ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে রাজধানীর ডেঙ্গু জ্বর। জুলাইয়ের প্রথম তিন দিনে আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ২৫৪ জন। যদিও বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা আরো কয়েকগুণ। যার বাস্তব চিত্র প্রতিনিয়তই চিকিৎসকের চেম্বার, হাসপাতাল ও ক্লিনিকে লক্ষ্য করা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দু-এক দিনের উচ্চমাত্রার জ্বর, সঙ্গে কোমর ব্যথা ও চোখ বা মাথা ব্যথা নিয়ে তারা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন। চিকিৎকরা বলছেন, এখনই নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে ডেঙ্গু মহামারি রূপ নিতে পারে।
সম্প্রতি এই জ্বরে আক্রান্ত স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ডা. নিগার নাহিদ দিপুর মৃত্যুর খবরটি গণমাধ্যমে আলোচিত হয়। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ৩২ ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন ডা. নিগার। সর্বশেষ তিনি কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
দিপুর সেই মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি তথ্য নাড়া দিল সবাইকে। ছবিটির ওই ফুটফুটে শিশু প্রত্যয়ও চলে গেছে একই ভাবে, একই রোগে আক্রান্ত হয়ে।
বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন সহকারী কর কমিশনার মিঠু মীর। বলেছেন, ‘সপ্তাহ খানেক আগে ওর সাথে লিফটে দেখা। মায়ের সাথে অফিসে এসেছিল। বয়স ৬/৭ হবে। প্রাণবন্ত একটি ফুটফুটে শিশু, ছুটোছুটি করছিল। দু' চার মিনিট কথা বললাম। কিন্তু পরে যা শুনলাম, মানতে খুব কষ্ট হলো। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিউন। ও আমাদের শ্রদ্ধেয় উপ কর কমিশনার স্যারের ছেলে। নাম প্রত্যয়।’
মিঠু লিখেছেন, ‘‘প্রতি বছর অনেকেই এই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এর কি দায় নেই সংশ্লিষ্টদের? বসবাসযোগ্য নগরীর তালিকায় ঢাকার অবস্থান কত? দেশ এগুচ্ছে, ঢাকা কি এগুচ্ছে? নাগরিক সুবিধা সে তুলনায় কতটুকু বাড়ছে? প্রত্যয়ের মতো আর কত মায়ের বুকের ধন চলে গেলে টনক নড়বে? ক্ষমা করে দিও আমাদের, প্রত্যয়। ওপারে ভালো থেকো।’’
বাসায় প্রত্যয়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পেতে হলে এডিস মশা নিধনের বিকল্প নেই। যে দায়িত্ব রাজধানীতে সিটি কর্পোরেশনকেই নিতে হবে। প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ গণমাধ্যমে বলেন, এডিস মশা নিধন করতে হবে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। যাদের একাধিকবার ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে তাদের ঝুঁকি বেশি। জ্বর আসলে শুধু প্যারাসিটামল ওষুধ খেতে হবে। ডেঙ্গুর জীবাণু এডিস মশা দ্বারা বাহিত হয়। মশাটি সাধারণত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্থির এবং স্বল্প গভীর জলাধারে বংশবিস্তার করে।
এছাড়া বাসাবাড়ি ও আঙিনায় জমে থাকা পরিষ্কার পানি, যেমন ফুলের টব, এয়ারকুলার বা ফ্রিজের নিচে জমে থাকা পানি, ফেলে দেওয়া ডাব বা নারিকেলের খোসা, টিনের কনটেইনার, গাড়ির টায়ার ইত্যাদির মধ্যে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। মশাটি শুধু দিনের বেলায় গোধূলিলগ্নেই কামড়ে থাকে। এটি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। একমাত্র সংক্রমিত মশা কামড়ালেই রোগটি হয়।