ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত। © সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তদন্তেপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজধানীর বংশাল ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর ইউনিটের দপ্তর সম্পাদক মো. রায়হান উদ্দিনসহ চারজনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি শেষে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন রিমান্ডের এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এরমধ্যে প্রধান আসামি রায়হানকে চার দিন এবং অপর তিন আসামিকে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রিমান্ডপ্রাপ্ত অন্য তিন আসামি হলেন—মো. রাসেল খান (৩২), মো. আলাউদ্দিন আহমেদ (২৮) এবং মো. আবদুল্লাহ মাসহুর আশরাফী (২০)।
এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হলে আসামিপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, ডিএমপির গোয়েন্দা (ওয়ারী) বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা আসামিদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
ওই আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং আসামিদের হেফাজতে থাকা অবশিষ্ট বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের জন্য তাদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগে বলা হয় , গত ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) রাতে যাত্রাবাড়ী থানাধীন ধোলাইপাড় ও যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক বক্সের সামনে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে মোঃ ইবাদুর রহমান (২৪) নামে এক পথচারী আহত হন। খবর পেয়ে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে এটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করে। এ ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্যাদি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩/৬ ধারায় যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে উল্লিখিত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযানে আসামিদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও ৪টি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়।