একজন ব্যভিচার, একজন তথ্যপ্রযুক্তি— সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নজরুল-সুইটির অপরাধ ভিন্ন

২১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩২ PM
 নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির

নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির © সংগৃহীত

‘অনৈতিক’ কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সৌদি আরবে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়। তাদের বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আগে থেকে কিছুই জানায়নি। এমনকি তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়নি।

তবে গত ১৮ অক্টোবর তাদের বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি ‘গোপনীয়’ চিঠি দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয়। চিঠিতে নজরুলকে তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধ ও সুইটিকে ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয় বলে জানানো হয়েছে।  

চিঠিতে বলা হয়, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলখানায় বিভিন্ন অপরাধে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়ে জেদ্দা কনস্যুলেট থেকে সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করা হয়েছিল। এই অনুরোধের ভিত্তি গত ৩০ সেপ্টেম্বর তালিকা পাওয়া যায়। এই তালিকায় নজরুল ও সুইটির নাম পাওয়া যায়। তবে তালিকায় তাদের শাস্তির বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না। 

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সৌদি আরবের সাইবার অপরাধ আইনে নজরুলকে আটক করা হয়। পরদিন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয় সুইটিকে। নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দা মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। তারা দুজনই ‘আল মাজাল কোম্পানিতে’ পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

জেদ্দা কনস্যুলেটের আওতাধীন সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারে বিভিন্ন ধরনের চারিত্রিক মামলায় ৩০৬ বাংলাদেশি আটক আছেন বলে তালিকায় জানানো হয়। এর মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষিত হয়েছে। তাদের সর্বনিম্ন ১ মাস এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, সাইবার বা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অপরাধে মক্কায় অপর ৩টি পৃথক মামলায় সর্বনিম্ন ৬ মাস এবং সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, বন্দি তালিকায় ৭ নম্বর কলামে রায় ঘোষিত কয়েদিদের সাজার সংক্ষিপ্ত বিবরণ উল্লেখ থাকলেও ওই ২ জনের সাজার তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

সৌদি আরবে সাইবার আইন এবং ব্যভিচারের অপরাধে আগে কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরবের ক্রিমিনাল কোর্টসহ অন্যান্য কোর্টে বর্তমানে অনুবাদক নিয়োগের ক্ষেত্রে 'মারকাযুত তারজামাহ আল মুওয়াহহাদ' প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শুনানি চলাকালে অনুবাদের সহায়তা নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে এসব কোর্টে মিশনের পক্ষ থেকে বিচারিক কর্মকাণ্ডে আসামির পক্ষে অনুবাদক হিসেবে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না।

তবে, বিচার চলাকালে এই ২ বাংলাদেশির পক্ষে দোভাষী বা আইনি প্রতিনিধিত্ব ছিল কি না, তা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি।

চিঠি অনুযায়ী, দুই বন্দির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা চেয়ে কনস্যুলেটে কোনো আবেদন বা যোগাযোগ করা হয়নি। মৃত্যুদণ্ড বা তা কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বা অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট জেনারেলকে কিছুই জানায়নি।

কনস্যুলেট ইতোমধ্যে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি ‘নোট ভার্বাল’ পাঠিয়ে রায়ের কপি এবং মামলার বিস্তারিত জানতে চেয়েছে। রায়ের কপি হাতে পেলে পরবর্তী প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে তারা জানিয়েছে। 

পে স্কেলে ‘চলতি মাসেই ৩ মাসের বকেয়া’র খবর ফেবুকে, যা জানা য…
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনের চার বগি লাইনচ্যুত, বন্ধ চট্টগ্রা…
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
নবম পে স্কেলে বেতন নির্ধারণ শেষ
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
একজন ব্যভিচার, একজন তথ্যপ্রযুক্তি— সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত…
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
টঙ্গীতে গ্যাস সিলিন্ডারের আগুনে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
সাংবাদিকদের পেটানো নিয়ে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর উল্টো সুর
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬