জাটকা উৎপাদন বাড়াতে বিজ্ঞানীদের গবেষণায় সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪১ PM
কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ

কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ © টিডিসি ফটো

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, জাটকা সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিজ্ঞানীদের আরও সক্রিয়ভাবে গবেষণায় যুক্ত হতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, কীভাবে জাটকার উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া যায় এবং ইলিশ মাছের ডিমের সঠিক পরিস্ফুটন ঘটিয়ে জাটকার সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব-এসব বিষয় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা জরুরি।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে ‘ইলিশ গবেষণা: অর্জিত সাফল্য, জাটকা সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উদযাপিত জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৬ (৭–১৩ এপ্রিল) পালিত হচ্ছে। 

মন্ত্রী বলেন, ইলিশের স্বাদ ও গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে উৎপাদন আরও বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করতে বিজ্ঞানীদের গবেষণা করতে হবে। এমন কোনো পদ্ধতি উদ্ভাবন করা প্রয়োজন, যাতে ইলিশের স্বাভাবিক স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য নষ্ট না হয় কিন্তু উৎপাদন বাড়ে এবং দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়।

জেলেদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, জাল ও নদী আপনাদের-তাই জাটকা ধরা বন্ধ করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আপনারাই সরকারকে কার্যকর প্রস্তাবনা দিতে পারেন। 

তিনি বলেন, ইলিশ না পাওয়ার সমস্যা এখন পুরো দেশের, তাই উৎপাদন বাড়িয়ে এই মূল্যবান মাছকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের একটি ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য এবং বিশ্বে মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৭০–৮০ শতাংশই বাংলাদেশে হয়ে থাকে। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

টুকু বলেন, জাটকা ধরা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা গেলে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে এবং বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

প্রতিমন্ত্রী টুকু আরো বলেন, গত দুই মাসে ৪০ হাজার জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে। এই সহায়তার আওতায় প্রতি পরিবারকে ৮০ কেজি চাল, ১২ কেজি আটা, ১০ লিটার তেল, ৪ কেজি চিনি, ৮ কেজি ডাল এবং ১৬ কেজি আলু দেওয়া হচ্ছে, যার মোট মূল্য প্রায় ছয় হাজার টাকা। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে জেলেরা এত পরিমাণ সহায়তা পায়নি।

 তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও জেলেদের সহযোগিতা করে যাবেন। তাই ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের যেন মাছ ধরা থেকে বিরত থাকেন এবং আইন মেনে চলেন-সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। এসময় আরও বক্তব্য করেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. কাজী আহসান হাবীব, মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. মোতালেব হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম। এসময় মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বিএফআরআই, মৎস্য অধিদপ্তর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলে, মৎস্যচাষীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: তদন্তে ৩০টির বেশি সুপারিশ, বা…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
আন্দোলনের সময় গুপ্তদের অনেক খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি: তারেক রহ…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করলেই সাধারণ মানুষও চিনে তারা কারা: …
  • ২১ জুলাই ২০২৬
গোপালগঞ্জে আবাসিক হোটেল থেকে পাঁচ নারীসহ আটক ১১
  • ২০ জুলাই ২০২৬
আন্দোলন শরিক নেতাদের কাছে দুঃখপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর
  • ২০ জুলাই ২০২৬
অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে তিতুমীর কলেজে শিক্ষার্থীদের বিক্…
  • ২০ জুলাই ২০২৬