ঠাণ্ডা থেকে সর্দিকাশি
ভাইরাল জ্বর নাকি নিউমোনিয়া © সংগৃহীত ছবি
ঋতুবদল হলেই সর্দি-কাশি, জ্বর কিংবা গা-ব্যথায় ভোগেন অনেকেই। কিন্তু সব জ্বর-কাশিকে সাধারণ ঠাণ্ডার সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। কারণ একই ধরনের উপসর্গের আড়ালে থাকতে পারে ইনফ্লুয়েঞ্জা কিংবা নিউমোনিয়ার মতো সংক্রমণও। বিশেষ করে জ্বর না কমা, কাশি বাড়তে থাকা বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি। তাই সাধারণ সর্দি-কাশি, ভাইরাল জ্বর আর নিউমোনিয়ার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে কোন লক্ষণগুলোর দিকে নজর দেবেন, তা জানা প্রয়োজন।
নিউমোনিয়া হল ফুসফুসের সংক্রমণ। ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাসের সংক্রমণে নিউমোনিয়া হয়। যেমন, স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনি নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ নিউমোনিয়া রোগের একটি অন্যতম প্রধান কারণ। এ ছাড়া, ছত্রাকঘটিত কারণেও অনেক সময়ে নিউমোনিয়া হতে পারে।
লক্ষণ কী কী?
নিউমোনিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হল জ্বর। সেই সঙ্গে কাশি। পাশাপাশি, শ্বাসকষ্টও হয়। সংক্রমণ যত বাড়ে, শ্বাসকষ্টও বাড়তে থাকে। বুকে ব্যথা হতে পারে। তবে বুকের ব্যথার ধরন একটু আলাদা। সাধারণত, গভীর শ্বাস নেওয়ার সময়ে এই বুকের ব্যথা অনুভূত হবে। ফুসফুসের প্রদাহের কারণে এই ব্যথা হয়। এ ছাড়া, মাথায় যন্ত্রণা, ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়া, খাওয়ায় অনীহা, সারাক্ষণ বমি বমি ভাবও আনুষঙ্গিক লক্ষণের মধ্যে পড়ে। যাঁদের প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, বিশেষ করে শিশু কিংবা প্রবীণ মানুষের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশিই।
নিউমোনিয়ার প্রথম দিকে সাধারণ জ্বর, সর্দি এবং কাশির উপসর্গই দেখা যায়। তবে কিছু দিন পর থেকেই এই উপসর্গগুলির প্রকোপ বাড়তে থাকে। দেখা যায়, জ্বর কিছুতেই কমছে না। সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বাড়ছে। শুকনো কাশিও একই ভাবে বাড়ছে। বুকের ব্যথাও থাকছে। সাধারণ সর্দি-কাশি হলে ওষুধ দেওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসায় সাড়া পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে তেমন হয় না।
শরীরে বিভিন্ন অসুখবিসুখ থাকলে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। যেমন, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, কিডনির রোগ, এইচআইভি সংক্রমিতদের নিউমোনিয়া হলে ভয় বেশি। আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণ ভাবে ঠাণ্ডা লাগার শিকার, না তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কয়েকটি পরীক্ষা করাতে হয়। যেমন, অনেক সময় এক্স-রে, সিটি স্ক্যান করে দেখা হয়। তবে রোগীবিশেষে কী ধরনের পরীক্ষা করতে হবে, সেটা চিকিৎসকই ঠিক করতে পারবেন।