বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন 

হজ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম-দুর্নীতি, কোরবানির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

২০ জুন ২০২৬, ১০:০৬ AM
পবিত্র কাবা শরীফ

পবিত্র কাবা শরীফ © বিবিসি বাংলা

"হজ করে আসলে মনের সন্তুষ্টির একটা বিষয় থাকে। কিন্তু আমাদের তো সেই অসন্তুষ্টিই রয়ে গেলো। এখন কী এই অসন্তুষ্টি নিয়েই বাকিটা জীবন পার করতে হবে?," আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন হজ করে সদ্য দেশে ফেরা নজরুল ইসলাম খান।

চাকরির পেনশনের টাকাসহ বছরের পর বছর ধরে জমানো অর্থ খরচ করে স্ত্রীকে নিয়ে সম্প্রতি তিনি সৌদি আরব গিয়েছিলেন হজ করতে।

কিন্তু হজ শেষে মি. খানের মনে সন্দেহ জন্মে যে, বেসরকারি যে ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তিনি হজে গিয়েছিলেন, পশু কোরবানি না করে তারা সেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

ফলে হজ সম্পন্ন হয়েছে কি-না, সেটি নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন ষাটোর্ধ্ব এই প্রবীণ।

"এজেন্সি আমাদের বলেছিল যে, কোরবানি হয়ে গেছে, আপনারা এখন মাথা ন্যাড়া করে ফেলেন। তো আমরা সেটা করলাম। পরে রাতে আমাদের সাথে কিছু ইয়াং ছেলে যারা ছিল, তারা সৌদি সরকারের ডিজিটাল সিস্টেম চেক করে দেখে আমাদের কোরবানির কোনো তথ্য সেখানে নেই," বলেন মি. খান।

এ ঘটনার পর তিনিসহ অন্য হাজিরা হজ এজেন্সির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

"সেখানে আমরা আমাদের এজেন্সি আল মুলতাজিমের মালিক ফরিদ সাহেবকে এটার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করি, কিন্তু তিনি যথাযথভাবে সদুত্তর দিতে পারেননি," বলেন ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মি. খান।

বাংলাদেশ থেকে এর আগে যারা হজ করতে যেতেন, তারা চাইলে নিজেরাই পশু কিনে কোরবানি দিতে পারতেন। কিন্তু চলতি বছর থেকে নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে কোরবানির কার্যক্রম পরিচালনা করা বাধ্যতামূলক করেছে সৌদি সরকার।

এক্ষেত্রে কোরবানি ঠিকঠাক হয়েছে কি-না, অ্যাপে সেটি দেখার সুযোগ রাখা হয়েছে। হজযাত্রীরা সহজেই যেন সেই তথ্য দেখতে পারেন, সেলক্ষ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এজেন্সিগুলোর প্রতি নির্দেশনা দিয়ে হজের আগে একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করে বাংলাদেশ সরকার।

কিন্তু অনেক এজেন্সি সেই নির্দেশ মানেনি। ফলে কোরবানি হয়েছে কি-না, সেটি নিয়ে হাজিদের অনেকের মধ্যেই সন্দেহ রয়ে গেছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হাজিদের মধ্যে অনেকেরই হজের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নেই। এটাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে অনেক এজেন্সি অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়াচ্ছে।

এক্ষেত্রে কোরবানির টাকা নিলেও তারা যখন হজযাত্রীদের নাম নিবন্ধন করছে, তখন বিভিন্ন এজেন্সি তাদের অন্য ক্যাটাগরিতে ফেলছে; যে হজের জন্য বা যাদের জন্য পশু কোরবানি আবশ্যক নয়।

আবার হজ পালনকালে কোনো ভুল হলে বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে সেটি শুদ্ধ করার জন্য অতিরিক্ত একটি কোরবানি দেওয়ার যে বিধান রয়েছে, সেটির টাকাও অনেকের কাছ থেকে হজের আগেই কেটে রাখা হচ্ছে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে হজযাত্রীদেরকে এজেন্সির কর্মী হিসেবে দেখানোর ঘটনাও ঘটছে।

এগুলো নিয়ে হাজিদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেলেও নজরদারী করে সব এজেন্সিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারছে না ধর্ম মন্ত্রণালয়।

"তাহলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কী কাজ করেন? তাদেরকে রাখার প্রয়োজনটা কী যদি তারা এগুলো ঠিকঠাক তদাকরি করতে না পারেন," ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন সদ্য হজ শেষে দেশে ফেরা নজরুল ইসলাম খান।

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর যারা হজে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে কে কোন হজ করছেন, সেটির সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই সরকারের কাছে। ফলে কোনো ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা ঘটলে সেটার বিষয়ে অভিযোগ না পাওয়া পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়ার খুব একটা নজির নেই বলে জানাচ্ছেন কর্মকর্তারা।

"হাজিদের মধ্যে কেউ যদি অনিয়ম-দুর্নীতির শিকার হয়ে থাকেন, সেটার বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ অবশ্যই আছে। কিন্তু সেজন্য সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে আমাদের কাছে আসতে হবে। অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব আয়াতুল ইসলাম।

এক হজের কথা বলে আরেক হজ
হজ মৌসুমে তিন ধরনের হজ পালন করে থাকেন মুসলমানরা। সেগুলো হলো: তামাত্তু, কিরান এবং ইফরাদ হজ।

এর মধ্যে তামাত্তু হজে ওমরা শেষে হজ পালন করা হয়। আর কিরান হজে একই ইহরামে ওমরাহ ও হজ সম্পন্ন করতে হয়।

এই দুই হজের ক্ষেত্রেই পশু কোরবানি দিতে হয়। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কেউ কোরবানি দিতে না পারলে সেটার পরিবর্তে রোজা রাখারও বিধান আছে।

অন্যদিকে, ইফরাদ হজে ওমরা নেই। এক্ষেত্রে হাজিরা শুধুমাত্র মূল হজ পালন করেন এবং তাদের জন্য পশু কোরবানির বাধ্যবাধকতা নেই।

কিন্তু বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর যারা হজে যান, তাদের মধ্যে অনেকেরই হজের এসব প্রকার সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নেই।

ফলে এটাকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে এজেন্সিগুলো অনিয়মের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

"আমি যে কাফেলার সঙ্গে গিয়েছি, তাদের মধ্যে একজনও পাইনি যিনি ইফরাদ হজ করেছেন। অথচ এজেন্সি সৌদি সরকারকে যে তথ্য দিয়েছে, সেখানে তারা শতাধিক ব্যক্তিকে ইফরাদ হাজি হিসেবে দেখিয়েছে," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন সানজিদুল আলম।

পেশায় চিকিৎসক মি. আলম থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। মাস দুই আগে তিনি দেশে ফিরেছিলেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে হজ করার উদ্দেশ্যে।

তিনি যে এজেন্সির মাধ্যমে হজে গিয়েছিলেন, সেটির নাম আল মূলতাজিম হজ কাফেলা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুর।

এই এজেন্সিটি তাদের ৮০ জন হজযাত্রীকে সৌদি আরব পাঠিয়েছিল চট্টগ্রামভিত্তিক দূয়ুফুর রহমান ট্রাভেলস নামের আরেকটি বড় এজেন্সির মাধ্যমে।

চলতি বছর দূয়ুফুর থেকে প্রায় ২২০০ জনকে হজে পাঠানো হয়েছে।

তাদের মধ্যে কোরবানির টাকা জমা দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৩৫০ জনের নামে। বাকি ৮৫০ জন কোরবানি দিতে চাননা বলে সৌদি সরকারকে জানিয়েছে এজেন্সিটি।

কিন্তু হজ অফিসের কর্মকর্তারা নিজেরাই জানাচ্ছেন যে, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হজযাত্রীদের মধ্যে কম ব্যক্তিই কোরবানি ছাড়া হজ পালন করে থাকেন।

"আমরা জানি এবং সকলেই জানে যে, বাংলাদেশের অধিকাংশ লোকজনই তামাত্তু হজ করে। কিছু ক্ষেত্রে ইফরাদ বা অন্য হজ করে। তবে সেই সংখ্যাটা খুবই কম," বলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়াতুল ইসলাম।

ফলে হাজিদের মধ্যে সন্দেহ জন্ম নিয়েছে যে, তামাত্তু হজের কথা বলে এজেন্সিগুলো তাদেরকে সৌদি আরবে নিয়ে ইফরাদ হজে নিবন্ধন করেছে।

"আর ইফরাদ হজে যেহেতু কোরবানি বাধ্যতামূলক না, সেজন্য কোরবানি না দিয়ে তারা আমাদের টাকাটা আত্মসাৎ করেছে বলে মনে হচ্ছে," বলেন নজরুল ইসলাম খান।

আবার কোনো কোনো হাজিকে এজেন্সি তাদের কর্মী হিসেবে দেখিয়েছে।

"আমাদের সাথে যারা হজে গিছিলেন, তাদের অনেকের সাথেই এটা ঘটেছে," বলছিলেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা আরাফাত রহমান।

যদিও প্রথমদিকে তারা কেউই বিষয়টি ধরতে পারেননি বলে জানান তিনি।

"পরে লিস্টে যখন দেখা গেল যে, হাজিদেরকেই এজেন্সি তাদের কর্মী ও গাইড হিসেবে দেখিয়েছে, তখন আমরা এজেন্সিকে ধরলাম। কিন্তু তারা বলতেছে যে, এটা ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে," বলেন মি. রহমান।

'চারটা কোরবানির টাকা নিছে'
বাংলাদেশ থেকে এবছর যারা হজ করতে গেছেন, তাদের অনেকের কাছ থেকেই নানান অজুহাতে বাড়তি অর্থ নিয়েছে।

এক্ষেত্রে মূল প্যাকেজের বাইরে কোরবানির জন্য অতিরিক্ত অর্থ যেমন নেওয়া হয়েছে, তেমনি হজের আগেই 'ভুলের দম' বাবদ বাড়তি আরেকটি কোরবানির টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

হজ পালনের ক্ষেত্রে কোনো ভুল হলে অতিরিক্ত একটি পশু কোরবানি দেওয়ার নিয়ম ইসলামে রয়েছে, যা 'ভুলের দম' নামে পরিচিত।

এটি সাধারণ হজের পরে দিতে হয়। কিন্তু অনেক এজেন্সি হজের আগেই ওই কোরবানির অর্থ নিয়েছে।

এছাড়া সরকার নির্ধারিত হজ প্যাকেজের মূল্যের চেয়ে বেশি অর্থ দিয়ে হজে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

"সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সাড়ে ছয় লাখের প্যাকেজের মধ্যেই কোরবানি অর্ন্তভূক্ত থাকার কথা। কিন্তু আমাদের এজেন্সি কোরবানি ছাড়াই নিছে ছয় লাখ ৭০ হাজার টাকা," হজ শেষে দেশে ফিরে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন একেএম আহসানুজ্জামান।

এরপর একটা হজের কোরবানি আর একটা হজের দমের টাকা নিয়েছে বলে জানান তিনি।

"আমাদের পরিবার থেকে আমরা চারজন হজে গিছিলাম এবং প্রত্যেকের কাছ থেকেই ওরা প্রায় চারটা কোরবানির টাকা নিছে," যোগ করেন মি. আহসানুজ্জামান।

কিন্তু তারপরও তাদের নামে কোরবানি দেওয়া হয়েছে কি-না, সেটি নিয়ে সন্দিহান ঢাকার বনশ্রী এলাকার এই বাসিন্দা।

"কারণ ওরা কোরবানির কোনো প্রমাণ আমাদের দেখাতে পারেনি। কেবল মুখে মুখেই বলে যাচ্ছে যে, কোরবানি ঠিকঠাক হয়ে গেছে," বলেন মি. আহসানুজ্জামান।

তথ্য নেই নুসুক অ্যাপে
পশু কোরবানি হওয়া নিয়ে হাজিদের কারো কারো মধ্যে যে সন্দেহ দেখা যাচ্ছে, সেটির মূল কারণ সরকারি নির্দেশনা থাকার পরও নুসুক অ্যাপে কোরবানির তথ্য যুক্ত না করা।

গত সাতই মে প্রকাশিত ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়,

"হজ মৌসুমে বাংলাদশে থেকে আগত হজযাত্রীদের কোরবানি (আদাহি) কার্যক্রম নুসুক মাসার সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।"

সেখানে আরো বলা হয়, কোরবানি সম্পন্ন হওয়ার তথ্যও অ্যাপটিতে সংযুক্ত করতে হবে, যাতে হাজিরা সহজেই সেটি দেখতে পারেন।

কিন্তু এজেন্সিগুলোর সবাই এই নির্দেশনা মানেনি।

"অথচ মক্কায় থাকতেই আমরা অন্য দেশের হাজিদের দেখেছি যে, তারা নুসুক অ্যাপের মাধ্যমেই কোরবানির সব তথ্য পাচ্ছেন। কখন কোথায় কোরবানি দেওয়া হয়েছে, সব ডিটেইল সেখানে দেখা যাচ্ছে। অথচ আমরা পারছি না। এটা দেখার পর আমাদের সন্দেহ আরও পোক্ত হয়েছে," বলছিলেন সানজিদুল আলম।

এজেন্সি গুলোর এসব কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে মি. খানসহ আরও কয়েকজন হাজি মক্কায় থাকতেই সেখানকার বাংলাদশে হজ অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ তদন্তে পরবর্তীতে অভিযুক্ত এজেন্সিগুলোর কর্মকর্তাদের ডেকে পাঠানো হয়।

এরপর যে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে অভিযোগকারী হাজিদের মধ্যে নজরুল ইসলাম খানসহ আরো বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

"সেখানে হজ অফিসের কর্মকর্তারা আমাদের অভিযোগগুলোর বিষয়ে এজেন্সির লোকদের কাছে ব্যাখ্যা চান, কিন্তু তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি," বলেন মি. খান।

সমঝোতার চেষ্টা
দেশে ফেরার পর অভিযোগকারী হাজিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে অভিযুক্ত এজেন্সিগুলো।

"হজ প্যাকেজের চেয়ে অতিরিক্ত যে অর্থ ওরা নিয়েছিল, এখন সেটা ফেরত দিতে চাচ্ছে। তবে শর্ত হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ তুলে নিয়ে সেই মর্মে একটা কাগজে সই দিতে হবে," বলছিলেন সদ্য হজ করে আসা একেএম আহসানুজ্জামান।

গত ১৬ই জুন বিকেলে এজেন্সির প্রতিনিধিরা মি. আহসানুজ্জামানের বনশ্রীর বাসায় যান। খবর পেয়ে বিবিসি বাংলাও সেখানে উপস্থিত হয়।

সেখানে গিয়ে আল মূলতাজিম হজ কাফেলা ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরসের স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমদের কাছে কোরবানির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সেটি অস্বীকার করেন।

"আমরা কোনো টাকা আত্মসাৎ করিনি। ৮০ জনের মধ্যে আমরা ৭৫ জনের কোরবানির টাকা জমা দিয়েছি আমাদের লিড এজেন্সি দূয়ুফুর রহমান ট্রাভেলসের কাছে," বলেন মি. আহমদ।

বাকি যে পাঁচজনের কোরবানি দেওয়া হয়নি, তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে এজেন্সির এই কর্মকর্তা দাবি বলেন, তারা এজেন্সিটির কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং সবাই ইফরাদ হজ করেছেন।

তবে হজের আগেই দমের টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি।

"এটা আমরা আগেই নিয়েছি, কারণ এখানে বাংলাদশে থেকে না নিয়ে গেছে ওইখানে (সৌদি আরবে) আমরা কারেন্সি কীভাবে নিয়ে যাবো। সেজন্য দেশে থাকতেই নিছি," বলেন মি. আহমদ।

দমের টাকা ফেরত দেওয়ার শর্ত হিসেবে অভিযোগ তুলে নেওয়ার চাপের কথা অস্বীকার করেন আল মূলতাজিমের কর্ণধার।

"এটা চাপের কিছু না। আমরা কোনো অন্যায় করিনি। যেটা হয়েছে, সেটা ভুল বোঝাবুঝি। সেজন্য সই নিয়ে টাকা ফেরত দিচ্ছি। সই নিচ্ছি, কারণ তারা হজ অফিসে অভিযোগ করেছে। এটা তুলে না নিলে আমাদের সমস্যা হবে," বলেন মি. আহমদ।

হাজিদের মধ্যে যারা লিখিত অভিযোগ করেছেন, তারা কোরবানির তথ্য-প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত অভিযোগ তুলবেন না বলে জানান।

"আমরা চাই এ ধরনের সমস্যার মধ্যে যেন ভবিষ্যতে আর কেউ না পড়ে," বলছিলেন আহসানুজ্জামান।

কী বলছে অভিযুক্ত এজেন্সিগুলো?
আল মূলতাজিম বলছে যে, কোরবানির প্রমাণ দিতে পারবে, তাদের লিড এজেন্সি দূয়ুফুর রহমান ট্রাভেলস।

বিষয়টি নিয়ে এজেন্সিটির কর্ণধার আব্দুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, সকল প্রমাণ তাদের কাছে আছে।

"কারো যদি জিজ্ঞাসা থাকে, তাহলে অবশ্যই আমরা সেটা দেখাবো। কিন্তু একজন একজন করে তো দেখানো সম্ভব না…মন্ত্রণালয় করতে চাইলে তাদেরকে দিবো," বলেন মি. রহমান।

সরকারের নির্দেশনা থাকার পরও নুসুক অ্যাপে কোরবানির তথ্য কেন দেওয়া হয়নি?

জবাবে দেশের অন্যতম বড় হজ এজেন্সি এই মালিক বলেন, "হঠাৎ করে নতুন নিয়ম করায় এটা সম্ভব হয়নি। এটার জন্য যে আইটি ম্যান লাগবে, সেটা এখন নাই। দ্রুতই নিয়োগ দিবো, তখন পরের বার থেকে আর সমস্যা হবে না।"

এছাড়া ২২০০ হজযাত্রীর মধ্যে সাড়ে আটশ' জনের কোরবানি না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মি. রহমান দাবি করেন, ওই হাজিরা তাদের কাছে কোরবানির টাকা দেননি।

"তারা হয়তো নিজেরাই আলাদাভাবে কোরবানি দিতে চেয়েছে। কিন্তু যেহেতু সৌদি সরকারের কাছে তাদেরকে একটা ক্যাটাগরিতে দেখাতে হবে, সেজন্য আমরা কোরবানি ছাড়াই দেখিয়েছি," বলেন মি. রহমান।

তবে ঠিক কারা কোরবানি দেননি, তাদের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি তিনি। ধর্ম মন্ত্রণালয় চাইলে তথ্য দিবেন বলে জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে সরকার অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা সাড়ে সাতশ'রও বেশি। এসব এজেন্সির মাধ্যমেই প্রতিবছর বেশিরভাগই মানুষ হজে যান।

চলতি বছর যে সাড়ে ৭৮ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরব গিয়েছেন, তাদের মধ্যেও প্রায় ৭৪ হাজারই গেছেন বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে।

কিন্তু তাদের মধ্যে ঠিক কতজন কোরবানির অর্থ জমা দিয়েছেন এবং তাদের সবার কোরবানি ঠিকঠাক হয়েছে কি-না, এখন পর্যন্ত সেটির সঠিক তথ্য নেই মন্ত্রণালয়ের কাছে।

ফলে একটি বিকল্প উপায় ছিল সৌদি সরকারের নুসুক অ্যাপ। কিন্তু এজেন্সেগুলোর সবাই সরকারি নির্দেশ মেনে কোরবানির তথ্য সেখানে সংযুক্ত না করায় হাজিদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

এক্ষেত্রে যেসব এজেন্সি সরকারি নির্দেশ মানেনি, তাদের বিষয়ে কী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

"নির্দেশনা না মানলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে," বলেন অতিরিক্ত সচিব আয়াতুল ইসলাম।

কিন্তু কোন এজেন্সি এই নির্দেশনা মানেনি, সেটা বের করার কার্যকর কোনো উপায় এখন পর্যন্ত সরকারের কাছে নেই।

"আপাতত আমরা হাজিদের অভিযোগের ভিত্তিতেই কাজ করছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে," বলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মি. ইসলাম।

সুইজারল্যান্ড ম্যাচের আগে বড় দুঃসংবাদ পেল আর্জেন্টিনা
  • ১১ জুলাই ২০২৬
মামলার মুখে এমবাপ্পে, হতে পারে তিন বছরের জেল 
  • ১১ জুলাই ২০২৬
‘পরকীয়া প্রেমিকার’ ছুরিকাঘাত ও পুরুষাঙ্গ কর্তনের পর আইইউটির…
  • ১১ জুলাই ২০২৬
ইবিতে ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির শুভেচ্ছা মিছিল 
  • ১১ জুলাই ২০২৬
ব্যাংক এশিয়া নিয়োগ দেবে এটিএম অপারেশনস অফিসার, আবেদন ২৩ জুল…
  • ১১ জুলাই ২০২৬
ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপে স্নাতকে পড়াশোনার সুযোগ কানাডায়, কর…
  • ১১ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence