জানালার গ্রিল কাটা ও ঘরের কাপড় এলোমেলো © টিডিসি
চট্টগ্রামের হালিশহর থানার মহুরিপাড়ায় জানালার গ্রিল কেটে ডাকাতি ও এক নারী খুনের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ছয়তলা একটি আবাসিক ভবনের নিচতলায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম লুৎফুন্নেছা (৬৫)। তিনি সন্দীপের মুছাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। কয়েক দিন আগে মেয়ের কাছে চিকিৎসার জন্য তিনি শহরে এসেছিলেন।
স্বজনরা জানান, রাত তিনটার দিকে দুই যুবক জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। তাদের হাতে ছিল ছুরি ও দেশি অস্ত্র। ঘরে ঢুকেই তারা প্রবাসী রবিউল ইসলামের স্ত্রী খাদিজা বেগম ও তার দুই সন্তানকে বেঁধে ফেলে। এ সময় লুৎফুন্নেছা ডাক চিৎকার করলে ডাকাতরা তাকে ছুরিকাঘাত করে ও মুখে কাপড় চেপে ধরে। শ্বাসরোধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ডাকাতরা ঘর থেকে প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও চারটি মোবাইল ফোন লুট করে নেয়। শুধু তাই নয়, তারা একই ভবনের আরেকটি ফ্ল্যাটে প্রবেশের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
নিহতের নাতি মো. রিয়াদ হোসেন (৩০) বলেন, ‘ভোর ৪টার সময় আমার চাচির চিৎকারে ঘুম ভাঙে। চোখ খোলার সাথে সাথেই দেখি একজন মুখ চেপে ধরে আরেকজন হাত-পা বেঁধে ফেলছে। অন্য রুমে দাদীকেও একইভাবে বেঁধে ফেলে। তিনি তো কয়েকদিন আগেই গ্রাম থেকে হার্টের চিকিৎসার জন্য এখানে এসেছিলেন। কিছু সময় পর ডাকাতরা আমাদের মুখে কাপড় গুঁজে দেয়। যাওয়ার সময় নগদ টাকা, অলংকার আর মোবাইল নিয়ে যায়। ফজরের নামাজের সময় আমার চাচি হাতের বাঁধন খুলে দাদির কাছে গেলে দেখেন তিনি মারা গেছেন।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় রাতের বেলা পুলিশের টহল থাকলেও সেগুলো কার্যকর নয়। ডাকাতরা এতবড় একটি ঘটনা ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে পারল, এটা তাদের নিরাপত্তাহীনতায় ফেলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমরা ভোরে খবর পেয়ে ছুটে আসি। বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। ডাকাতরা যদি এক ফ্ল্যাট থেকে অন্য ফ্ল্যাটে ঢোকার চেষ্টা করে, তাহলে আমাদের সবার নিরাপত্তা কোথায়? এখন তো রাতে ঘুমানোর সাহসও পাচ্ছি না।’
আরেক বাসিন্দা আব্বাস মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এলাকায় বারবার চুরি-ডাকাতি হচ্ছে। যতক্ষণ না চোর-ডাকাতেরা ধরা পড়বে, ততক্ষণ আমরা আতঙ্কে থাকব।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত সংগ্রহ করেছে। নিহত লুৎফুন্নেছার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত প্রক্রিয়াধীন।’