শুধু তৃষ্ণা মেটানো নয়, প্রয়োজন নিয়মিত পানি পান © সৌজন্যে পাওয়া
বাংলাদেশে গরম এখন আর কেবল কয়েক দিনের অস্বস্তির বিষয় নয়; দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও অতিরিক্ত তাপ ক্রমেই জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, দেশে তাপপ্রবাহের ঘটনা দিন দিন আরও ঘন ঘন ও তীব্র হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে তাপজনিত বিভিন্ন অসুস্থতা, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি; গুরুতর পরিস্থিতিতে দেখা দিতে পারে হিটস্ট্রোকও। এমন পরিস্থিতিতে গরমের সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে নিরাপদ পানি পান করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
প্রচণ্ড রোদ, অতিরিক্ত ঘাম এবং দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার কারণে শিক্ষার্থীদেরই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বেশি। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী দিনের বড় একটি সময় বাইরে কাটান, তারা অতিরিক্ত তাপের কারণে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। ক্লাস, পরীক্ষা, যাতায়াত কিংবা কর্মস্থলের ব্যস্ততায় অনেকেই নিয়মিত পানি পান করার বিষয়টি ভুলে যান। অথচ অতিরিক্ত গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় লবণ দ্রুত বেরিয়ে যায়, ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই গরমের দিনে তৃষ্ণার অপেক্ষা না করে নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
শুধু তৃষ্ণা মেটানো নয়, প্রয়োজন নিয়মিত পানি পান
গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে যে পরিমাণ পানি বেরিয়ে যায়, তা পূরণ করতে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ প্রয়োজন। বিশেষ করে বাইরে বের হওয়ার আগে, দীর্ঘ সময় রোদে থাকার সময়ে এবং বাইরে থেকে ফিরে পানি পান করার বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত।
শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে সহজ অভ্যাস হতে পারে সঙ্গে বাইরে বের হওয়ার পরপরই একটি পানির বোতল কিনে ফেলা। এতে ব্যস্ততার মধ্যেও নির্দিষ্ট সময় পরপর পানি পান করা সহজ হয়। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে একসঙ্গে অতিরিক্ত পানি পান করার পরিবর্তে অল্প অল্প করে নিয়মিত পানি পান করা বেশি কার্যকর অভ্যাস।
পর্যাপ্ত পানি পান করা অনেকটা শরীরের ভেতরটা ধুয়ে পরিষ্কার করার মতো। পানি শরীরকে পরিশুদ্ধ করবে, পেট ভরা রাখবে, ক্যালোরি গ্রহণের মাত্রা কমাবে এবং শরীরের সমস্ত টিস্যুর কার্যকারিতা উন্নত করবে।— ডা. আলবার্ট সেন্ট-গিয়র্গি, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল জয়ী প্রাণরসায়নবিদ
পানিশূন্যতার লক্ষণ চিনুন
শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হলে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, দুর্বল লাগা, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা কিংবা অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণকে অবহেলা না করে দ্রুত বিশ্রাম নেওয়া এবং নিরাপদ পানি পান করা প্রয়োজন।
কারও শরীরের অবস্থা গুরুতর হয়ে গেলে, বিশেষ করে বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
রোদ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন
শুধু পানি পান করলেই গরমের সব ঝুঁকি এড়ানো যায় না। প্রচণ্ড রোদে অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় অবস্থান না করা, সম্ভব হলে ছায়াযুক্ত স্থান ব্যবহার করা এবং বাইরে বের হওয়ার সময় ছাতা, ক্যাপ বা টুপি ব্যবহার করা জরুরি।
বিশেষ করে দিনের তীব্র গরমের সময়ে দীর্ঘক্ষণ সরাসরি রোদে থাকা এড়িয়ে চলা উচিত। শিক্ষার্থীদের ক্লাস বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজের সময়সূচি অনুযায়ী বাইরে থাকার সময়ও পরিকল্পনা করা যেতে পারে।
ঘামের সঙ্গে হারানো লবণ ও তরলে নজর দিন
অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে শুধু পানি নয়, কিছু প্রয়োজনীয় লবণও বেরিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় প্রচণ্ড গরমে থাকার পর অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভূত হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে প্রথম ও প্রাথমিক সমাধানই হতে পারে সময়ে-সময়ে পানি পান।
কফি ও অতিরিক্ত চা দিয়ে পানির ঘাটতি পূরণ নয়
ব্যস্ত শিক্ষাজীবনে অনেকেই পানি পান করার পরিবর্তে চা, কফি বা কোমল পানীয়ের ওপর বেশি নির্ভর করেন। এগুলোকে নিয়মিত পানির বিকল্প হিসেবে না দেখে পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
পানি পান করে শুধু তৃষ্ণা মেটালেই নিশ্চিন্তে থাকা যায় না। প্রচণ্ড গরমে বাইরে থাকা মানুষ অনেক সময় রাস্তার খোলা শরবত, বরফ, অপরিষ্কার পানি কিংবা অস্বাস্থ্যকর খাবারের ওপর নির্ভর করেন। এসব উৎসে জীবাণু থাকলে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সতর্ক সংকেত প্রস্রাবের রং
শরীরে পানির ঘাটতি হয়েছে কি না, তা বোঝার ক্ষেত্রে প্রস্রাবের রং কিছুটা ধারণা দিতে পারে। স্বাভাবিকের তুলনায় গাঢ় হলুদ প্রস্রাব হলে আরও পানি পান করার প্রয়োজন হতে পারে। তবে এটি একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাপকাঠি নয়; অন্যান্য উপসর্গও বিবেচনা করা উচিত।
পানি জরুরি, জরুরি সতর্কতা অবলম্বনও
পানি পান করে শুধু তৃষ্ণা মেটালেই নিশ্চিন্তে থাকা যায় না। গরমের সঙ্গে পানিবাহিত রোগের সম্পর্কও রয়েছে। প্রচণ্ড গরমে বাইরে থাকা মানুষ অনেক সময় রাস্তার খোলা শরবত, বরফ, অপরিষ্কার পানি কিংবা অস্বাস্থ্যকর খাবারের ওপর নির্ভর করেন। এসব উৎসে জীবাণু থাকলে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। রাজধানী ঢাকায় পরিচালিত ২০২৫ সালের icddr,b-ভিত্তিক গবেষণাতেও তাপপ্রবাহের সময়ে ডায়রিয়ার হাসপাতালে ভর্তি বাড়ার সঙ্গে তাপমাত্রার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত তাপ ডায়রিয়ার জীবাণুর বিস্তার, দূষিত পানি পান এবং খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার মতো বিষয়গুলোকে প্রভাবিত করতে পারে।
জন্ডিসের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। জন্ডিস নিজে কোনো নির্দিষ্ট রোগের নাম নয়; এটি বিভিন্ন রোগের উপসর্গ হতে পারে। তবে হেপাটাইটিস ‘এ’ ও ‘ই’ দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়াতে পারে এবং এসব সংক্রমণে জন্ডিস দেখা দিতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হেপাটাইটিস ‘ই’ মূলত দূষিত পানির মাধ্যমে ফিকাল-ওরাল পথে ছড়ায়। বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানও হেপাটাইটিস ই-এর প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে দূষিত খাবার-পানি ও অপর্যাপ্ত হাত ধোয়ার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
তীব্র গরমে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে পর্যাপ্ত পানি পানের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও লবণ কমে গেলে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে রাস্তার দূষিত পানি বা পানীয় গ্রহণের কারণে ডায়রিয়া ও হেপাটাইটিসসহ নানা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকির বিষয়েও করেছেন।
আমেরিকান চিকিৎসক, পুষ্টি ও জীবনধারা বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়েন অ্যান্ডারসন ঘুম থেকে উঠার পরপরই প্রতিটি খাবারের আগে এবং যখনই কিছু খাওয়ার ইচ্ছা জাগবে তখনই এক গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পানির অন্যান্য চমৎকার সব গুণের পাশাপাশি এটি ক্ষুধা কমাতেও সাহায্য করে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হাঙ্গেরীয় প্রখ্যাত প্রাণরসায়নবিদ ডা. আলবার্ট সেন্ট-গিয়র্গি বলেছেন, পর্যাপ্ত পানি পান করা অনেকটা শরীরের ভেতরটা ধুয়ে পরিষ্কার করার মতো। পানি শরীরকে পরিশুদ্ধ করবে, পেট ভরা রাখবে, ক্যালোরি গ্রহণের মাত্রা কমাবে এবং শরীরের সমস্ত টিস্যুর কার্যকারিতা উন্নত করবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এম এইচ চৌধুরী লেলিনও গরমে শরীরের পানি ও লবণের ভারসাম্য ঠিক রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী, প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকা এড়িয়ে চলা এবং নিরাপদ পানি গ্রহণ করা জরুরি।
খোলা পানির চেয়ে বোতলজাত পানি পান করা নিরাপদ। তবে খেয়াল রাখতে হবে বোতলের পানির বিশুদ্ধতা ঠিক আছে কি না। বিএসটিআইয়ের অনুমোদনের পাশাপাশি মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে।— অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা, ওয়াটার রিসার্চ ল্যাব প্রধান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
কেমন পানি বেছে নেবেন
শিক্ষার্থী বা কর্মব্যস্ত মানুষের জন্য সবসময় পানি ফুটিয়ে বা ফিল্টার করে সঙ্গে রাখা সম্ভব নাও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত বোতলজাত পানি একটি ব্যবহারিক বিকল্প হতে পারে। তবে বোতলজাত মানেই যে সবসময় নিরাপদ—এমন ধারণা ঠিক নয়। বাংলাদেশের বাজারে বোতলজাত পানির মান নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় ভিন্নতা পাওয়া গেছে। তাই পরিচিত ও অনুমোদিত উৎস থেকে পানি কেনা এবং বোতলের সিল, লেবেল ও মানসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
‘বোতলজাত পানি পান কতটুকু নিরাপদ?’— এমন প্রশ্নের জবাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াটার রিসার্চ ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, খোলা পানির চেয়ে বোতলজাত পানি পান করা নিরাপদ। তবে খেয়াল রাখতে হবে বোতলের পানির বিশুদ্ধতা ঠিক আছে কি না। বিএসটিআইয়ের অনুমোদনের পাশাপাশি মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা বা ল্যাব টেস্ট আছে, যেগুলোর মাধ্যমে পানির বিশুদ্ধতা যাচাই করা যায়। সরকারের সঠিক অনুমোদন ও মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বোতলজাত বিশুদ্ধ পানি পাওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর তালিকায় বোতলজাত পানির জন্য BDS 1240:2021 এবং প্রাকৃতিক খনিজ পানির জন্য BDS 1414:2021 মান উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি বিএসটিআই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে মান ও লাইসেন্সবিহীন পানির উৎপাদন ও বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
গুরুত্ব দিতে পারেন বোতলজাত মিনারেল ওয়াটারে
বোতলজাত পানি প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠানগুলো বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ কার্যকরী ভিত্তি হিসেবে রাখে।
প্রথমত, পানি সংগ্রহের পর সাধারণত ১৩ টি স্টেজে বিশুদ্ধ করা হয়।
দ্বিতীয়ত, পানির পরিশোধনে মাল্টি-স্টেজ পিউরিফিকেশন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি অত্যন্ত উন্নত পানি পরিশোধন প্রক্রিয়া (RO) এবং ওজোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পানিকে একদম বিশুদ্ধ করা হয়।
তৃতীয়ত, এতে সাধারণত কোনো ধরনের ব্যাকটেরিয়া বা মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে না।
চতুর্থত, পণ্যগুলো টেস্টিং সংস্থা কর্তৃক অনুমতি নিয়ে বাজারে আসে। এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোক্তাকে আস্থা, বিশ্বাস ও মানসিক স্বস্তির সঙ্গে যুক্ত করে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বাইরে বের হওয়ার আগে সঙ্গে নিরাপদ পানি রাখা প্রয়োজন। সম্ভব হলে সিল করা মানসম্মত বোতলজাত পানি বেছে নেওয়া, রাস্তার খোলা পানি ও অপরিচ্ছন্ন পানীয় এড়িয়ে চলা এবং তীব্র রোদে নিয়মিত বিরতি নেওয়া জরুরি। মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, বমি, অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বা প্রস্রাব কমে যাওয়ার মতো গুরুতর উপসর্গে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তৃষ্ণা লাগার আগেই পানি
রোদ-তাপের মধ্যে তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে দিনের বিভিন্ন সময়ে পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। বাংলাদেশের জাতীয় হিট-রিলেটেড গাইডলাইনেও গরমের সময়ে প্রতিদিন অন্তত ২.৫–৩ লিটার নিরাপদ পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যক্তির বয়স, শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর পানির প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী বাইরে বের হওয়ার আগে সঙ্গে নিরাপদ পানি রাখা প্রয়োজন। সম্ভব হলে সিল করা মানসম্মত বোতলজাত পানি বেছে নেওয়া, রাস্তার খোলা পানি ও অপরিচ্ছন্ন পানীয় এড়িয়ে চলা এবং তীব্র রোদে নিয়মিত বিরতি নেওয়া জরুরি। মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, বমি, অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বা প্রস্রাব কমে যাওয়ার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রচণ্ড গরম পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সবসময় সম্ভব নয়। তবে কিছু সহজ অভ্যাসের মাধ্যমে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি পান, রোদ থেকে সুরক্ষা, নিয়মিত বিশ্রাম, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং শরীরের সংকেত সম্পর্কে সচেতনতা— এই অভ্যাসগুলোই গরমের দিনে শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও সক্রিয় থাকতে সাহায্য করতে পারে।