মসলিন প্রকল্পে সুতা-কাপড় তৈরির দায়িত্বে ছিলেন বুটেক্সের ড. বেলাল

বুটেক্স
ড. বেলাল  © টিডিসি ফটো

মসলিন, বাংলাদেশিদের অন্যতম ধারক এবং খ্রিষ্টাব্দের শুরু থেকে মধ্যযুগ হয়ে ইংরেজ শাসনামলের মধ্যকাল অব্দি জগৎজোড়া বিখ্যাত ছিল ঢাকাই মসলিন। রোমের নারীদের বস্ত্রাবরণ থেকে শুরু করে মমিতে পর্যন্ত ব্যবহার হয়েছে এই মসলিন। বিশেষ করে মোঘল আমল ছিলো মসলিনের স্বর্ণযুগ।

বলা হয়ে থাকে একটি ম্যাচবক্সে অথবা আংটির মধ্যে দিয়ে সহজে পুরে দেয়া যেতো আস্ত একটি শাড়ি। মোগল আমলে তৈরি করা ঢাকাই মসলিন ঘাসের ওপর রাখলে এবং তার ওপর শিশির পড়লে কাপড় দেখাই যেত না। কয়েক গজ মসলিন কাপড় ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া যেত বলে জনসাধারণ একে ‘হাওয়ার কাপড়’ বলতো।

পলাশী পরবর্তী ইংরেজদের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কর এবং নানা ষড়যন্ত্রের প্রভাবে হারিয়ে যেতে থাকে এই শিল্প। আর এই শিল্পের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকা হয় মসলিনের কারিগরদের হাতের আঙুল কেটে দেয়ার মাধ্যমে।

তবে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে দেশে আবার ফিরে আসে ঢাকাই মসলিন। আর মসলিন প্রকল্পের জন্য গঠন করা হয় সাত সদস্যের দল। সুতা থেকে শুরু করে কাপড় তৈরী করা এই দলের দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শাহ আলিমুজ্জামান যিনি কিনা ড. বেলাল নামেই বেশি পরিচিত।

দীর্ঘ ছয় বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে ঢাকাই মসলিন আবার ফিরে এসেছে। এই মসলিন পুনরোদ্ধার করতে তিনি গিয়েছেন সূদুর ইংল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া এন্ড আলবার্ট মিউজিয়ামে। সেখানে নিজে হাতে এবং তার সাথে নিয়ে যাওয়া যন্ত্রাংশ দিয়ে পরীক্ষা করেছেন ঢাকাই মসলিনের বুনন-কৌশল। এবং দেশে ফিরে এসে বুনন করেছেন মিহি সুতার এই ঢাকাই মসলিন।

আরও পড়ুন: সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে চাকরি, আবেদন অনলাইনে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি কোণায় ছুটে চলা এই পরিশ্রমী গ্রেড-১ অধ্যাপকের কল্যাণে মসলিনের সাথে ওতোপ্রোতো জড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। ড. বেলালের এই গবেষণার স্বীকৃতিস্বরুপ বাংলাদেশ সরকার তাকে জনপ্রশাসন পদক-২০২১- এ ভূষিত করেছেন।

এই সাত সদস্যের দলের অক্লান্ত পরিশ্রমে বাংলাদেশিরা ফিরে পেয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন এবং ২০২০ এর ২৮ ডিসেম্বর ঢাকাই মসলিনের ভৌগোলিক স্বত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ।

প্রসঙ্গত মসলিন বিশেষ এক প্রকার তুলার আঁশ থেকে প্রস্তুতকৃত সূতা দিয়ে বয়ন করা এক প্রকারের অতি সূক্ষ্ম কাপড়বিশেষ।  ফুটি কার্পাস নামক তুলা থেকে প্রস্তুত অতি চিকন সুতা দিয়ে মসলিন তৈরি করা হত। চড়কা দিয়ে কাটা, হাতে বোনা মসলিনের জন্য সর্বনিম্ন ৩০০ কাউন্টের সুতা ব্যবহার করা হত যার ফলে মসলিন হত কাচের মত স্বচ্ছ। মসলিন কেবল কাপড়ই নয়, মসলিন কথা বলে বাংলাদেশের ঐতিহ্যের।


সর্বশেষ সংবাদ