দোয়া মাহফিলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর © সংগৃহীত
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকারের রাখাল বালকদের কথা এখন আর কেউ বিশ্বাস করে না। সময় থাকতে পদত্যাগ করুন। অল্পদিনের মধ্যেই চূড়ান্ত আন্দোলন শুরু হচ্ছে। এ আন্দোলনে ঢাকা মহানগর বিএনপিকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।’
কিছু কিছু পত্রিকার সম্পাদক, বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষক সরকারকে ডিফেন্ড করে কথা বলছেন দাবি করে তিনি বলেন ‘তারা গণতন্ত্রের ছবক দিচ্ছেন। সেই ছবক দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। আমি তাদের আহ্বান করবো আপনারা জনগণের কাতারে আসুন। জনগণ কী চায় তা শুনুন।’
বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বিএনপিসহ বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে রাজনীতির ময়দান থেকে সরিয়ে দিয়ে মাঠশূন্য করার চক্রান্ত করছে সরকার। এ উদ্দেশ্যে এরই মধ্যে বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, ডা. জোবায়দা রহমানসহ শীর্ষ নেতাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। সিরাজগঞ্জ, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলা নেতাদের বিরুদ্ধেও পুরোনো মামলা সচল করে দ্রুত নিষ্পত্তি করে নেতাদের সাজা দেওয়া হচ্ছে। কয়েকজনকে মৃত্যদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার আদালত ব্যবহার করে বিচারের নামে প্রহসন করছে। তারা অবৈধ ক্ষমতা স্থায়ী করতে আবারও পাতানো নির্বাচন করতে হীন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। অবাধ গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য গণতন্ত্রকামী রাষ্ট্রগুলো যখন নিষেধাজ্ঞাসহ ভিসানীতি আরোপ করছে, দেশের মানুষ যখন নিজ অধিকার আদায়ে জেগে উঠছে, বিশেষ করে ঢাকার রাজপথ যখন জনগণ দখল নিতে শুরু করেছে- তখনই আবার শুরু হয়েছে দমননীতি। শুরু হয়েছে গায়েবি মামলা। যে কর্মীকে গতকাল আটক করা হয়েছে তাকে আজকের একটি সহিংসতার মামলায় আসামি করা হচ্ছে। এগুলো করে সরকার এ দেশ থেকে বিরোধীদল নির্মূল করতে চায়।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রতিদিন হাজারো নেতাকর্মীকে হাজিরা দিতে আদালতে আসতে হয়। নিয়মিত হাজিরা দিলেও তাদের আটক করা হচ্ছে। এগুলো করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না, মানুষ আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। জাতীয় পার্টিও বলছে বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সবকিছু হারিয়ে আওয়ামী লীগ এখন অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।’