প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো
রমজান এলে ইফতারের টেবিলে ছোলা যেন অবিচ্ছেদ্য একটি পদ। সারাদিন রোজা রাখার পর পুষ্টিকর খাবার হিসেবে অনেকেই ভরসা করেন এই সহজলভ্য ডালজাতীয় খাদ্যের ওপর। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—ভিজিয়ে কাঁচা ছোলা খাওয়া ভালো, নাকি সেদ্ধ করে? কোন উপায়ে পুষ্টিগুণ বেশি পাওয়া যায়?
পুষ্টিবিদদের মতে, দুইভাবেই ছোলা খাওয়া উপকারী। তবে শরীরের অবস্থা ও হজমক্ষমতা বিবেচনায় পদ্ধতি বেছে নেওয়াই উত্তম। সম্প্রতি ইমিউনস সাইন্স-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ছোলা উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজে সমৃদ্ধ। এসব উপাদান শরীরকে শক্তি জোগায়, পেশি গঠনে সহায়তা করে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে।
বিশেষ করে ছোলার উচ্চ ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পুষ্টিবিদরা জানান, ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, ফলে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে রক্তে মিশে এবং হঠাৎ শর্করা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। এ কারণে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ছোলা উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। পাশাপাশি এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। নিয়মিত ছোলা খেলে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
ভিজিয়ে রাখা (কাঁচা) ছোলা
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, ছোলা সরাসরি কাঁচা না খেয়ে অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। এতে ছোলা নরম হয় এবং হজম সহজ হয়। ভিজিয়ে রাখা ছোলার খোসা ছাড়িয়ে লবণ, কাঁচা মরিচ, লেবুর রস বা শসা মিশিয়ে সহজেই পুষ্টিকর সালাদ তৈরি করা যায়।
ভিজানো ছোলায় ফাইবার ও প্রোটিনের পরিমাণ অক্ষুণ্ণ থাকে। এটি দ্রুত শক্তি জোগায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তবে সবার ক্ষেত্রে এটি সমানভাবে সহনীয় নাও হতে পারে। কারও কারও পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। তাই যাদের হজমজনিত সমস্যা আছে, তাদের পরিমাণ বুঝে খাওয়া উচিত।
সেদ্ধ ছোলা
ছোলা ভিজিয়ে সেদ্ধ করে খাওয়াও একটি সহজ ও স্বাস্থ্যকর উপায়। এতে ছোলা আরও নরম হয় এবং সহজপাচ্য হয়ে ওঠে। সেদ্ধ করার সময় অল্প লবণ ও সামান্য হলুদ ব্যবহার করলে স্বাদ বাড়ে এবং হজমেও সহায়ক হয়।
সেদ্ধ ছোলা দিয়ে পেঁয়াজ, টমেটো, শসা, ধনেপাতা ও লেবুর রস মিশিয়ে পুষ্টিকর সালাদ তৈরি করা যায়। ইফতারে এটি স্বাস্থ্যকর ও তৃপ্তিদায়ক পদ হতে পারে।
সেদ্ধ ছোলা হজমের দিক থেকে তুলনামূলক নিরাপদ। ভিজিয়ে সিদ্ধ করার ফলে দানাগুলো নরম হয়ে যায়, ফলে গ্যাস্ট্রিক বা পেট ফাঁপার ঝুঁকি কম থাকে। বিশেষ করে যাদের কাঁচা ভিজানো ছোলা খেলে অস্বস্তি হয়, তাদের জন্য সেদ্ধ ছোলা ভালো বিকল্প।
সবশেষে পুষ্টিবিদরা বলছেন, ভিজানো ও সেদ্ধ—দুইভাবেই ছোলা পুষ্টিকর। বেশি ফাইবার ও শক্তি পেতে চাইলে ভিজানো ছোলা উপকারী। আর যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তারা সেদ্ধ ছোলা বেছে নিতে পারেন। তবে যেভাবেই খাওয়া হোক, অতিরিক্ত লবণ বা মশলা এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষ করে কিডনির সমস্যা থাকলে নিয়মিত ছোলা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।