রমেশ চন্দ্র সেন © সংগৃহীত
কারাগারে বন্দি অবস্থায় মারা গেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁও-১ (সদর উপজেলা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ২৯ মিনিটে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জানা যায়, সকালেও স্বাভাবিক ছিলেন ৮৯ বছর বয়সী রমেশ চন্দ্র সেন। কিন্তু এরপর হঠাৎ করেই আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, ‘আজ সকালে বন্দি রমেশ চন্দ্র সেন ঘুম থেকে উঠে দৈনন্দিক কাজ শেষে নাস্তাও খেয়েছিলেন। এরপরে তিনি ওয়ার্ডের বাথরুমে যান। একপর্যায়ে সেখানে গোসলের উদ্যোগ নিলে বাথরুমে মাথা ঘুরে পরে যান। সঙ্গে সঙ্গে তাকে কারাগারের লোকজন দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেল সেখানে মারা যান তিনি।’
দিনাজপুর কারাগারের জেলার ফরহাদ সরকার বলেন, ‘গত ১৭ আগস্ট রমেশ চন্দ্র সেনকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে আনা হয়। এখানে তিনি ডিভিশনপ্রাপ্ত কয়েদি ছিলেন। এখানে আনার আগে থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। শনিবার সকাল ৯টায় হঠাৎ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁর মৃত্যুর খবর পাই।’
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মাসুদ রানা বলেন, ‘সকালে অসুস্থ অবস্থায় রমেশ চন্দ্র সেনকে হাসপাতালে আনা হয়। সে সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক অনুপম পাল সকাল ৯টা ২৯ মিনিটে তাঁকে ব্রট ডেথ ঘোষণা করেন।’
রমেশ চন্দ্র সেন ১৯৪০ সালের ৩০ এপ্রিল ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নের কশালগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ক্ষিতীন্দ্র মোহন সেন এবং মাতার নাম বালাশ্বরী সেন। তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজে পড়ালেখা করেন। পাঁচবারের এমপি ছিলেন তিনি। সর্বশেষ ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
জানা যায়, ছাত্র জীবন থেকেই সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। ৬০’র দশকে রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার সময় থেকেই তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৬৯ সালে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ১৯৯০ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ২০০৫ সাল থেকে অদ্যাবধি ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সরকারের কেবিনেট সদস্য এবং একই সাথে তিনি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) এর নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি ২০১৩ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত বাংলাদেশের খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৯৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি উপনির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। উপ-নির্বাচনটি হয়েছিল উক্ত আসনের সাংসদ খাদেমুল ইসলাম ১৭ ডিসেম্বর ১৯৯৬ সালে মৃত্যুবরণ করার কারণে। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বার, ২০১৪ সালে ৩য় বার, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ৪র্থ বার এবং ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হবার মাধ্যমে ৫ম বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে অসহযোগ আন্দোলনের মুখে তৎকালীন শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারত পালিয়ে গেলে পরদিন ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙ্গে দিলে তিনি সংসদ সদস্য পদ হারান।
সর্বশেষ রমেশ চন্দ্র সেন কার্যক্রম–নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি পানিসম্পদমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
দিনাজপুর জেলা কারাগারের তথ্যানুসারে, গত ১৬ আগস্ট ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশ তাকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে পাঠায়। সেখান থেকে ১৭ আগস্ট তাকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি হত্যাসহ তিনটি মামলায় কারাগারে ছিলেন।