© টিডিসি ফটো
রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যথাযথ শিক্ষার পরিবেশ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যথাযথ ভূমিকা পালন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এসময় রাষ্ট্রপতি দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ইউজিসিকে আহ্বান জানান।
রবিবার বিকালে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ এর নেতৃত্বে ইউজিসি’র একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৮ পেশ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
আব্দুল হামিদ বলেন, সকল সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকতর সময়োপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদিন সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।
বৈঠককালে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সাথে তাল মেলাতে রাষ্ট্রপতি হামিদ সময়োপযোগী ও বিশ্বমানের পাঠ্যসূচি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এসময় রাষ্ট্রপতি দেশের ১৫০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ইউজিসি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কারিকুলাম ও প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিকসহ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন কর্মকা- সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি হামিদকে অবহিত করেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান এ সময় রাষ্ট্রপতিকে সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত করেন। এই পদ্ধতি ভর্তিচ্ছু ও তাদের অভিভাবকদের দুর্ভোগ লাঘব করেছে।
তিনি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন যে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপ-উপচার্য ও ট্রেজারারদের জন্য একটি অভিন্ন নিয়োগ নীতি প্রবর্তন করার কৌশলগত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। অধ্যাপক শহীদুল্লাহ্ আরও বলেন, ইউজিসি একটি মানসম্মত ও সময়োপযোগী গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করবে। এ লক্ষে তিনি রাষ্ট্রপতির সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।
এসময় আব্দুল হামিদ ধৈর্য সহকারে প্রতিনিধি দলের কথা শুনেন ও তাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করার আশ্বাস দেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে দেশের সরকারি ও বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিষয়টি নিয়ে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করে দেয় ইউজিসি। তবে শিক্ষক সমাজের সমালোচনার প্রেক্ষিতে নীতিমালাটি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।