মন্টু হাওলাদার © সংগৃহীত
পিরোজপুরের নাজিরপুরে মন্টু হাওলাদার (৪৫) নামে এক বিএনপি নেতার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই অডিও রেকর্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘ডিসি, থানা, ফাঁড়ি সব বুকিং করে ফেলাইছি। আমাগো কথা ছাড়া পুলিশ আইলে জায়গার ওপর বাইন্দা থুমু।’
জানা গেছে, মন্টু হাওলাদার নাজিরপুর উপজেলার দেউলবাড়ী দোবড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর পদ্মডুবী ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি পদ্মডুবী এলাকার মৃত আনোয়ার হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি অনলাইন জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতা মন্টু হাওলাদার গত ২১ জানুয়ারি হাইউম ও তার ভাই কাইউম নামের দুই যুবককে পিটিয়ে জখম করে। বিষয়টি নিয়ে হাইউম নাজিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই বিএনপি নেতা পুলিশকে উদ্দেশ করে মোবাইল ফোনের অপরপ্রান্তে তার এক সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতাকে বলেন, ‘এ জগতে যারা আছে তাদের মধ্যে আমরাই ভালো মানুষ। এর থেকে ভালো মানুষ এহন আর নাই। আমাগো ধারেই আচার-বিচার সব আসে, আর আইবেও। আমরা পুলিশকে আইতে কইলে আইবে, না কইলে আইবে না। আমাগো কথা ছাড়া পুলিশ আইলে জায়গার ওপর বাইন্দা থুমু। আমাগো ১ লাখ টাকা দিলে এই কেসটা আমরা দেখমু।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের কাছে মামলা করতে গেছে, আমার নাম শুনে মামলা নেয় নাই। ফাঁড়ি থেকে ফোন করে আমাকে বলছে মামলা নেয় নাই। ডিসি, থানা, ফাঁড়ি সব বুকিং করে ফেলাইছি ফোনে। ইদ্রিস ডাক্তার এ ফয়সালাটা করে দেবে, দুই গ্রুপই বিএনপির।’
মারধরের শিকার হাইউম বলেন, ‘মন্টু ও তার বাহিনী এলাকায় অনলাইন জুয়া, চাঁদাবাজিসহ মানুষকে নানা হুমকি দেন। আমি তার এই সব কর্মকাণ্ডের ভিডিও করি। মন্টু এসব জেনে আমাদের দুই ভাইকে পদ্মডুবী বাজারে এনে ভিডিও, অডিও ডিলিট করতে বলেন। এগুলো ডিলিট না করায় আমাদের ওপর হামলা করা হয়। তার অডিও এবং ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ায় আমাকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করেন।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মন্টু হাওলাদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, ‘মন্টু হাওলাদারের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়েছে। তদন্ত চলমান, আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অডিওটির বিষয়ে খতিয়ে দেখব। আইন হাতে তুলে নেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। পুলিশ কোনো ব্যক্তিবিশেষের কথায় পরিচালিত হয় না।’