হাবিপ্রবি'র প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ২০১৯

২৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:১৪ PM

© সংগৃহীত

নতুন বছর মানে নতুন কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা। সে প্রত্যাশা কখনো পুরণ হয় আবার কখনো পুরণ হয় না। তবুও মানুষ স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন বুনে নতুন কিছু ঘিরে। সেই রকমই ছিলো হাবিপ্রবির ২০১৯ সাল। ২০১৮ এর নভেম্বর-ডিসেম্বর এর দিকে ২০১৯ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষক আন্দোলনের কারণে তা পিছিয়ে নতুন বছর ২০১৯ শুরুতেই সম্পন্ন করতে হয়।

এই আন্দোলনের মাশুল দিতে হয় কয়েকটি অনুষদের শিক্ষার্থীদের। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০১৮ সালের শুরুর দিকে প্রকাশিত হলেও অনেক চড়াই উৎরা ফেরিয়ে তা সম্পন্ন হয় বিদায়ের দারপ্রান্তে চলে আসা ২০১৯ সালেই। আর এই শিক্ষক,কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের মাধ্যমে অনেক বেকারের কর্মসংস্থান হয়েছে, অনেক পরিবার পেয়েছে মাথা গোজার ঠাই। ছাত্র-ছাত্রীরা পেয়েছে নতুন অভিভাবক, বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে নতুন কিছু উদ্যমী মুখ। ফলে বেড়েছে কাজের গতি, কমেছে সংকট। তবে, নিয়োগ নিয়ে একটি পক্ষ অভিযোগ উঠালেও তার স্বপক্ষে যৌক্তিক কোন তথ্য উপস্থাপন করতে পারেনি। নিয়োগ নিয়ে মিথ্যাচারের মাধ্যমে ক্যাম্পাস উওপ্ত করার পায়তারাকারীদের বিরুদ্ধে সেই সময় তীব্র প্রতিবাদও জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে ১৮ তে আটকে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন প্রধান গেট উম্মুক্ত হয় এই বছরেই। যা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিলো। এছাড়া পরিবহন পুলে যুক্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি নতুন গাড়ি (বাস, মাইক্রোবাস)। জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে ১০ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ, ৬তলা বিশিষ্ট ছাত্রী হল নির্মাণের কাজ, মেডিকেল সেন্টার সম্প্রসারণের কাজ। মেডিকেলে সংযুক্ত হয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ঔষধ, হাচ্যারি, পোল্ট্রি ফার্ম, কাউ শেড, শিক্ষক- কর্মকর্তা কোয়ার্টার, মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিকসহ আরো গুরুপ্তপূর্ণ কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ চলমান। নির্মাণাধীন ভবনের কাজ শেষ হলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যমান ল্যাব, ক্লাসরুম ও আবাসন সংকট অনেকাংশেই কমে যাবে।

সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রাণের দাবি ছিল সমাবর্তন। সেটিও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন উপাচার্য। রাষ্ট্রপতি সম্মতি পেলেই আগামী বছরের নভেম্বর/ডিসেম্বরের দিকে সমাবর্তন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

শিক্ষক লাঞ্চনা, মাদকের সাথে সংশ্লিষ্টতা এবং অসামাজিক কার্যকলাপের কারনে বহিস্কৃতও হয়েছেন বিদেশীসহ ১০ শিক্ষার্থী। সব মিলিয়ে এই বছরে একাডেমিক, অবকাঠামোর উন্নয়নসহ অনেক সাফল্য থাকলেও প্রভাষক থেকে পদোন্নতি প্রাপ্ত ৫৭ সহকারী অধ্যাপকের ইনক্রিমেন্টের দাবি, রেজিস্ট্রার লাঞ্চনা, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম এর আন্দোলন, ভর্তি পরীক্ষায় অংশ না নেয়া, জামায়াত নেতা থেকে আওয়ামী শিক্ষক ফোরাম নেতা হওয়া, শিক্ষক ছাত্রীর যৌন কেলেঙ্কারি, রিজেন্ট বোর্ড,শৃঙ্খলা সভাকে ঘিরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের অবস্থান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো। এতো কিছুর পরও সকল বাধা বিপত্তিকে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা ও সাহসীকতার সাথে মোকাবেলা করে এগিয়ে নিয়েছেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু.আবুল কাসেম। যার ফলে ছাত্র-শিক্ষকের সহাবস্থান,একাডেমিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে ।

তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে পানিতে ডুবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু, সড়ক দুর্ঘটনায় কর্মকর্তার মৃত্যু যেন সকল কিছু ম্লান করে দিয়েছে। প্রাপ্তির খাতায় যেমন ছিলো তেমনি হারানোর খাতাটাও অনেক ভারী ছিল এ বছরে।

উপাচার্য প্রফেসর ড. মু.আবুল কাসেম বলেন, আমি শুরু থেকেই চেয়েছি এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিনত করতে। কিন্তু ক্যাম্পাসে আসার পর থেকে আমাকে বিভিন্নসময়ে নানারকম বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। অনেকেই মিথ্যাচার করে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চালিয়েছে। তারপরও আমি আমার সাধ্যমত শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করেছি, আগামীতেও কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ। আমি বিশ্বাস করি সৎ ও সত্যের পথে থাকলে,কেউ কখনো কারো ক্ষতি করতে পারবে না। বর্তমানে যে উন্নয়নের ধারা চলমান রয়েছে আগামীতেও যেন এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকে সে জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।

আইইএলটিএস-জিআরই পরীক্ষায় অংশগ্রহণে সহজ শর্তে ঋণ দিতে চায় এন…
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
দায়িত্ব পেলে চাঁদাবাজদের ঘুম হারাম করে দেব: হাসনাত আবদুল্লাহ
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিন : তারেক রহমান
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
এআই-ভিত্তিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জিএসআইএমএএলের যাত্রা শুরু
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
তরুণদের জন্য এক কোটি সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায় …
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬