অভিযুক্ত শিক্ষক সাজ্জাদুল হক © সংগৃহীত
নেত্রকোণার বারহাট্টায় ইসলামি ঐক্যজোটের প্রার্থীর নির্বাচনী আলোচনা সভায় প্রার্থীর পক্ষে ভোটের প্রচারণা করায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
গত ৬ ডিসেম্বর নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের ইসলামি ঐক্যজোটের প্রার্থী মো. ইলিয়াসের বাড়ি বারহাট্টা উপজেলার নুরুল্লার চর গ্রামে নির্বাচনী সভায় উপস্থিত হয়ে এলাকাবাসীকে প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বলেন শিক্ষক সাজ্জাদুল হক। তাঁর বক্তব্যর ভিডিও জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার নজরে আসায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে এ ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান খান শিক্ষক সাজ্জাদুল হক কে সরকারিবিধি ও নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শাতে (শোকজ) বলেন। পরে ঘটনা তদন্ত করে সাত কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন বিভাগীয় উপ-পরিচালক। তাঁর নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
মোহনগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেনকে কমিটির প্রধান করা হয়। এ কমিটির অপর সদস্য বারহাট্টা উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবু রায়হান খান।
গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে কমিটি সরেজমিন তদন্ত শুরু করেছেন। আজ সোমবার(২৫ ডিসেম্বর) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ ডিসেম্বর নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের ইসলামি ঐক্যজোটের প্রার্থী মো. ইলিয়াসের বাড়ি বারহাট্টা উপজেলার নুরুল্লার চর গ্রামে এক নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আশ পাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।সেই সভায় অন্যান্য বক্তাদের মত ক্রম অনুযায়ী বক্তব্য দেন সাজ্জাদুল হক। বক্তব্যে তিনি- এলাকাবাসীকে প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে আহ্বান জানান। ওই নির্বাচনি সভায় উপস্থিত এলাকাবাসীর উদ্দেশে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘ইলিয়াস (ইসলামি ঐক্যজোটের প্রার্থী) খুব ভালো ছেলে। তাকে ধরে রাখতে হবে। ইলিয়াসের জন্য সবাই কাজ করবেন।
’বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদ পারভেজের নজরে আসে। পরে তিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে যথাযথযথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। ওই দিনই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান খান ওই শিক্ষককে শোকজ করেন।পরদিন বারহাট্টা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম একই ঘটনায় প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদুল হককে শোকজ করেন।