ঝড়-তুফানের সময় যে আমল করতেন মহানবী (সা.)

১৩ মে ২০২৩, ০১:৩৭ PM , আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৫, ১০:৪২ AM
ঘূর্ণিঝড়

ঘূর্ণিঝড় © ফাইল ছবি

মহান আল্লাহ বান্দাকে পরীক্ষার জন্য পৃথিবীতে নানা ধরণের বিপদ-মুসিবত দেন। এরমধ্যে অন্যতম হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তবে এসব বিপদ আপদ থেকে হেফাজতে থাকার কৌশল, দোয়া, জিকির-আসকার বলা হয়েছে পবিত্র কুরআন-হাদিসে।

পবিত্র কুরআন আল্লাহ বলেন, ‘আমি জলধর মেঘমালা থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত করি, যাতে তা দ্বারা উৎপন্ন করি শস্য, উদ্ভিদ ও পাতাঘন উদ্যান।’ (সুরা নাবা, আয়াত : ১৪-১৬)

ঝড়-তুফানের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে মহানবী (সা.) বিচলিত হয়ে পড়তেন। আল্লাহতায়ালার শাস্তির ভয় করতেন। বেশি বেশি তওবা-ইস্তেগফার করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে তা করার নির্দেশ দিতেন। ঝড়-তুফান শুরু হলে মহানবী (সা.)) মসজিদে চলে যেতেন। নফল নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।

আয়েশা (রা.) বলেন, যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতো এবং ঝোড়ো বাতাস বইত—তখন রাসুল (সা.) এর চেহারায় চিন্তার রেখা ফুটে উঠত। এই অবস্থা দেখে তিনি এদিক-সেদিক পায়চারি করতে থাকতেন এবং এ দোয়া পড়তেন—

اللهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا، وَخَيْرَ مَا فِيهَا، وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا، وَشَرِّ مَا فِيهَا، وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা-ফিহা ওয়া খাইরা মা-উরসিলাত বিহি, ওয়া আউজুবিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি মা-ফিহা ওয়া শাররি মা-উরসিলাত বিহি।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এ বৃষ্টির কল্যাণগুলো কামনা করছি, এই বৃষ্টিতে যেসব কল্যাণ রয়েছে সেগুলো কামনা করছি এবং এই বৃষ্টির মাধ্যমে প্রেরিত কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আর  আর এ বৃষ্টি ও বৃষ্টির মাধ্যমে প্রেরিত সব রকম অকল্যাণ ও বিপদাপদ থেকে পরিত্রাণ চাই।’

এরপর যখন বৃষ্টি হতো— তখন মহানবী (সা.) শান্ত হতেন। আয়েশা (রা.) আরও বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছি যে লোকজন মেঘ দেখলে বৃষ্টির আশায় আনন্দিত হয়ে থাকে, আর আপনি তা দেখে চিন্তিত হয়ে পড়েন?’ জবাবে রাসুল (সা.) বলেন, আমি এ ভেবে শঙ্কিত হই যে বৃষ্টি আমার উম্মতের ওপর আজাব হিসেবে পতিত হয় কি না। কেননা আগের উম্মতদের ওপর এ পদ্ধতিতে (বৃষ্টি বর্ষণের আকারে) আজাব পতিত হয়েছিল। ’ (বুখারি, হাদিস : ৩২০৬; মুসলিম, হাদিস : ৮৯৯; তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৪৯)

মেঘের গর্জনে পঠিতব্য দোয়া
হজরত আব্দুল্লাহ ইবন যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন মেঘের গর্জন শুনতেন তখন কথা বলা বন্ধ করে দিতেন এবং এই আয়াত তিলাওয়াত করতেন-

سُبْحَانَ الَّذِي يُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ، والـمَلائِكَةُ مِنْ خِيْفَتِهِ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাজি ইউসাব্বিহুর রা`দু বিহামদিহি ওয়াল মালাইকাতু মিন খিফাতিহি।

অর্থ: পাক-পবিত্র সেই মহান সত্তা- তাঁর প্রশংসা পাঠ করে বজ্র এবং সব ফেরেশতা, সভয়ে। (মুয়াত্তা)

খ. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেঘের গর্জন শুনলে বা বিদ্যুতের চমক দেখলে সঙ্গে সঙ্গেই এই দোয়া করতেন-

اللَّهُمَّ لا تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ ، وَلا تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ ، وَعَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ

উচ্চারণ- আল্লা-হুম্মা লা- তাক্বতুলনা- বিগযাবিকা ওয়া লা-তুলহিকনা- বিআ’জা-বিকা, ওয়া আ’-ফিনা- ক্বাব্লা জা-লিকা।

অর্থ: হে আমাদের প্রভু! তোমার ক্রোধের বশবর্তী হয়ে আমাদের মেরে ফেলো না আর তোমার আযাব দিয়ে আমাদের ধ্বংস করো না। বরং এর আগেই আমাদেরকে ক্ষমা ও নিরাপত্তার চাদরে আবৃত করে নিও। (তিরমিজি)

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আড়াই লাখ আসামীর ৫৭ হাজার গ্রেপ্তার,…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইন্টার্নশিপ সনদ পেলেন বাকৃবির ৫৯তম ভেটেরিনারি ব্যাচের ১৯২ শ…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কারিগরির এমপিও নীতিমালা প্রকাশ, দেখুন এখানে
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এইচএসসি পাসেই সেলস প্রমোশন অফিসার নেবে সজীব গ্রুপ, কর্মস্থল…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনের আগে হ্যাক হয়েছিল যেসব বিশ্বনেতার এক্স অ্যাকাউন্ট
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে হারাল বাংলাদেশ
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬