আহমাদুল্লাহর সতর্কবার্তা
শায়খ আহমাদুল্লাহ © সংগৃহীত
লিভার সিরোসিস থেকে ক্যান্সার—তবুও আমাদের দৌঁড় থামছে না বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। শনিবার (১৬ মে) সামাজিক মাধ্যমে নিজ ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ বার্তা দেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে আহমাদুল্লাহ বলেন, লিভার সিরোসিস, কিডনি ড্যামেজ কিংবা ক্যান্সারে প্রতিদিন অসংখ্য তরতাজা প্রাণ আমাদের চোখের সামনে থেকে ঝরে যাচ্ছে। তারপরও থেমে নেই জাঙ্কফুড, ভাজাপোড়া, কোমল পানীয়, ধূমপান কিংবা মাদক সেবনের প্রবণতা। এই নগরে, না শুধু এই নগরেই নয়, প্রতিটি জেলা শহরেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ফুডকোর্ট, রেস্টুরেন্ট কিংবা ফাস্টফুডের দোকান। ঘরের খাবারের চেয়ে আমাদের প্রিয় হয়ে উঠছে বাইরের খাবার।
তিনি বলেন, ‘ছুটির দিনে আগে আমরা ঘাসের কাছে, গাছের কাছে, নদী কিংবা সমুদ্রের কাছে ঘুরতে যেতাম। এখন আমাদের ছুটির দিনের ঘোরাঘুরি মানেই দলবেঁধে রেস্টুরেন্টে যাওয়া। আপনি খেয়াল করে দেখবেন, আপনার মহল্লার মুদি কিংবা কনফেকশনারির দোকানে বাইরের দিকে রাখা হয় কোমল পানীয় সাজানো ফ্রিজ, আপনার হাতের নাগালেই ঝোলানো থাকে চিপসের সারি সারি প্যাকেট।
কারণ, প্রতিদিন এইসব পণ্য এত পরিমাণ বিক্রি হয়, এগুলো বুঝে নেয়ার ভার ক্রেতার হাতেই ছেড়ে দেন দোকানি। আর এর করুণ ফল আমরা প্রতি মুহূর্তে প্রত্যক্ষ করছি। দেশে বর্তমানে কিডনি রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে ডায়ালাইসিসের জন্য সহজে স্লট খালি পাওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, এই প্রজন্ম ফল খেতে চায় না। আবার যারা খায়, তাদের পছন্দের শীর্ষে থাকে বিদেশি ফল। অথচ আমাদের দেশি মৌসুমি ফলমূল অনেক বেশি সাশ্রয়ী, পুষ্টিকর এবং বিদেশি ফলের তুলনায় টাটকা। একটা জনপদের প্রায় সকল মানুষ নিশ্চিত জানার পরও ক্ষতির দিকে দৌড়াচ্ছে, এটা বোধহয় শুধু বাংলাদেশেই সম্ভব।
আহমাদুল্লাহ বলেন, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর আমরা অনেক আগেই পার করে এসেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, আজ পর্যন্ত কোনো সরকার জনগণের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাবার পানীয় নিশ্চিত করতে পারেনি। আমার এ শরীর আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়া এক আমানত। এই আমানতের যত্ন নেয়া, সুস্থ রাখা আমার দায়িত্ব। আসুন, আমাদের রসনাকে সংযত রাখি। মুখরোচক অস্বাস্থ্যকর খাবার নয়, বরং পরিমিতির সাথে স্বাস্থ্যকর খাবার খাই, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করি।