কওমি শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ সরকারের

কওমি মাদ্রাসা
কওমি মাদ্রাসা  © ফাইল ফটো

কওমি মাদ্রাসার প্রায় ১৭ লাখ শিক্ষার্থীকে কর্মমুখী, সাধারণ ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিতে চায় সরকার। এর আওতায় শিক্ষার্থীদের কারিগরিসহ কোর কারিকুলাম অনুযায়ী লেখাপড়ার সুযোগ থাকবে। সরকারের এ উদ্যোগে কওমি মাদ্রাসার অনেকের সম্মতি থাকলেও সংশ্লিষ্ট আলেমদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে মক্তব, ফোরকানিয়া ও কোরানিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় ১৪ হাজার ৯৩১টি মাদ্রাসা রয়েছে। এগুলোয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ। তবে এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীদের বেকারত্ব নিরসনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে কর্মমুখী শিক্ষার সম্প্রসারণে এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা ১৭ লাখ শিশু-কিশোরকে পেছনে ফেলে এগুতে চাই না। তারা নির্দিষ্ট পেশায় থাকলে কর্মসংস্থান হবে না। আগে তারা আসতে চায়নি এখন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, একটা অংশ আসতে চাইছে। বেশিরভাগ দরিদ্র বাবা-মা সন্তানদের লেখাপড়া করিয়ে উপার্জনের জন্য কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছে। অভিভাবকরা সন্তানদের কর্মহীন জীবন চান না, সে জন্যই কর্ম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কারিগরির বিস্তার করছি। কাজেই ওরাও আসবে। তবে পরিবর্তন তাড়াতাড়ি হবে না, ধৈর্য ধরতে হবে। একমুখী শিক্ষা নিয়ে আসছি আমরা। আমরা মাদ্রাসা বিলুপ্ত করতে পারবো না, স্কুলও বিলুপ্ত করে দিতে পারবো না। যা করতে পারি—একটি কোর কারিকুলাম সবাই পড়াবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভর্তিতে কোর বিষয়ে  ভর্তি পরীক্ষা নিলেই হবে। এতে সবাই উচ্চশিক্ষারও সুযোগ পাবেন।’

এ প্রসঙ্গে আল হাইআতুল উলইয়া লিল জামিআতিল কওমিয়্যাহর সদস্য মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ‘সরকারের উদ্যোগ ভালো। তবে কওমির আলেমদের সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপগুলো নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ কওমি শিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিতে আলেমদের নিকট থেকে প্রস্তাবনা আসলে ভালো হবে বলে মনে করেন তিনি।


মন্তব্য