নারী-শিশু নির্যাতন মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ, খালাস ৭০

০৩ মে ২০২৬, ০৯:১২ AM , আপডেট: ০৩ মে ২০২৬, ০৯:১৪ AM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © টিডিসি এআই সম্পাদিত

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ায় এক উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া মামলার মধ্যে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রেই আসামিরা খালাস পাচ্ছেন, যেখানে সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা এবং তা নিরসনের উপায়’ শীর্ষক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার (২ মে) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় গবেষণার এই পর্যবেক্ষণসমূহ উপস্থাপন করা হয়। সাবেক জেলা ও দায়রা জজ উম্মে কুলসুমের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের ৩২টি জেলার ৪২টি ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া ৪ হাজার ৪০টি মামলার নথি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও বাস্তবে একটি মামলা শেষ হতে গড়ে তিন বছর সাত মাস বা এক হাজার ৩৭০ দিন সময় লাগছে। এই দীর্ঘ সময়ে প্রতিটি মামলায় গড়ে অন্তত ২২ বার শুনানির তারিখ পড়ছে। এছাড়া ১০ শতাংশ মামলা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হচ্ছে, যা ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে সড়কে প্রাণ গেল সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রের

বিচারের এই ধীরগতি ও সাজার নিম্ন হারের পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—বিলম্বিত তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া, সাক্ষী ও অভিযোগকারীর অনুপস্থিতি, দুর্বল প্রমাণ ব্যবস্থা, ফরেনসিক ও ডিএনএ রিপোর্ট পেতে দেরি এবং সাক্ষী সুরক্ষার অভাব। পাশাপাশি তদন্তের নিম্নমান, নিষিদ্ধ ‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’ পদ্ধতির ব্যবহার, সামাজিক চাপ, আইনি অজ্ঞতা এবং আসামিদের প্রভাব বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিচার বিভাগের সক্ষমতা ও বাজেট বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। মন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে জানান, পুরো বিচার বিভাগের বাজেট যেখানে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা, সেখানে শুধু বিটিভির বরাদ্দই প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সীমিত বাজেটে অবকাঠামো ও প্রশাসনিক খরচ মেটানো বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বিচার বিভাগের বাজেট বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা এবং আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন। স্বাগত বক্তব্যে ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব বলেন, দেশে নারীর প্রতি সহিংসতা এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা এবং জরিপ অনুযায়ী প্রায় ৯০ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সহিংসতার শিকার হন। অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগ, মানবাধিকার সংগঠন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

৩ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট
  • ১২ জুলাই ২০২৬
ঢাবির আট বিভাগ তিনটি করার প্রস্তাব থেকে সরল প্রশাসন
  • ১২ জুলাই ২০২৬
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের
  • ১২ জুলাই ২০২৬
ছয় মাসে দেশে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৬০ শিক্ষার্থী
  • ১২ জুলাই ২০২৬
সাইরেন বাহরাইনে, কাতারে সর্বোচ্চ সতর্কতা-সবাইকে ঘরে থাকার ন…
  • ১২ জুলাই ২০২৬
কক্সবাজারে পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু
  • ১২ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence