সন্তান না হওয়ার জন্য সমান দায়ী পুরুষও, তবুও চিকিৎসায় অবহেলা

২৭ জুন ২০২৬, ১০:১১ AM
সন্তান না হওয়ার জন্য অনেক সময় পুরুষও সমানভাবে দায়ী থাকেন

সন্তান না হওয়ার জন্য অনেক সময় পুরুষও সমানভাবে দায়ী থাকেন © এআই সৃষ্ট ছবি

সন্তান ধারণে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে দায় অনেক সময় কেবল নারীকেই দেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় অর্ধেক ঘটনায় সন্তান জন্মদানে পুরুষের সমস্যা জড়িত। তবুও চিকিৎসা, গবেষণা ও জনসচেতনতায় এখনো পুরুষের বন্ধ্যাত্ব নিয়ে তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অবহেলার কারণে রোগ নির্ণয়ে দেরি হচ্ছে। এতে করে মানসিক চাপ বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে চিকিৎসার ব্যয়ও।

বিশ্বজুড়ে প্রতি ছয়টি দম্পতির মধ্যে প্রায় একটি দম্পতি বন্ধ্যত্বের সমস্যায় ভোগে। এর প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে পুরুষের সমস্যা এককভাবে বা নারীর সমস্যার পাশাপাশি ভূমিকা রাখে। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ ফার্টিলিটি সেবায় নারীকেই চিকিৎসার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়, ফলে অনেক পুরুষের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেরিতে শুরু হয়।

২০২০ সালের করোনা মহামারির মাঝামাঝি সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করেন লুক ও তাঁর স্ত্রী। কিন্তু দেড় বছর চেষ্টা করেও সফল না হওয়ায় তারা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

লুক বলেন, কৈশোরজুড়ে তিনি একটি কথায় শুনেছেন ‘কনডম ছাড়া যৌনসম্পর্ক করলে সহজেই সন্তান হতে পারে’। তাই বড় হওয়ার পর তাঁর ধারণা ছিল, সন্তান নেওয়াও স্বাভাবিকভাবেই সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন হওয়ায় তিনি বুঝতেই পারেননি কোথায় যাবেন বা কী করবেন। 

পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একটি ফার্টিলিটি ক্লিনিকে পাঠানো হলেও, পরবর্তী এক বছরেরও বেশি সময়জুড়ে চিকিৎসার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন তাঁর স্ত্রী। সব অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল স্ত্রীর নামে। এমনকি নিজের তথ্য নথিভুক্ত থাকার পরও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা হতো তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে।

লুক বলেন, পুরো ব্যবস্থাটাই এমনভাবে গড়ে উঠেছে যেন সন্তান ধারণে সমস্যা মানেই নারীর সমস্যা। পুরুষদের বিষয়টি প্রায় পুরোপুরি উপেক্ষিত। এক দফা আইভিএফ ব্যর্থ হওয়ার পর চিকিৎসকেরা প্রথমবারের মতো জানান, তাঁর শুক্রাণুতে সমস্যা থাকতে পারে। 

এতে তিনি বিস্মিত হয়ে বলেন, এতদিন পরে এটা বলছেন? আমার দিকের সমস্যাগুলো অনেক আগেই পরীক্ষা করা যেত। অথচ পুরো চিকিৎসা শুধু আমার স্ত্রীর করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা ব্যবস্থায় পুরুষদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হওয়ায় অনেক সময় তাদের শারীরিক সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন শনাক্তই হয় না। এতে চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে পড়ে এবং দম্পতিদের দীর্ঘ সময় মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে হয়।

আরও পড়ুন: পাঠ্যবইয়ের অনুশীলন অংশ পূরণ করান না শিক্ষকরা, বানান করেও পড়তে পারছে না অনেক শিক্ষার্থী

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষক অধ্যাপক বোলা গ্রেস বলেন, অনেক পুরুষই চিকিৎসা নিতে চান না।  অন্যদিকে পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও চিকিৎসার বড় অংশের চাপ নারীদেরই বহন করতে হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, পুরুষের বন্ধ্যত্ব শুধু সন্তান ধারণের সমস্যা নয়, এটি শরীরের অন্য স্বাস্থ্যঝুঁকিরও কারণ হতে পারে। অস্বাভাবিক শুক্রাণু পরীক্ষা অনেক সময় হরমোনজনিত জটিলতা, স্থূলতা বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়।

ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং অ্যানাবলিক স্টেরয়েডের ব্যবহার শুক্রাণুর গুণগত মান কমিয়ে দিতে পারে। জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন না আনলে এটি মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। তাই চিকিৎসার শুরু থেকেই নারী-পুরুষ উভয়ের সমান গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত সমস্যা শনাক্ত করা সম্ভব। (সূত্র: বিবিসি)

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বেসরকারি শিক্ষকদের বদলির তথ্য দিতে নতুন ন…
  • ২৭ জুন ২০২৬
জর্ডানের বিপক্ষে কখন মাঠে নামবেন মেসি, জানালেন স্কালোনি
  • ২৭ জুন ২০২৬
আবারও সোনার দামে বড় লাফ, আজ ভরি কত?
  • ২৭ জুন ২০২৬
সন্তান না হওয়ার পেছনে সমান দায়ী পুরুষও, তবু চিকিৎসায় অবহেলা
  • ২৭ জুন ২০২৬
পে স্কেল বাস্তবায়নের পথে সরকার, বেসরকারি চাকরিজীবীরাও কী সু…
  • ২৭ জুন ২০২৬
স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূ মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতালে লাশ রেখে…
  • ২৭ জুন ২০২৬