প্রতীকী ছবি © এআই সম্পাদিত ছবি
ঘুম থেকে ওঠার পর হঠাৎ ঘাড়ে তীব্র ব্যথা বা দীর্ঘ সময় একভাবে বসে থাকার পর ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। প্রথমে এটি সামান্য অস্বস্তি মনে হলেও সময়মতো যত্ন না নিলে ব্যথা বাড়তে পারে এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘাড় ব্যথা সাধারণ একটি সমস্যা হলেও এর পেছনে থাকে জীবনযাপন ও শারীরিক অভ্যাসসংক্রান্ত নানা কারণ।
মাস্কুলোস্কেলিটাল ডিজঅর্ডারস বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকা বিশেষ করে কম্পিউটারের সামনে টানা কাজ করা ঘাড় ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ। এ ছাড়া ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানো, হঠাৎ পেশিতে টান লাগা এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপও এ সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। শুরুতে ঘাড় ঘোরানোর সময় হালকা ব্যথা অনুভূত হলেও পরে তা ঘাড় ও কাঁধের পেশিকে শক্ত করে ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করলে ব্যথা থেকে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। অনেকেই ল্যাভেন্ডার অয়েল ব্যবহার করে উপকার পান। পাশাপাশি হালকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গোসল করলে পেশি শিথিল হতে পারে। তীব্র ব্যথা বা প্রদাহ থাকলে আইস প্যাক ব্যবহার উপকারী হতে পারে, আর হিটিং প্যাড রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে পেশির জড়তা কমাতে সাহায্য করে।
ঘাড়ের সুস্থতার জন্য সঠিক ঘুমের ভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ। খুব উঁচু বা অতিরিক্ত শক্ত বালিশ ব্যবহার করলে ঘাড়ে বাড়তি চাপ পড়ে, যা ব্যথার কারণ হতে পারে। তাই আরামদায়ক বালিশ ব্যবহার করার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় কাজের ফাঁকে বিরতি নেওয়া, কিছুক্ষণ হাঁটা এবং নিয়মিত হালকা স্ট্রেচিং ব্যায়াম করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন : শিক্ষক নিয়োগ দেবে আকিজ কলেজিয়েট স্কুল
তাদের মতে, মানসিক চাপও ঘাড় ব্যথার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তাই চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেডিটেশন, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভ্যাস গড়ে তোলা উপকারী হতে পারে।
তবে ব্যথা যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তীব্র হয়ে ওঠে বা হাত অবশ হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে অবহেলা না করে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।