সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। © টিডিসি সম্পাদিত
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগের উদ্যোগ নিতে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
বুধবার (২২ জুলাই) রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ আবেদন জানান। তিনি বলেন, আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকায় মামলার জট বাড়ছে এবং বিচারপ্রার্থীরা দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন অনুযায়ী আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন। তবে বর্তমানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও বিচারপতির সংখ্যা সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি।
শিশির মনিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে আপিল বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয় চারজন বিচারপতি এবং ৪ হাজার ৫৬টি বিচারাধীন মামলা নিয়ে। তখন দেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬ কোটি ৪৩ লাখ। বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৮১ লাখ এবং আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩৮ হাজার ৭১৩টিতে পৌঁছেছে। অথচ বর্তমানে বিচারপতির সংখ্যা মাত্র চারজন।
তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সালে ১১ জন বিচারপতির বিপরীতে বিচারাধীন মামলা ছিল ৫ হাজার ২৬০টি। ২০২৪ সালে বিচারাধীন মামলা বেড়ে ৩১ হাজার ১২০টিতে পৌঁছালেও বিচারপতি ছিলেন মাত্র আটজন। ফলে মামলার তুলনায় বিচারপতির সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়।
চিঠিতে তিনি বিশেষায়িত আইনশাখার বিস্তারের বিষয়টিও তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত মামলা নিষ্পত্তির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চ গঠন প্রয়োজন। কিন্তু বিচারপতির স্বল্পতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রতিবেশী ভারতের উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের মে মাসে দেশটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির অনুমোদিত সংখ্যা ৩৪ থেকে বাড়িয়ে ৩৮ করেছে।
বিচারাধীন মামলার জট কমানো এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আপিল বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান জানান মোহাম্মদ শিশির মনির।
চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে।