জনসংখ্যা ১৬ কোটি, নিবন্ধন ২০ কোটি

০৬ অক্টোবর ২০২২, ০১:৪৬ PM
দেশে ২০ কোটি ১২ লাখেরও বেশি জন্ম নিবন্ধন

দেশে ২০ কোটি ১২ লাখেরও বেশি জন্ম নিবন্ধন © সংগৃহীত

বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এখন পর্যন্ত জন্মনিবন্ধন হয়েছে ২০ কোটি ১২ লাখের বেশি মানুষের। এই সংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়ে ৩ কোটি ৬০ লাখের বেশি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এক ব্যক্তির নামে একাধিক নিবন্ধন থাকা এবং মৃত ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন বাতিল না হওয়ায় এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। সার্ভারের দুর্বলতার কারণে ঠেকানো যাচ্ছে না এক ব্যক্তির একাধিকবার নিবন্ধন। জন্মনিবন্ধনের এমন ভুতুড়ে উপাত্তের কারণে জাতীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা গ্রহণে বাধা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

জন্মনিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশে জন্মনিবন্ধন হয়েছে ২০ কোটি ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৭২৪ জনের। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র (বিবিএস) ২০২২ সালের খসড়া জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী, দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬। 

হিসাবে দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়ে ৩ কোটি ৬০ লাখ জন্মনিবন্ধন বেশি হয়েছে। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বার্ষিক পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রমের সমস্যা হিসেবে সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যারের সীমাবদ্ধতা, প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব এবং মাঠ পর্যায়ে নিজস্ব কাঠামো না থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

জন্মনিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. রাশেদুল হাসান বলছেন, এক ব্যক্তির নামে একাধিক নিবন্ধন থাকা এবং মৃত ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন বাতিল না হওয়ায় এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ২০০১ সাল থেকে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম হাতে লেখা ফরমে করা হতো। সে সময় অনেকে একাধিক জায়গা থেকে জন্মনিবন্ধন করেছেন। কেউ ঢাকার বাইরে থেকে নিয়েছেন, আবার ঢাকা থেকে নিয়েছেন। কেউ নিবন্ধন সনদ হারিয়ে ফেলায় নতুন করে আবার নিয়েছেন। সার্ভারে সমস্যার কারণে একই নিবন্ধন একাধিকবার করার নজিরও আছে। এ ছাড়া বয়স্ক ভাতাসহ কিছু ক্ষেত্রে সুবিধা নেওয়ার জন্যও অনেকে সুবিধামতো জন্মতারিখ ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় নিবন্ধন করেছেন।

আরও পড়ুন: নিয়ন্ত্রণ হা‌রিয়ে মাইক্রোর ওপর বাস, নিহত ৬

জন্মনিবন্ধনের এমন ভ্রান্তিকর পরিসংখ্যানের সমাধান প্রসঙ্গে রেজিস্ট্রার জেনারেল বলেন, এ সমস্যার সমাধানে স্ক্রিনিং ডিভাইস তৈরি করা হচ্ছে। নতুন সফটওয়্যার দ্বৈত নিবন্ধন খুঁজে বের করতে পারবে।

জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত দক্ষতার অভাব, জবাবদিহি না থাকা এবং জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে না পারায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম আজকের পত্রিকা’কে বলেন, ‘যারা সার্ভিস প্রোভাইডার, তারা যথেষ্ট দক্ষ নয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জন্মনিবন্ধন করতে যে সচেতনতা তৈরি করা দরকার, তা তারা করতে পারছে না। এর আগে সার্ভার থেকে নিবন্ধনের তথ্য হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায়ও তারা অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।

প্রসঙ্গত দেশ ও দেশের বাইরে পাঁচ হাজার ৫৩২টি জায়গা থেকে জন্ম নিবন্ধন করা যায়।    দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয়, সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের পাশাপাশি বিদেশের বাংলাদেশি দূতাবাসে অনলাইনের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই স্বপ্নভঙ্গ একঝাঁক তারকার
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬
একটি নারী আসন হারানোর ঝুঁকিতে জামায়াত-এনসিপি জোট, আইন কী বল…
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬
ঢাবির বিশেষ মাইগ্রেশনের সুযোগ শেষ আজ
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রবাসীদের পাসপোর্ট নবায়নে জটিলতা, সরকারকে যে আহবান জানালেন…
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬
ওয়াসার পাইপলাইন মেরামতের সময় প্রাণ গেল দুই শ্রমিকের
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬
আজ এসএসসি’র দ্বিতীয় দিনের পরীক্ষা, প্রশ্ন বিতরণে সতর্ক থাকা…
  • ২৩ এপ্রিল ২০২৬