ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ শামি। একবার নয়, একাধিকবার আত্মহননের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তাই অবসাদের যন্ত্রণাটা তিনি বোঝেন। তাই বন্ধু সুশান্তের অকাল প্রয়াণে আক্ষেপের সুর শামির গলায়। বলছেন, “যদি একবার ওর সঙ্গে কথা বলতে পারতাম।”
মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ ভারতীয় পেসার শামি বলছেন, সুশান্তের সঙ্গে দেখা একবার দেখা করা গেলে হয়তো তাঁর মনের কথা জানতে পারতেন। তাঁকে বোঝাতে পারতেন। শামি বলেন, “অবসাদ এমন একটা সমস্যা যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেই ব্যক্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার। এমন একজন প্রতিভাবান অভিনেতার চলে যাওয়াটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ও আমার ভাল বন্ধু ছিল। ওর সঙ্গে কথা বলে যদি মনের অবস্থাটা বুঝতে পারতাম, খুব ভাল হত।”
ভারতীয় পেসার বলেন, “মানসিক চাপ বাড়লে শরীরের উপরও তার প্রভাব পড়ে। এক্ষেত্রে অনেক সময় অন্যের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মিটতে পারে। খেলার মাঠেও এরকম হলে সতীর্থ ও সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে মাঠের বাইরে কথা বলতাম। আমায় সকলেই উৎসাহ দিত। আমরা সত্যিই একটা পরিবারের মতো ছিলাম। এবং ওই দুঃসময়টা পার করতে পেরেছি বলে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হয়।” তবে আক্ষেপ একটাই, সুশান্তের কোনও সাহায্য করতে পারলেন না।
শামি জানান, তিনিও জীবনের একটা সময় চূড়ান্ত অবসাদে ভুগেছেন। ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছিলেন। এমনকী আত্মঘাতী হওয়ার কথাও চিন্তা করেছেন। তবে সেই সময় তাঁর পাশে ছিল পরিবার। বাড়ির লোকেরাই সেই মুশকিল পরিস্থিতি থেকে শামিকে টেনে বের করে এনেছিলেন। বুঝিয়ে ছিলেন, তিনি ঠিক ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। আর এই কারণেই শামির মনে হচ্ছে, সেই কঠিন সময় সুশান্তও যদি কাউকে মনের কথাগুলো খুলে বলতে পারতেন, তাহলে হয়তো এভাবে চলে যেতে হত না তাঁকে।
কেন জীবন শেষ করে ফেলতে চেয়েছিলেন শামি? এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ‘২০১৫ সালের বিশ্বকাপে আমি যখন চোট পাই। সেই চোট সারাতে আমার আঠারো মাস সময় লেগে যায়। সেই সময়টা আমি খুব কষ্টের মধ্যে দিয়ে কাটিয়েছি। সেটাই ছিল আমার জীবনের অন্যতম কষ্টের সময়। এরপর কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে ২০১৮ সালে মাঠে ফিরে আসি। এবার অন্য সমস্যায় জড়িয়ে পড়ি। অস্ট্রেলিয়া সফর চলাকালীন স্ত্রী হাসিন জাহান আমার বিরুদ্ধে ঘরোয়া হিংসার অভিযোগ আনে। আদালত থেকে হুমকি সব মোকাবিলা করতে হয়েছে ।সেই সময় আমি তিনবার আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলাম। সেই সময় আমার পরিবার যদি আমার পাশে না থাকত তাহলে কোন খারাপ পদক্ষেপ নিয়ে ফেলতাম। সব হতাশা কাটিয়ে নতুন করে বাঁচার শক্তি পেয়েছিলাম পরিবারের জন্য। পরিবারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’