ইবতেদায়ী শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের করণীয়

২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৬ PM , আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৭ PM
ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা

ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা © সংগৃহীত

মানসম্মত ইবতেদায়ী শিক্ষা: নৈতিকতা, জ্ঞান ও দক্ষতাভিত্তিক প্রজন্ম গড়ার ভিত্তি— ইবতেদায়ী শিক্ষা শিশুর প্রাথমিক জ্ঞান, নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ভিত্তি তৈরি করে। তাই এ স্তরের শিক্ষার মানোন্নয়ন শুধু মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ন নয়; বরং একটি আদর্শ, দক্ষ ও নৈতিক প্রজন্ম গঠনের গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। বর্তমানে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার জন্য ২০২৫ সালের এমপিও নীতিমালা এবং পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা রয়েছে—এগুলোকে কার্যকর বাস্তবায়নের পাশাপাশি মানোন্নয়নমূলক উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। 

ইবতেদায়ী শিক্ষার জন্য পৃথক উন্নয়ন পরিকল্পনা— সরকারের উচিত ইবতেদায়ী শিক্ষার জন্য স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা। 

যোগ্য ও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ— যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা। শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত যৌক্তিক পর্যায়ে আনা। শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা। শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ

শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে— শিশুবান্ধব শিক্ষাদান পদ্ধতি; আধুনিক শিক্ষণ কৌশল; আরবি ও বাংলা ভাষা শিক্ষা; গণিত ও ইংরেজি শিক্ষাদান; তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার; মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা; আধুনিক ও যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম।

পাঠ্যক্রমে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি ও জীবনদক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরও মাদ্রাসা শিক্ষাকে বাস্তবমুখী, আধুনিক ও জীবনদক্ষতাভিত্তিক করার লক্ষ্য উল্লেখ করেছে। 

ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষা উপকরণ

প্রয়োজন অনুযায়ী ইবতেদায়ী মাদ্রাসায়— মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম; কম্পিউটার/ট্যাব; ইন্টারনেট সুবিধা; ডিজিটাল কনটেন্ট; বিজ্ঞান ও গণিতের শিক্ষা উপকরণ;    সরবরাহ করা যেতে পারে।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত অবকাঠামো— শ্রেণিকক্ষ, নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন, খেলার মাঠ, পাঠাগার ও শিক্ষক কক্ষ নিশ্চিত করা জরুরি।

শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা— শিক্ষকদের সম্মানজনক বেতন-ভাতা ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে মেধাবী শিক্ষকরা এ পেশায় আগ্রহী হবেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার এমপিওভুক্তির জন্য অর্থ বরাদ্দের কথা সরকারিভাবে জানানো হয়েছে।

এমপিও নীতিমালার সহজ ও বাস্তবসম্মত বাস্তবায়ন

এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে— প্রকৃত প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতকরণ; শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসংখ্যা যাচাই; অবকাঠামো মূল্যায়ন; স্বচ্ছ অনলাইন প্রক্রিয়া; নিশ্চিত করা দরকার। ২০২৫ সালের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী এমপিও নীতিমালা ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। 

শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও উপবৃত্তি বৃদ্ধি— মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি, উপবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ ও পোশাক সহায়তা বাড়ানো যেতে পারে। পঞ্চম শ্রেণির ইবতেদায়ী বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালাও ইতোমধ্যে রয়েছে। 

শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ঝরে পড়া রোধ— প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ঝরে পড়া রোধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।

নিয়মিত একাডেমিক পরিদর্শন ও মূল্যায়ন— শুধু প্রশাসনিক পরিদর্শন নয়; বরং শ্রেণিকক্ষে প্রকৃত পাঠদান, শিক্ষার্থীর শিখনফল ও শিক্ষকের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।

অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা— অভিভাবক সমাবেশ, মতবিনিময় সভা এবং স্থানীয় শিক্ষা-সচেতন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে।

পাঠাগার ও বই পড়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলা— প্রতিটি ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় ছোট হলেও একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা জরুরি।

শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা— শিক্ষার্থীদের প্রতি স্নেহ, ভালোবাসা ও সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। শারীরিক ও মানসিক শাস্তির পরিবর্তে উৎসাহ, পরামর্শ ও ইতিবাচক শিক্ষণ পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত।

তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক প্রশাসন— শিক্ষার্থী, শিক্ষক, উপস্থিতি, ফলাফল, অবকাঠামো ও আর্থিক তথ্যের জন্য সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা যেতে পারে। ইবতেদায়ী মাদ্রাসা স্থাপনের আবেদনও বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ রয়েছে। 

শিক্ষার মানের সঙ্গে জবাবদিহিতা যুক্ত করা— প্রতিষ্ঠানের অর্থ বরাদ্দ, শিক্ষক উপস্থিতি, পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের ফলাফল—সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য ২০২৬ সালের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতিমালাও তালিকাভুক্ত রয়েছে। 

মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশেষ পরিচর্যা— মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত অনুশীলন, বৃত্তি প্রস্তুতি, কুইজ, বিতর্ক, কুরআন-হাদিস ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে।

ইবতেদায়ী ও পরবর্তী স্তরের মধ্যে সমন্বয়— ইবতেদায়ী স্তর থেকে দাখিল স্তরে শিক্ষার্থীদের মসৃণ উত্তরণের জন্য কারিকুলাম, মূল্যায়ন ও শিক্ষণ পদ্ধতিতে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ইবতেদায়ী শিক্ষা হচ্ছে একটি শিশুর জ্ঞান, চরিত্র ও ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ভিত্তি। তাই শুধু অবকাঠামো বা অর্থ বরাদ্দ নয়—যোগ্য শিক্ষক, যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ, আর্থিক নিরাপত্তা, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং জবাবদিহিতা—এই সবগুলো বিষয়কে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলেই ইবতেদায়ী মাদ্রাসা একটি মানসম্মত, আধুনিক ও আদর্শ প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

লেখক: সাবেক অধ্যক্ষ, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা (মূল ক্যাম্পাস-যাত্রবাড়ী)

আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি শিক্ষক নিয়োগ দেবে বিভিন্ন বিভাগে, …
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
বাদ পড়া শিশুদের নিয়ে হামের টিকাদান কর্মসূচি সেপ্টেম্বরে
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
কাভার্ড ভ্যান-অটোরিকশার সংঘর্ষে প্রাণ গেল শিশুর
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
চিকিৎসকদের সমালোচনার মুখে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিবির সভাপতি, ক…
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
ইবতেদায়ী শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের করণীয়
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
‎জাকসুর উদ্যোগে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা সরঞ্জা…
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬