মৃত্যুর আগে বুয়েটছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে ম্যাগাজিনের লেখায় কাঁদছে সবাই

০৯ মার্চ ২০২৪, ১১:৪৯ AM , আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৫, ১০:৪০ AM
 বুয়েটছাত্রী লামিশা

বুয়েটছাত্রী লামিশা © সংগৃহীত

রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত হয়েছেন দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্রী লামিশা ইসলাম। তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মৃত্যুর কয়েক দিন আগে লামিশার লেখা বুয়েটের বার্ষিক ম্যাগাজিন ‘অযান্ত্রিক’-এ প্রকাশ পায়। মৃত্যুর আগে বুয়েটছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে ম্যাগাজিনের লেখায় কাঁদছে সবাই। 

বুয়েটছাত্রী লামিশার লেখার শিরোনাম ছিল ‘অ্যা ডোর কল্ড ডেথ’ (মৃত্যু নামক একটি দরজা)। লামিশা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাসিরুল ইসলাম বিপিএমের মেয়ে। মেয়ে কেন এই শিরোনামে লিখল– তার কোনো উত্তর জানা নেই বাবা মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলামের। 

লামিশার বাবা বলেন, মেয়ের ওই লেখাটাই এখন সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে। মৃত্যু নিয়ে লামিশা যা লিখেছে, ওর সঙ্গে সেটাই ঘটবে, ভাবতেও পারিনি! লেখাটি পড়ে বুয়েটের শিক্ষার্থী ও তার সহপাঠীরাও কাঁদছে।

লামিশার লেখার শেষ অংশ ছিল এমন– আমি মা ডাক শুনতে পেলাম। ঠিক সেই বিস্তীর্ণ জঙ্গলের মাঝখানে ছিলাম দাদির বাড়ির পেছনে, যখন তার বিষণ্ন কণ্ঠস্বর উচ্চারিত হয়েছিল। এবং তার কথা শেষ হওয়ার পরপরই, মাটি কাঁপতে শুরু করে, যেন একটি দৈত্য তার পথ দিয়ে যাচ্ছে। ভেতরে সুড়ঙ্গ। কিন্তু আমি সেই প্রাণীর মুখোমুখি হওয়ার আগেই, আবার এই যন্ত্রণাদায়ক শব্দ ‘মা’র মুখোমুখি হয়েছিলাম।

২০১৮ সালে অসুস্থতাজনিত কারণে লামিশার মারা যান মা। এরপর ছোট বোন আর বাবাকে আগলে রাখতেন লামিশা। দুই কন্যা সন্তানের কথা চিন্তা করে পুলিশ কর্মকর্তা বাবা ডিআইজি মো. নাসিরুল ইসলাম আর বিয়ে করেননি। স্কুল-কলেজ পেরিয়ে লামিশা ভর্তি হয়েছিলেন দেশসেরা বিদ্যাপীঠে। কিন্তু মেধাবী এই শিক্ষার্থীর জীবন প্রদীপ নিভে গেল রাজধানীর বেইলি রোডের আগুনে।

ঘটনার দিন লামিশার সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয় রাত ১০টা ৩ মিনিটে। ওই সময় বারবার বলছিল, বাবা আমার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছে, খুব কষ্ট হচ্ছে, আমি হয়তো আর বাঁচব না; ভেতরে এসে তুমি আমাকে এখান থেকে বের করে নিয়ে যাও; আমাকে বাঁচাও। খুব করে অনুরোধ করে বলে, বাবা নিয়ে যাও। কিন্তু আমি কিছুই করতে পারিনি।

আরও পড়ুন: পুড়ে মারা যাওয়া বুয়েট ছাত্রী লামিশা অতিরিক্ত ডিআইজির মেয়ে

গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে বেইলি রোডের ‘গ্রিন কোজি কটেজ’ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই ঘটনায় ৪৬ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীও রয়েছেন। তাদের মধ্যে বুয়েট শিক্ষার্থী নাহিয়ান আমিন ও লামিশা ইসলাম মারা যান।

লামিশাকে হারিয়ে বাবা পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) নাসিরুল ইসলাম হয়ে পড়েছেন বাকরুদ্ধ। তার সহকর্মীরাও শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছেন।

এদিকে, রাজধানীর বেইলি রোডের ভয়াবহ আগুনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী নাহিয়ান আমিন মারা গেছেন। নাহিয়ান আমিন বিশ্ববিদ্যালয়টির ইইই বিভাগের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী। নাহিয়ানের মৃত্যু নিয়ে ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তার বন্ধু জুনায়েদ বলেন, নাহিয়ান একবার আমাকে বলেছিল, এখানে থাকলে একদিন হয় রোড এক্সিডেন্টে মারা যাব, না হলে আগুনে পুড়ে। এত দ্রুত নাহিয়ানের কথা সত্যি হয়ে যাবে কল্পনাও করতে পারিনি।

ট্যাগ: জাতীয়
কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনের চার বগি লাইনচ্যুত, বন্ধ চট্টগ্রা…
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
নবম পে স্কেলে বেতন নির্ধারণ শেষ
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
একজন ব্যভিচার, একজন তথ্যপ্রযুক্তি— সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত…
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
টঙ্গীতে গ্যাস সিলিন্ডারের আগুনে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
সাংবাদিকদের পেটানো নিয়ে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর উল্টো সুর
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
আজ ২১ অক্টোবর, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের স্মরণীয় দিন
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬