ঈদের আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো হাতে গাঢ় লাল মেহেদির রং। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই রং ফিকে হয়ে অস্পষ্ট দাগে পরিণত হলে তা দেখতে অনেক সময় অস্বস্তিকর লাগে। তাই অনেকেই দ্রুত এই দাগ তুলে ফেলতে চান।
এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। ঘরেই সহজ কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করে মেহেদির হালকা হয়ে যাওয়া রং দূর করা সম্ভব। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—এসব পদ্ধতি ব্যবহারের পর ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই প্রতিবার ব্যবহারের পর ভালো মানের ময়শ্চারাইজার বা নারকেল তেল লাগানো উচিত, যাতে ত্বক সুস্থ ও নরম থাকে।
লবণ পানি ব্যবহার
মেহেদির দাগ তুলতে লবণ পানি বেশ কার্যকর। হালকা গরম পানিতে আধা কাপ লবণ মিশিয়ে হাত বা পা প্রায় ২০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। এতে ত্বকের মৃত কোষ দূর হয়ে দাগ দ্রুত হালকা হবে।
স্ক্রাবিং বা এক্সফোলিয়েশন
ভালো মানের ফেসওয়াশ বা বডিওয়াশ দিয়ে স্ক্রাব করলে মেহেদির দাগ দ্রুত উঠে যায়। এ ক্ষেত্রে এপ্রিকট বা ব্রাউন সুগারের মতো প্রাকৃতিক উপাদানের স্ক্রাব ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতি কম হয়। স্ক্রাবের পর অবশ্যই ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।
অলিভ অয়েল ও লবণের মিশ্রণ
এক কাপ অলিভ অয়েলের সঙ্গে ৩-৪ চামচ লবণ মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। তুলা দিয়ে দাগের ওপর লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। পরে ভেজা কাপড় দিয়ে আলতোভাবে ঘষে তুলে ফেলুন।
লেবুর রস ও বেকিং সোডা
লেবুর রস প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসেবে কাজ করে। গরম পানিতে বেকিং সোডা ও লেবুর রস মিশিয়ে দাগের ওপর লাগান। তবে এটি মুখে ব্যবহার না করাই ভালো।
মেকআপ রিমুভার বা মাইসেলার ওয়াটার
সিলিকনভিত্তিক মেকআপ রিমুভার বা মাইসেলার ওয়াটার ব্যবহার করেও মেহেদির দাগ তুলতে পারেন। তুলা ভিজিয়ে আলতোভাবে ঘষলে দাগ হালকা হয়ে যাবে।
টুথপেস্ট ব্যবহার
হোয়াইটেনিং টুথপেস্ট দাগের ওপর লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে নরম ব্রাশ দিয়ে আলতোভাবে ঘষে তুলে ফেলুন।
নারকেল তেল ও চিনি
নারকেল তেলের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করে ত্বকে লাগান। কিছুক্ষণ পর কাপড় বা লুফা দিয়ে ঘষে ধুয়ে ফেললে দাগ হালকা হবে।
সুইমিং পুলের পানি
পুলের পানিতে থাকা ক্লোরিন মেহেদির রং দ্রুত ফিকে করতে সাহায্য করে। কিছু সময় পুলে থাকলে দাগ অনেকটাই কমে যায়।
কন্ডিশনার ও অন্যান্য পদ্ধতি
চুলের কন্ডিশনার লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেললেও উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ব্যবহার করেও দাগ হালকা করা সম্ভব। [সূত্র: হেলথ লাইন]