ভিটামিন এ ক্যাপসুল © ফাইল ছবি
সরকারি অর্থের ‘সর্বোত্তম ব্যবহার ও সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত ওষুধ নিশ্চিত করতে’ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্রয়ে চলমান উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি (ওটিএম) বাতিল করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের মাধ্যমে এই ক্যাপসুল কেনা হবে। ইতোমধ্যে ১১ কোটি ১৬ লক্ষ ১২ হাজার ২৯২ টাকার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সংগ্রহের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
আজ সোমবার (২২ জুন) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ক্রয় ও সংগ্রহ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক দুটি চিঠিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সাইফুল ইসলাম মজুমদার স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনা দুটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসকে পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি রাজস্ব অর্থায়নে প্রথমে একটি উন্মুক্ত দরপত্র প্যাকেজের আওতায় এই ক্যাপসুল কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর সার্বিক বিবেচনায় উন্মুক্ত পদ্ধতিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অপেক্ষাকৃত কম অর্থব্যয়ে অধিক পরিমাণ ক্যাপসুল সংগ্রহের লক্ষ্যে পূর্ববর্তী কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় সরাসরি ইউনিসেফের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্রয়ের নতুন সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন প্যাকেজের আওতায় দুই ধরনের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কেনা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রতি ইউনিট ৪.২৮৪৫ টাকা দরে ১ লক্ষ আইইউ এবং প্রতি ইউনিট ৪.২৯৪২ টাকা দরে ২ লক্ষ আইইউ ক্ষমতার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সংগ্রহ করবে ইউনিসেফ।
এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। শর্তানুযায়ী, পুরো কেনাকাটায় ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০০৬’ এবং ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০২৫’সহ সরকারের সর্বশেষ অর্থনৈতিক বিধি-বিধান কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। চূড়ান্তভাবে কাজ দেওয়ার আগে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সব নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করাসহ ক্যাপসুলের ওয়ারেন্টি ও মেয়াদের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া মালামাল দেশে আসার পর একটি সুনির্দিষ্ট ‘পণ্য যাচাই ও গ্রহণ কমিটি’র মাধ্যমে সেগুলোর গুণগত মান এবং সঠিক পরিমাণ নিশ্চিত হয়ে তবেই গ্রহণ করা হবে। মালামাল সরবরাহের অন্তত ৩ দিন আগে মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের ত্রুটি বা অনিয়ম দেখা দিলে তার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব বিল পরিশোধকারী কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ বিরতির পর দেশে আবারও দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২৮ জুন। এ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।