বাবা হারানাে ইকনের দায়িত্ব নিলেন শিক্ষামন্ত্রী

২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪ AM
বাবা হারানো ইকন

বাবা হারানো ইকন © সংগৃহীত

বিকেলে বাবার দাফন, রাতে এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন, আর সকালে এইচএসসি পরীক্ষার হলে হাজির। জীবিকার তাগিদে এমন কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন বাগেরহাটের ইকন। এবার তার পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।

বাবার মৃত্যুর শোক সামলে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে কর্মস্থলে ফিরতে হয় তাকে। সারারাত দায়িত্ব পালনের পর বুধবার সকালে তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

বুধবার (২২ জুলাই) রাতে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ফারহান ইশতিয়াক ফোনে ইকনকে শিক্ষামন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

ইকন সদ্য প্রয়াত ইসরাফিল দাড়িয়ার (৪৫) ছোট ছেলে। তিনি বাগেরহাট খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের খরচ চালাতে শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি টাকা উত্তোলন বুথে রাতের শিফটে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কাজ করেন।

এ বিষয়ে ফারহান ইশতিয়াক বলেন, চলমান এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে যেন ইকনকে চাকরি করতে না হয়, সে জন্য শিক্ষামন্ত্রী আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তার উচ্চশিক্ষাসহ ভবিষ্যৎ পড়ালেখার বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইকনের সংগ্রামী জীবনের খবর প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

পরিবারের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়েন ইকন দাড়িয়ার বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া (৪৫)। সকাল টায় তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে থাকা দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাদ জোহর জানাজা শেষে মরদেহ গোপালগঞ্জে ইসরাফিল দাড়িয়ার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তার মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়।

ইসরাফিল দাড়িয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। বড় ছেলে ইমন ও একসময় বাবার সঙ্গে কাজ করতেন। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা আহত হওয়ার পর তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর থেকে পরিবারের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠেন ছোট ছেলে ইকন দাড়িয়া। ইকনের দাদার বাড়ি গোপালগঞ্জে। বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডে গাড়িচালকের চাকরির সুবাদে পরিবারটি বাগেরহাটে বসবাস শুরু করে। অবসরের পর দাদা গোপালগঞ্জে ফিরে গেলেও ইকনের বাবা বাগেরহাটেই থেকে যান। বর্তমানে মা ও ভাইকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছে ইকনের পরিবার।

এ বিষয়ে ইকন বলেন, শিক্ষা মন্ত্রীর (পিএ) রাতে আমাকে কল করেছিল। তিনি বলেছেন আমাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করবে এবং পরবর্তীতে আমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেছেন, তুমি কি সামনের দিনগুলোতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাও কিনা? আমি বলেছি আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই।

উচ্চশিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে আধুনিক রিসোর্স বুক ও ডিজিটাল কন…
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমি মেলবন্ধনে বেকারত্ব কমবে: ইউজিসি সদস্য ম…
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের চাকরিতে বৈষম্য ও হয়রানি বন্ধের দাবি
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
ডাকসুর আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী…
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
সংসদে বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের অনুরোধ, রাষ্ট্রপতিকে বিরোধীদলী…
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
আবাসিক হোটেলে ঝুলছিল পুলিশ সদস্যের মরদেহ, নেপথ্যে পারিবারিক…
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬