২০২৬
দেশজুড়ে ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন
  • ১৩ অক্টোবর ২০২৬
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো মডেল জাতিসংঘ সম্মেলন
  • ১৩ অক্টোবর ২০২৬
কবি নজরুল কলেজে বাংলা বিভাগের উদ্যোগে ‘শরৎ উৎসব ও নবীন বরণ’…
  • ১৩ অক্টোবর ২০২৬