© সংগৃহীত
কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ডেমরা থেকে ৫ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটির (ডিআইআইটি) অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী মাসরুর হাসান। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর ডেমরার বড়ভাঙ্গায় এলাকা থেকে ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ছিল পরিবারের।
এদিকে, নিখোঁজের ৫ দিন পর আজ মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) নিখোঁজ মাসরুরকে আদালতে তোলা হয়েছে। এ সময় তাকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়। পরে আদালত তার ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পরে আদালত প্রাঙ্গণে তার আইনজীবী বলেন, গত ২৫ তারিখ বাসার নিচ থেকে উঠিয়ে নিয়ে শিক্ষার্থী মাসরুর হাসানকে অনেক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। সর্বশেষ গতকাল তিনি ডিবির ওয়ারী ও লালবাগ জোনে ছিলেন। আদালত ভিকটিমের কথা শুনেছেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, যেহেতু ভিকটিমকে এতদিন রাখা হয়েছে, তাহলে অবশ্যই নির্যাতন করা হয়েছে। তারা এসময় ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছে কিন্তু বিজ্ঞ আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে, আজ বিকেলে মাসরুর হাসানের সন্ধান চাইতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল তার পরিবার। তবে সংবাদ সম্মেলনের আগেই মাসরুরের বাবা ও ভাইকে তুলে নিয়ে যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটির (ডিআইআইটি) নিখোঁজ শিক্ষার্থী মাসরুর হাসানের সন্ধান চাইতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল তার পরিবার। তবে সংবাদ সম্মেলনের আগেই মাসরুরের বাবা ও ভাইকে তুলে নিয়ে যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বিকেল সোয়া ৩টার দিকে মাসরুর বাবা ও ভাই সেগুনবাগিচার ডিআরইউতে আসেন। এ সময় তাদের সঙ্গে কথা বলার কথা বলে গলিতে রাখা সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ।
নিখোঁজ মাসরুর হাসানের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ডিআইআইটির শিক্ষার্থী মাসরুরের সন্ধান চেয়ে আজ বিকেল ৩টায় ডিআরইউয়ের সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন ডাকার কথা ছিল।
জানা যায়, মাসরুরের বড় ভাই মেহেদী হাসান ও তার বাবা আবুল হাসেম রিকশাযোগে ডিআরইউতে আসেন। তারা রিকশায় চড়ে ঠিক ৩টায় এসে ডিআরইউয়ের সামনে নামা মাত্র কয়েকজন ডিবি পুলিশ সদস্য তাদের ধরে গলিতে নিয়ে যান। এরপর সাদা মাইক্রোবাসে তুলে সেগুনবাগিচা এলাকা ত্যাগ করেন।
জানতে চাইলে ডিবি লালবাগ বিভাগের এডিসি খন্দকার আরাফাত লেলিন বলেন, ডিআইআইটি শিক্ষার্থী মাসরুরের ভাই মেহেদি হাসানকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
কোন অভিযোগে তাদের তুলে নেওয়া হয়েছে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি ডিবি লালবাগের ডিসি মশিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
যোগাযোগ করা হলে ডিবি লালবাগের ডিসি মশিউর রহমান বলেন, কোটা আন্দোলনের নাম করে পুলিশ সদস্য ও ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মাসরুর ও মুয়াজ নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুজনকেই তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।