ঢাবির সিএসই বিভাগে এমএসসি প্রোগ্রামে আবেদন চলছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগে মাস্টার্স © টিডিসি সম্পাদিত
যাত্রাটা শুরু হয়েছিল ১৯৯২-এ, মাত্র ২০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি মাস্টার্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে। তিন দশকেরও বেশি সময়ের পথচলায় সেই উদ্যোগ আজ পরিণত হয়েছে মহীরুহে। এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের গল্প। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে গড়ে ওঠা এই প্রোগ্রামটি এখন আর শুধু দেশের অন্যতম সেরা ও সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মাস্টার্স প্রোগ্রাম নয়, বরং একাডেমিক উৎকর্ষ, দক্ষ শিক্ষকবৃন্দ এবং প্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব তৈরির ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে এটি আজ দেশের উচ্চশিক্ষার অঙ্গনে এক অনন্য মাইলফলক।
কম্পিউটার বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাডেমিক বিষয়ের পাশাপাশি সিএসই এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের অন্যতম ও প্রধান চালিকাশক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট থেকে শুরু করে স্মার্ট সিটি ও ডিজিটাল অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এ বাস্তবতায় স্নাতক পর্যায়ের জ্ঞানকে আরও গভীর ও গবেষণাভিত্তিক দক্ষতায় রূপ দিতে মাস্টার্স ডিগ্রির গুরুত্ব অপরিসীম। আর দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগে মাস্টার্স করার সুযোগ শিক্ষার্থীদের জন্য এনে দেয় মানসম্পন্ন শিক্ষা, গবেষণার পরিবেশ, দক্ষ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধান এবং দেশ-বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাওয়ার শক্ত ভিত্তি। সব মিলিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ক্যারিয়ারে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসইতে মাস্টার্স হতে পারে একটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা নিজেদের দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ ও বিকশিত করতে পারবেন। সবচেয়ে বড় বিষয়- এমএসসি প্রোগ্রামটির টিউশন ফি ও অন্যান্য একাডেমিক ব্যয় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রচলিত ব্যয়ের সমান।—ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু, সিএসই অধ্যাপক ও ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক
যা রয়েছে প্রোগ্রামটিতে
প্রোগ্রামটিতে বেশ কিছু গবেষণা ক্ষেত্র রয়েছে। এগুলো হলো- ক্লাউড এবং এজ (edge) ইন্টেলিজেন্স, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ডিএনএ কম্পিউটিং, ব্লকচেইন, হিউম্যান-রোবট ইন্টারেকশন, ডিজিটাল ফরেনসিক, সাইবার সিকিউরিটি, এআই (AI) এবং মেশিন লার্নিং, ডেটা অ্যানালিটিক্স, গ্রাফ নিউরাল নেটওয়ার্কস, ন্যাচারাল ল্যাংগুয়েজ প্রসেসিং (NLP), বায়োইনফরমেটিক্স এবং এম্বেডেড সিস্টেম ফর ইন্ডাস্ট্রি।
সিএসই বিভাগের তথ্যমতে, ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিভাগটি গুণগত শিক্ষা, গবেষণাধর্মী কারিকুলাম, অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি, গতিশীল শিক্ষার পরিবেশ এবং শক্তিশালী গ্লোবাল অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের জন্য পরিচিত। এর মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের মাল্টিডিসিপ্লিনারি জ্ঞানে দক্ষ করে তোলা। ফলে এমএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে আগ্রহীদের নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হতে পারে ঢাবির সিএসই বিভাগ।
একই কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেল বিভাগটির ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবুর বক্তব্যেও। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই এমএসসি প্রোগ্রামের গুরুত্ব অপরিহার্য। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবেন এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা আরও বিকশিত করতে পারবেন। এই এমএসসি প্রোগ্রামের টিউশন ফি ও অন্যান্য একাডেমিক ব্যয় বিভাগের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ব্যয়ের অনুরূপ বলেও মত তার।
দেড় বছর (৩ সেমিস্টার) মেয়াদি এই প্রোগ্রাম ওপেন ক্রেডিট সিস্টেমে পরিচালিত হবে। শিক্ষার্থীরা দুটি গ্রুপের যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবেন। এর মধ্যে থিসিস গ্রুপে ১৮ ক্রেডিট থিওরি + ১৮ ক্রেডিট থিসিস ও প্রজেক্ট গ্রুপে ৩০ ক্রেডিট থিওরি + ০৬ ক্রেডিট প্রজেক্ট।
আবেদন করতে পারবেন স্নাতক সম্পন্নকারীরা। সুযোগ থাকছে ‘অ্যাপিয়ার্ড’ সার্টিফিকেটধারীদেরও। অনলাইনে আবেদন চলবে ১৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত। ৩ জুলাই থেকে অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করা যাবে। ভর্তি পরীক্ষা ১০ জুলাই এবং ১৪ জুলাই ফল। ১৮ জুলাই কমিউনিকেশন স্কিল টেস্ট (ভাইভা) শেষে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হবে ২০ জুলাই। ক্লাস শুরু হবে এ বছরের ১ সেপ্টেম্বর।
ভর্তি যোগ্যতা
আবেদনকারীকে অবশ্যই সিএসই/সিই/আইটি/ইইই/ইসিই/ইটিই/এসই/ম্যাথমেটিক্স/স্ট্যাটিস্টিক্স/ফিজিক্স বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী হতে হবে। স্নাতক ফলাফলে সিজিপিএ ৪.০০-এর মধ্যে ন্যূনতম ৩.২৫ থাকতে হবে। এছাড়া এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০-সহ মোট জিপিএ ৮.০০ থাকতে হবে। কোনো পাবলিক পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণি/বিভাগ বা জিপিএ ২.৫০-এর নিচে থাকলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
যারা ইতোমধ্যে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন, তারা আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া যাদের স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল ৩০ জুনের মধ্যে প্রকাশিত হবে, তারা ‘অ্যাপিয়ার্ড সার্টিফিকেট’ দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। বিদেশি ডিগ্রিধারী বাংলাদেশি নাগরিকদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমতা নিরূপণ কমিটির মাধ্যমে ডিগ্রির মূল্যায়ন করিয়ে নিতে হবে।
প্রোগ্রামটিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন শুরু হচ্ছে ১৪ জুন, যা শেষ হবে ৩০ জুন ২০২৬। ৩ জুলাই থেকে ভর্তি পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করা যাবে। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১০ জুলাই। এরপর ১৪ জুলাই ফলাফল প্রকাশ শেষে ১৮ জুলাই হবে কমিউনিকেশন স্কিল টেস্ট (ভাইভা)। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২০ জুলাই। এরপর ২১ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে। ক্লাস শুরু হবে এ বছরের ১ সেপ্টেম্বর।
আবেদন যেভাবে
আগ্রহী প্রার্থীদের বিভাগের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট msadmission.cse.du.ac.bd-এর মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফি ধরা হয়েছে ২৫০০ টাকা। এ ছাড়া যেকোনো তথ্যের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে যোগাযোগ করা যাবে। প্রয়োজনে মোবাইল নম্বর (01721879655, 01985538800), ইমেইল (msadmission@cse.du.ac.bd) ও টেলিফোনের (09666911463/এক্সটেনশন: 7421) যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।