লবণজলে অবারিত স্বপ্ন, লবণাক্ত শৈশব

০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৭ PM
নাদিম মোর্শেদ ও প্লাবন কুমার

নাদিম মোর্শেদ ও প্লাবন কুমার © সংগৃহীত

‘ভোর হলো দোর খোলো খুকুমণি ওঠো রে’ খুলনার দাকোপের বানিয়াশান্তা ইউনিয়নের আফরিন নবম শ্রেণির ছাত্রী। বর্ষার প্রভাত, শিশিরের পরিবর্তে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে। সেই প্রভাতে রবি তখনও নব বধুর মতো মেঘের ঘোমটা পরে মুখ লুকিয়ে আছে। কিন্তু আফরিন সূর্যের সাথে তাল না মিলিয়ে তার পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী সে সেই বৃষ্টির ভেতর কাদা পানি মাড়িয়ে পাঁচশো মিটার দূর থেকে কলস হাতে পানি নিয়ে আসতে চলে গেল। তার বাড়ির কাছের নলকূপটি নষ্ট। আশপাশের পুকুরের পানিও লবণাক্ত। তাই নিরাপদ পানি আনতে তাকে প্রতিদিন বাড়ি থেকে অনেকটা পথ হাঁটতে হয়। কখনো কাদা মাড়িয়ে। কখনো তীব্র রোদে। কখনো ধুলোর রাস্তা পেরিয়ে। তার মা অসুস্থ থাকলে সেই দায়িত্ব আরও বেশি করে তার কাঁধে পড়ে। আফরিনের কাছে এই পানির কষ্ট শুধু পানির কষ্ট নয়। দীর্ঘ পারাবার অতিক্রম করার ন্যায়। একজন কিশোরী হিসেবে তার শরীর ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সঙ্গেও এই সংকট জড়িয়ে আছে। সে বলে, “কাদায় হাঁটতে হাঁটতে পায়ে ঘা হয়ে যায়। কাদার মধ্যেও লবণ। জুতো পায়ে দিয়ে হাঁটতে পারি না। এক ঘড়া পানি নিয়ে আসতে আমি পথে ৩-৪ যায়গায় থামি, জিড়িয়ে নেই। পানির নিয়ে আসতে আমার আমার খুব কষ্ট হয়, কিন্তু আমাকেই যেতে হয়। বাসায় মা অসুস্থ থাকে।” আফরিনের এই যাত্রা হয়তো প্রতিদিনের। তাই চোখে পড়ে না।

কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের অনেক বড় অভিঘাত এমনই। তা সবসময় ভাঙা ঘরের ছবি হয়ে আসে না। কখনো তা আসে একটি মেয়ের প্রতিদিন পানি আনার অতিরিক্ত কয়েক ঘণ্টা হয়ে। কখনো আসে তার শারীরিক ও মানসিক চাপ হয়ে। কখনো তার পড়াশোনার প্রতি অনিহা এবং সময় কমিয়ে দিয়ে।

একটি শিশুর কাছে পানি মানে তৃষ্ণা মেটানোর উপায়, স্কুলে যাওয়ার পথ মানে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া, আর বাড়ি মানে নিরাপদ আশ্রয়। কিন্তু খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের উপকূলীয় জনপদের বহু শিশুর জন্য এই তিনটি বিষয়ই এখন জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াইয়ের অংশ। দাকোপের ৩৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে ২০২২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এলাকার সব নলকূপের পানিতে লবণাক্ততা জাতীয় মানের সীমার ওপরে ছিল। গবেষণাটি Heliyon-এ প্রকাশিত হয়। গবেষকেরা একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের পানির উৎসে জীবাণু দূষণের ঝুঁকিও পেয়েছেন। আর ২০২৬ সালে Utilities Policy-তে প্রকাশিত আরও বড় একটি গবেষণা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি উপজেলায় ৬৬,২৩৪টি পরিবার ও ৮৯০টি পানির উৎস বিশ্লেষণ করেছে। গবেষণায় নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা, লবণাক্ততা, মৌসুমি সংকট এবং পানি সংগ্রহের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বোঝার বৈষম্য উঠে এসেছে। তাই আফরিনের হাঁটা শুধু একটি মেয়ের হাঁটা নয়। তার প্রতিটি পথচলা উপকূলের প্রতিটি কিশোরির সুপেয় পানির জন্য সংগ্রাম এবং পানির সংকটের হিসাব লেখা থাকে। উপকূলের জলবায়ু সংকটে শুধু ঘরবাড়ি নয়, বদলে যাচ্ছে শিশুদের শৈশব, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বপ্ন “দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার”

বাগেরহাটের শরণখোলার নোমান দশম শ্রেণির ছাত্র। নোমানের গল্পটা শুধু একজন শিশুর গল্প নয়। তার চোয়ালে লেগে থাকা ঘূর্ণিঝড় রেমালের জলোচ্ছ্বাসে লবণপানির দাগ যেন বলে দেয়, দারিদ্র্য আর জলবায়ুজনিত সংকট কীভাবে একটি শিশুর শৈশবকে ধীরে ধীরে কেড়ে নেয়। নোমান তার দুহাত দেখিয়ে বলেছিল, “দেখেন, সাগরের মধ্যে জাল টানতে টানতে আমার হাতের চামড়া উঠে গেছে। এই হাত আমি আমার মাকেও দেখাতে পারি না।” এই হাতেই থাকার কথা ছিল বই-খাতা, কলম; অথচ সেই হাত এখন পরিবারের জীবিকার ভার টেনে বেড়াচ্ছে। যে বয়সে নোমানের হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, সে বয়সে তার হাতে উঠেছে মাছ ধরার জাল। যে সময়টা স্কুলে যাওয়ার, বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে ছুটে বেড়ানোর, খেলতে খেলতে পৃথিবীকে চেনার, সেই সময়টুকু তাকে দিতে হচ্ছে পরিবারের আয়ের জন্য। ফলে তার জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার সুযোগ, খেলাধুলা ও বিশ্রামের সময়, নিরাপদ শৈশব এবং স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ। নোমান নিজেই বলেছিল, “আমার বাবা এখন কাজ করতে পারেন না। তাই সংসারের খরচ চালানোর দায়িত্বটা আমার ওপরই।” একটি শিশুর কাঁধে যখন পরিবারের আয়ের দায়িত্ব এসে পড়ে, তখন তার নিজের শৈশবটুকু কোথায় যেন হারিয়ে যায়।

রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?

নোমানের গল্পে সবচেয়ে কষ্টের জায়গাটি হয়তো এখানেই। সে শুধু স্কুল থেকে দূরে সরে যায়নি, সে নিজের স্বপ্নটাকেও ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে। সে সাগর দেখেছে, মাছ দেখেছে, জাহাজ দেখেছে, সুন্দরবনের দ্বীপ দেখেছে, মাথার উপর দিয়ে উড়ে যেতে দেখেছে, গাঙচিল আর সাদা বক। তার চারপাশে এত গল্প, অথচ সেই গল্পগুলো লিখে রাখার মতো খাতা-কলম তার হাতে নেই। সে বলেছিল, “আমার খুব ইচ্ছা ছিল, এসব কথা খাতায় লিখে রাখব। আমি যা দেখেছি, যা পেয়েছি, যা হারিয়েছি—সব লিখে রাখব।” কিন্তু জীবন তাকে খাতা-কলমের বদলে জাল ধরিয়ে দিয়েছে। এখানেই প্রশ্নটি আরও বড় হয়ে ওঠে। একটি শিশু কি শুধু খাবার ও বেঁচে থাকার অধিকার নিয়েই জন্মায়? না। তার শিক্ষা পাওয়ার অধিকার আছে, খেলাধুলা ও অবসর পাওয়ার অধিকার আছে, শোষণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে সুরক্ষিত থাকার অধিকার আছে, নিজের মতামত ও স্বপ্ন প্রকাশ করার অধিকার আছে। সবচেয়ে বড় কথা, তার শৈশবটুকু তার নিজের মতো করে বেঁচে থাকার অধিকার আছে।
কিন্তু নোমানের ক্ষেত্রে দারিদ্র্য, বাবার কর্মক্ষমতা হারানো এবং উপকূলীয় জীবনের অনিশ্চয়তা সেই অধিকারগুলোর ওপর একসঙ্গে চাপ তৈরি করেছে। পরিবারের আয় ধরে রাখার দায়িত্ব তার বয়সের চেয়ে বড় হয়ে তার কাঁধে এসে পড়েছে। ফলে শিশুটির প্রয়োজন আর পরিবারের প্রয়োজনের মধ্যে যে দূরত্ব থাকার কথা, সেটিও যেন মুছে গেছে। নোমানের হাতে শুধু জালের দড়ির দাগই না। এটা যেন একটি হারিয়ে যাওয়া শৈশবের চিহ্ন।

“দীঘল রাতের শ্রান্তসফর শেষে কোন দরিয়ার কালো দিগন্তে আমরা পড়েছি এসে?”

সে সাগরের ঢেউ দেখেছে, কিন্তু নিজের জীবনের ঢেউ সামলানোর সময় পায়নি। সে সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখেছে, কিন্তু নিজের ভবিষ্যৎটাকে সুন্দর করে সাজানোর সুযোগ পায়নি। সে অসংখ্য মাছের গল্প জানে, জাহাজের গল্প জানে, নদী আর দ্বীপের গল্প জানে, কিন্তু নিজের গল্পটি খাতায় লিখে রাখার অধিকারটুকু তার জীবনে এখনো পূর্ণতা পায়নি। নোমানের নিজের ভাষায়, “খাতা-কলম ধরার বয়সে আমাকে জাল ধরতে হয়েছে।” একটি শিশুর স্বপ্ন যখন পরিবারের বেঁচে থাকার চাপে থেমে যায়, তখন শুধু একজন শিশু পিছিয়ে পড়ে না, তার সঙ্গে পিছিয়ে পড়ে একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং ভবিষ্যতের একটি সম্ভাবনাও।
নোমানের গল্প তাই আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শিশুকে শুধু শ্রম থেকে সরিয়ে স্কুলে পাঠানোই যথেষ্ট নয়। তার হাতে বই দিতে হবে, সময় দিতে হবে, নিরাপত্তা দিতে হবে, খেলতে দিতে হবে, স্বপ্ন দেখতে দিতে হবে। কারণ শৈশব কোনো বিলাসিতা নয়। এটি একটি শিশুর অধিকার। আর নোমানের কণ্ঠে সেই হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নের সবচেয়ে সরল স্বীকারোক্তি, “আমি যে লিখবো সেই ইচ্ছাটারে কবর দিয়েছি ভাই...” এক স্কুলের ভেতর থেকে দেখা আরও অনেক আফরিন

“মাগো, আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই?”

বানিয়াশান্তা পিনাকপাণি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কৌশিক রায় আফরিনকে চেনেন। তাঁর চোখে আফরিন একা নয়। তিনি বলেন, “আমি আফরিনকে চিনি। তার মতো অবস্থায় আমার বিদ্যালয়ে আরও অনেক মেয়ে আছে। তারা এই ধরনের সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।” কৌশিক রায়ের অভিজ্ঞতায়, জলবায়ু ও জীবিকার চাপ কখনো পরিবারকে মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়। কেউ কেউ সন্তানকে ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজের জন্য পাঠিয়ে দেন। কেউ খুলনায় বাসাবাড়িতে কাজে রেখে আসেন। তিনি আরও বলেন, দালালের প্রলোভনে শিশুদের পাচার এবং মৃত্যুর ঘটনাও তাঁর নজরে এসেছে। এই কথাগুলো কেবল দারিদ্র্যের গল্প নয়, আবার শুধু শিক্ষার ঘাটতির গল্পও নয়। উপকূলের কোনো পরিবার যখন একদিকে লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও জীবিকার অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করে, তখন তাদের সিদ্ধান্তগুলোর ওপর সেই পরিবেশগত চাপও কাজ করে।  কৌশিক রায়ের ভাষায়, “এগুলো শুধু আর্থিক অনটন বা বাবা-মায়ের শিক্ষার স্বল্পতার বিষয় নয়। জলবায়ু পরিবর্তনেরও বড় প্রভাব আছে।” এই জায়গাটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিশুর জীবনকে যদি শুধু ‘দরিদ্র পরিবারের শিশু’ হিসেবে দেখা হয়, তাহলে তার সমস্যার একটি বড় অংশ অদৃশ্য থেকে যায়।

উপকূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত

সাতক্ষীরার গাবুরা নিয়ে ২০২৬ সালে Discover Oceans-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় ৬০টি পরিবার ও আটটি ফোকাস গ্রুপ আলোচনার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় ৪০ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, জলবায়ুজনিত ধাক্কা ও জীবিকার ক্ষতির পর তাদের পরিবারের অন্তত একজন সদস্য স্থানান্তরিত হয়েছে। গবেষণাটি দেখিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও জীবিকার সংকট একে অপরের সঙ্গে মিলে মানুষের চলাচলের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। এই স্থানান্তরের গল্পে শিশুরাও থাকে। কেউ বাবা মায়ের সঙ্গে যায়। কেউ থেকে যায়। কেউ স্কুল বদলায়। কেউ স্কুলই ছেড়ে দেয়। কেউ আবার নতুন শহরে গিয়ে শ্রমে ঢুকে পড়ে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের গল্প শুধু নদী ভাঙার গল্প নয়। এটি মানুষের জীবনের ভেতরে ঢুকে পড়া একটি দীর্ঘশ্বাস।

সমাধান চাই শিশুকে কেন্দ্রিক

উপকূলের শিশুদের জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু দুর্যোগের সময় ত্রাণ দেওয়া যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন এমন অভিযোজন ব্যবস্থা, যা শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ জীবিকাকে একসঙ্গে সুরক্ষা দেবে। প্রথমত, দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের স্কুল ও কমিউনিটিতে নিরাপদ ও লবণাক্ততামুক্ত পানির স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, নিরাপদ পানির পয়েন্ট এবং নিয়মিত পানি পরীক্ষার ব্যবস্থা জরুরি। দ্বিতীয়ত, দুর্যোগে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আহত বা কর্মক্ষমতা হারালে শিশুকে শ্রমে ঠেলে না দিয়ে child-sensitive social protection চালু করা দরকার। নগদ সহায়তা, খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা উপবৃত্তি ও জরুরি livelihood support একসঙ্গে কাজ করতে পারে। তৃতীয়ত, জলবায়ু-প্ররোচিত অভিবাসনকে শিশু সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। একটি পরিবার স্থানান্তরিত হলে শিশুর স্কুল, জন্মনিবন্ধন, টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা যেন নষ্ট না হয়। চতুর্থত, উপকূলীয় বিদ্যালয়গুলোকে শুধু আশ্রয়কেন্দ্র নয়, climate-resilient learning centre হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে দুর্যোগের পর দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা যায়। পঞ্চমত, শিশুদের নিজের কণ্ঠস্বরকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশ করতে হবে। UNICEF-এর ২০২৫ সালের Child Rights Manifesto-তেও জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের জন্য নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল স্কুল, স্বাস্থ্য, পানি ও স্যানিটেশন সেবার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শেষ কথা: “মা গো আমায় ছুটি দিতে বল্”

এমন সহশ্র শিশুর হজার রকমের জীবনের বাস্তব গল্প। কিন্তু তাদের গল্পের ভেতর একই প্রশ্ন: জলবায়ু পরিবর্তনের দায় শিশুদের না। তাহলে এর সবচেয়ে বড় মূল্যটাও কেন তাদের শৈশবকে দিতে হবে? একটি ঘূর্ণিঝড়ের পর ঘর আবার বানানো যায়। ভেঙে যাওয়া বাঁধ আবার মেরামত করা যায়। লবণাক্ত পানির জায়গায় একদিন নিরাপদ পানিও পৌঁছাতে পারে। কিন্তু একটি শিশুর হারিয়ে যাওয়া স্কুলের দিন, হারিয়ে যাওয়া খেলাধুলা, হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন এবং সাদা খাতার পাতায় না লেখা গল্পগুলো কি এত সহজে ফিরিয়ে আনা যায়? নোমানের কথায় ফিরে তাকালে উত্তরটা আরও ভারী হয়ে আসে: “যখন আমি সাগর থেকে মাছ ধরে ঘাটে ফিরি, নৌকা থেকে মাছ নামাই, তখন দেখি আমার বন্ধুরা খালের পাড়ে খেলছে। তখন আমার খুব ইচ্ছে হয়, ইস, আমিও যদি ছুটে গিয়ে তাদের সঙ্গে খেলতে পারতাম! বন্ধুদের সঙ্গে দৌড়াদৌড়ি করতে পারতাম, সন্ধ্যা নামা পর্যন্ত নদীতে ঝাঁপাঝাঁপি করতে পারতাম।” উপকূলের শিশুদের জন্য জলবায়ু অভিযোজনের আসল সাফল্য হয়তো সেদিনই হবে, যেদিন কোনো শিশুকে আর নিজের শৈশবের কথা অতীত কালের ভাষায় বলতে হবে না। 

লেখক:  নাদিম মোর্শেদ, রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট, সোশিওলোজি এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্লাবন কুমার, ডেটা কনসালটেন্ট

বিশ্বসেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় গোবিপ্রবির দুই শিক্ষকসহ ত…
  • ০৯ অক্টোবর ২০২৬
পবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতি রাতুলের সাংগঠনিক পদ স্থগিত
  • ০৯ অক্টোবর ২০২৬
১৩তম গ্রেডের তিন পদে আবেদনের সুযোগ চান ইবতেদায়ীর শিক্ষকরা, …
  • ০৯ অক্টোবর ২০২৬
ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি মেডিসিনের সিরিয়াল মিলবে অনলাইনে, শুরু ১…
  • ০৯ অক্টোবর ২০২৬
এনসিসি ব্যাংকে ৪ পদে জনবল নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
  • ০৯ অক্টোবর ২০২৬
লবণজলে অবারিত স্বপ্ন, লবণাক্ত শৈশব
  • ০৯ অক্টোবর ২০২৬