মেসেঞ্জারে ইসলামিক রিমাইন্ডার দেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী © সংগৃহীত
ব্যস্ততার এই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটালেও অনেকেই ভুলে যান আত্মশুদ্ধির কথা। সেই জায়গা থেকেই মেসেঞ্জারে পরিচিতজনদের সাপ্তাহিক ইসলামিক রিমাইন্ডার দিয়ে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়েছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাহিনুল ইসলাম।
২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে প্রতি বৃহস্পতিবার কিংবা বিশেষ দিনে (সপ্তাহে একবার) তিনি মেসেঞ্জারের মাধ্যমে পরিচিতদের কাছে পাঠান সংক্ষিপ্ত কিছু ইসলামিক নাসিহা। কোনো দীর্ঘ বক্তব্য নয়, বরং একটি আয়াত, হাদিস বা ছোট্ট উপদেশ—যা অল্প সময়েই মানুষের ভেতরে ভাবনার জন্ম দেয়। রাহিনুলের বিশ্বাস, একটি লাইনও মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। সেই বিশ্বাস থেকেই নিজের জানা ও আমল করা বিষয়গুলো নিয়মিতভাবে অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করছেন তিনি।
শুরুর দিকে প্রায় ৬০০ জনেরও বেশি মানুষকে এই রিমাইন্ডার পাঠাতেন রাহিনুল। তবে সময়ের সঙ্গে উপলব্ধি করেন, সবাই বিষয়টিকে সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ফলে ধীরে ধীরে তালিকাটি ছোট করার সিদ্ধান্ত নেন। যারা ২-৩ দিন পার হলেও মেসেজটি দেখেন না, তাদের আর্কাইভে সরিয়ে দিচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা এতটা ব্যস্ত না যে ৩০ সেকেন্ড সময় বের করতে পারবো না।’
তিনি বলেন, তার এই রিমাইন্ডার মেসেজে কোনো প্রতিক্রিয়া বা রিপ্লাইয়ের প্রয়োজন নেই। শুধু পড়া এবং সীন করাই যথেষ্ট। তার মতে, এতে যেমন যোগাযোগ বজায় থাকে, তেমনি জ্ঞানের ছোট্ট একটি চর্চাও অব্যাহত থাকে।
শুরুতে তিনি ছেলে-মেয়ে উভয়কেই এই মেসেজ পাঠালেও পরবর্তীতে শুধুমাত্র ছেলেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন। ইসলামের দৃষ্টিতে নন-মাহরামদের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় যোগাযোগ এড়িয়ে চলার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি।
রাহিনুল বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দিতে। সেই জায়গা থেকেই যতটুকু জানি, তা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করার চেষ্টা করি। শুধু নিজে জান্নাতের পথে হাঁটতে চাই না, সবাইকে নিয়েই হাঁটতে চাই।’
তার বিশ্বাস, হিদায়াত একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। তবে সেই হিদায়াতের সূচনা হতে পারে একটি আয়াত, একটি হাদিস কিংবা একটি সাধারণ উপদেশের মাধ্যমেও। তাই মানুষের মাঝে সেই চিন্তার বীজ বপনের চেষ্টাই করে যাচ্ছেন তিনি।
রাহিনুলের মতে, তার পাঠানো কোনো নাসিহা অনুসরণ করে কেউ আমল করলে সেটি তার জন্য সদকায়ে জারিয়া হয়ে থাকবে। জীবদ্দশার পাশাপাশি মৃত্যুর পরও এর সওয়াব অব্যাহত থাকবে—এই প্রত্যাশাই তাকে এই উদ্যোগ চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
তার এই ছোট্ট উদ্যোগ প্রমাণ করে—পরিবর্তনের জন্য সবসময় বড় কিছু দরকার হয় না; কখনো কখনো একটি লাইনই যথেষ্ট।