আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা © সংগৃহীত
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সাত বছরের শিশু সুমন হত্যা মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কাঁঠালগাছের পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ২০১১ সালে শিশুটিকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আবুল কাশেম, (৫০) মুকাদ্দেস(৪০) ও শপন (৩৫)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সরিষাবাড়ী উপজেলার মাগুরীয়াপাড়া এলাকায় বাড়ির সামনে কাঁচা রাস্তার দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে থাকা কাঁঠালগাছের পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে আসামিদের সঙ্গে বাদীর ভাবি সবুজা বেগমের তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে আসামিরা সবুজা বেগমকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।
তার চিৎকার শুনে বাদী বাবলু মিয়া ঘটনাস্থলে এগিয়ে গেলে তাকেও আসামিরা এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা বাবলু মিয়া ও তার ছেলে সাত বছরের শিশু সুমনকে একা পেলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
ওই দিন দুপুরের পর থেকে শিশু সুমন নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর সরিষাবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন পরিবারের সদস্যরা।
এরপর ৫ সেপ্টেম্বর সকালে খবর পাওয়া যায়, সরিষাবাড়ী থানার চাপারকোনা বাজারের পূর্ব পাশে ঝিনাই নদীতে ৭-৮ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ পানিতে ভাসছে। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শিশু সুমনের বলে শনাক্ত করেন। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
এ ঘটনায় সুমনের বাবা বাদী হয়ে সরিষাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার আদালত মামলার তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
রায়ের বিষয়ে এডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম দিদার বলেন, ‘মামলাটি দীর্ঘদিন বিচারাধীন থাকার পর বিজ্ঞ আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। আদালতের এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।’