চলতি বছরে ৪০৪ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, সংখ্যায় বেশি মেয়েরা

০৮ অক্টোবর ২০২২, ০৪:৪৭ PM
প্রতীকী

প্রতীকী © ফাইল ছবি

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০২২ সালের প্রথম নয় মাসে ৪০৪ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। যার মধ্যে নারী শিক্ষার্থী রয়েছে ২৪২ জন এবং পুরুষ শিক্ষার্থী ১৬২ জন। শনিবার (৮ অক্টোবর) ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও আঁচল ফাউন্ডেশনের গবেষক ড. এ ওহাব।

আঁচল ফাউন্ডেশনের গবেষক ড. ওহাব জানান, গত নয় মাসে শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মহত্যার প্রবণতা ভয়াবহভাবে বেড়েছে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আত্মহত্যা করেছেন ৪০৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৫৭ জন, স্কুলের ২১৯ জন, মাদ্রাসার ৪৪ জন এবং কলেজপড়ুয়া ৮৪ জন। আত্মহননকারীদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থী ২৪২ জন এবং পুরুষ শিক্ষার্থী ১৬২ জন।

শিক্ষার্থীদের ওপর একাডেমিক চাপ তাদের আত্মহত্যার পেছনে কতটুকু দায়ী এবং অন্যান্য কী কী কারণ জড়িত, তা জানার লক্ষ্যেই এই গবেষণা জরিপ পরিচালিত হয় বলে জানান এ গবেষক।

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরন বিবেচনায় জরিপে মোট অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের। এ ছাড়াও ২৩ দশমিক ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের, ২ দশমিক ২৬ শতাংশ মেডিকেল শিক্ষার্থী এবং বাকিরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি এবং মাদ্রাসার।’

জরিপে অংশ নেয় ৩৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ৪৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ মাদরাসা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১ হাজার ৬৪০ জন শিক্ষার্থী।

জরিপে দেখা গেছে, মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষাজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জরিপে মানসিক সুস্থতা বিষয়ক বেশ কয়েকটি নিয়ামক নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাওয়া হলে উত্তরে উঠে আসে উদ্বেগজনক কিছু তথ্য। মোট অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৭ দশমিক ৯৯ শতাংশই জানিয়েছেন যে তাদের নিজস্ব শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত ভয় ও উদ্বেগ তাদের জীবনকে প্রভাবিত করেছে। এর পাশাপাশি দৈনন্দিন আচার-আচরণ ও ব্যবহারে পরিবর্তন, যেমন- মন খারাপ হওয়া, হঠাৎ ক্লান্তি আসা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে শিক্ষাজীবনে প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন ৮০ দশমিক ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী।

করোনা পরবর্তী সময়ে ১ হাজার ৬৪০ জন শিক্ষার্থীন মধ্যে ৪০ জন বা ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন তারা আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। আত্মহত্যার উপকরণ জোগাড় করেও শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে এসেছেন বলে জানিয়েছেন ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। করোনা পরবর্তী সময়ে আত্মহত্যা করার কথা মাথায় এসেছে ৩৪ দশমিক ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর।

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক কিংবা রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশের দাঁড়ানোর কথা তুলে ধরে ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান বলেন, আমাদের রিপোর্ট হয় কে মারা গেলো তা নিয়ে। কিন্তু কী কারণে মারা গেলো তা জানা যায় না। সুইসাইড প্রিভেনশনের ক্ষেত্রে কিন্তু এক একটি মৃত্যু থেকে আমাদের শিক্ষণীয় আছে। তার আশেপাশের যারা কাছের মানুষ তাদের কিন্তু এখানে একটা নিবিড় ভূমিকা থাকা দরকার। আমরা তাদের প্রশিক্ষণ দিতে পারি যে, কী কী লক্ষণ দেখে জানা যাবে, একটি মানুষ আত্মহত্যার দিকে ঝুকছে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির জন্য দায়ী যে সমস্যাগুলো জরিপে উঠেছে এসেছে, তা মোটামুটি চার ধরনের। সেগুলো হলো- একাডেমিক চাপ, আর্থিক সংকট ও ক্যারিয়ার দুশ্চিন্তা এবং শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ। আঁচল ফাউন্ডেশন সে বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সমস্যা সমাধানে কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরে।

ইসরায়েলে সরাসরি সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিলেন এরদোয়ান
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
জানালা দিয়ে বাবা দেখেন, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল সন্তানের…
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
গুচ্ছের ‘এ’ ইউনিটের ফল কবে, যা বলছে কর্তৃপক্ষ
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
কবে প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা? জানাল ইসি
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
ঢাবিতে পানি-বিদ্যুতের অপচয় রোধে ছাত্রদলের সচেতনতামূলক কর্মস…
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ব্যর্থ—এখন কী হবে?
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬