চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হঠাৎ করেই সংঘটিত হয়নি: জবি উপাচার্য

১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৮ PM
সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদদীন

সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদদীন © টিডিসি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদদীন বলেন, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হঠাৎ করেই সংঘটিত হয়নি, এর পেছনে ছিল দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের অব্যাহত সংগ্রামের ইতিহাস। স্বেরাচারী সরকারের অত্যাচার নির্যাতন ও শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে  দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটেছে চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে ‘ফিরে দেখা ছাত্র জনতার রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

জবি ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদ কাদের চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন এবং জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ড. মঞ্জুর মোর্শেদ ভূঁইয়া । সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ।

জবি উপাচার্য বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিলো সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে, পরিণত হয়েছিলো জনযুদ্ধে। তেমনিভাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানও কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর অবদানে সফল হয়নি বরং  দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের ছাত্রজনতা এতে অংশগ্রহণ করেছিল।

এ ছাড়া জুলাই পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদি কাঠামো যেন বাংলাদেশ আর ফিরে আসতে না পারে, সে জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন বলেন, সৃজনশীল কর্মসূচি প্রণয়ন ও কর্মসূচির নামকরণ জুলাই আন্দোলনের যুগান্তকারী একটি দিক। সর্বস্তরের মানুষকে এই আন্দোলনে যুক্ত করতে এসব ভিন্নধর্মী কর্মসূচি ও নামকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

আরও পড়ুন: চূড়ান্ত পরীক্ষার সময়ই নতুন বই পাবে শিক্ষার্থীরা, মাদ্রাসা-কারিগরিতে হচ্ছে ২০৯১৫ ডিজিটাল ক্লাসরুম

তিনি আরও বলেন, শুধু মিছিল, মিটিং ও সমাবেশ করে জুলাইয়ের চেতনা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এ ধরনের একাডেমিক আলোচনা, সিম্পোজিয়াম, সেমিনার আয়োজনের বিকল্প নেই। 

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলের দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্যাতন নিষ্পেষণের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার সম্মিলিত সংগ্রামের ফলেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক বিজয় সম্ভব হয়েছে। এ অভ্যুত্থান সফল করতে বাংলাদেশের মুক্তিকামী সব সংগঠন, দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেছিল।

জাতীয় ছাত্রশক্তি জবি শাখার আহ্বায়ক মোঃ শাহীন মিয়া বলেন, ‘বর্তমান সময়ে জুলাই আন্দোলনকে অনেকেই সূক্ষভাবে কটাক্ষ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে৷ তাদের উদ্দেশ্যে আমাদের স্পষ্ট বার্তা হলো, ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী এই বিজয়কে ছোট করার পাঁয়তারা কোনোভাবেই সফল হবে না।

জকসু সদস্য আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ফলে দেশের নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষ মুক্তি পেয়েছে। তবে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনও পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সবধরনের বিভেদ ভুলে দল-মত নির্বিশেষে সম্মিলিতভাবে সবাইকে চেষ্টা করে যেতে হবে।

সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিসিপিএসের রেডিওথেরাপি অনুষদের চেয়ারম্যান হলেন অধ্যাপক আকরা…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
সহমর্মিতায় বদলে যাক পৃথিবী, আজ বিশ্ব মানবিকতা দিবস
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
উচ্চশিক্ষায় জেমির নতুন ঠিকানা, পেলেন ৭৩ লাখ টাকার বৃত্তি
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
৭ বিসিএস পরীক্ষার্থীর প্রার্থিতা বাতিল, নেপথ্যে আপত্তিকর বি…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে ডাকসু প্রতিনিধিদলের বৈঠক 
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
ঢাবি থেকে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশন না করার দাবিতে…
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬