‘প্রেমিকের মানসিক নিপীড়নে’ আত্মহত্যা করেন জবির অথৈ, মারা যান প্রেমিকও

২৫ জুলাই ২০২৬, ০১:০৬ PM , আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০১:০৬ PM
জবি শিক্ষার্থী প্রত্যাশা মজুমদার অথৈ ও প্রেমিক ইয়াছিন মজুমদার।

জবি শিক্ষার্থী প্রত্যাশা মজুমদার অথৈ ও প্রেমিক ইয়াছিন মজুমদার। © সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রত্যাশা মজুমদার অথৈয়ের আত্মহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তার প্রেমিক ইয়াছিন মজুমদারের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। তদন্তে ইয়াছিনের ধারাবাহিক মানসিক নিপীড়নকে আত্মহত্যার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এরই মধ্যে ইয়াছিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল রাজধানীর সূত্রাপুরের লক্ষ্মীবাজারের নন্দলাল লেনের একটি বাসায় আত্মহত্যা করেন সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী প্রত্যাশা মজুমদার অথৈ। পরদিন তার বাবা প্রণব মজুমদার সূত্রাপুর থানায় ইয়াছিন মজুমদারের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।

মামলার পরদিনই লালবাগের একটি রেস্তোরাঁয় কর্মরত ইয়াছিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কয়েক মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ২৬ এপ্রিল তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার এসআই আলমগীর হোসেন তদন্ত শেষে গত ১৯ মে ইয়াছিনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত ১৪ জুলাই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং মামলাটি বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, অথৈ ও ইয়াছিন চট্টগ্রামের একই এলাকায় বেড়ে ওঠেন এবং একই স্কুলে পড়াশোনা করতেন। ইয়াছিন দীর্ঘদিন ধরে অথৈকে প্রেমের প্রস্তাব দিলেও প্রথমদিকে তিনি সাড়া দেননি। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ঢাকায় আসার পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তদন্তে বলা হয়েছে, সম্পর্কের পর ইয়াছিন নিয়মিত মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অথৈকে অপমানজনক কথাবার্তা বলতেন এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। ঘটনার দিন ক্যাম্পাসে সংগীত উৎসবের মহড়ায় অংশ নেওয়া নিয়েও দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। মেসের সামনে ইয়াছিন তাকে গালাগাল ও অপমান করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলমগীর হোসেন বলেন, ইয়াছিনের ধারাবাহিক মানসিক নিপীড়ন সহ্য করতে না পেরে ওই দিন বিকেলে অথৈ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সুমন কুমার রায় দাবি করেন, সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় ইয়াছিনের মোবাইল ফোনে দুজনের ব্যক্তিগত একটি ছবি পাওয়া গেছে। ওই ছবি দেখিয়ে ইয়াছিন অথৈকে ভয়ভীতি দেখাতেন এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এসব কারণে তিনি আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, ইয়াছিন দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন এবং কয়েক দিন আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে। বিষয়টি পরবর্তী শুনানিতে আদালতকে অবহিত করা হবে।

এদিকে মেয়েকে হারানোর বেদনা প্রকাশ করে অথৈয়ের বাবা প্রণব মজুমদার বলেন, মেয়েকে নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে ভারতের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

নরেন্দ্র মোদি ভারতের অতীত: রাহুল গান্ধী
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
জুলাই আন্দোলনে ৭.৬২ গুলি ও স্নাইপার ব্যবহারের অভিযোগ, তদন্ত…
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহর নির্দেশে…
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
শিক্ষক-ছাত্রীদের ছবি-ভিডিও-ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে আপত্তিকর পোস…
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
আইইউটি আর্গুমেন্টাম সফলভাবে সম্পন্ন, অংশ নিলেন আড়াই হাজারের…
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
মামা ছাত্রাবাসে গিয়ে দেখলেন কলেজছাত্র ভাগনের মরদেহ ঝুলছে
  • ২৫ জুলাই ২০২৬