© টিডিসি ফটো
গর্ভধারণ করা মহিলাদের কাছে সবচেয়ে সুখের মুহূর্তগুলির মধ্যে অন্যতম একটি। তবে এই সময়ে নানা শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন মহিলারা। দশজনের মধ্যে আটজনের এই সময়ে মর্নিং সিকনেস-এর সমস্যা হয়। মর্নিং সিকনেস হলো গর্ভাবস্থার অন্যতম একটি উপসর্গ।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই বমি বমি ভাব, ক্লান্ত লাগা, বমি হওয়া; এই সবকিছুকেই বিজ্ঞানের ভাষায় আমরা ‘মর্নিং সিকনেস’ বলে থাকি। এর নাম মর্নিং সিকনেস হলেও সারাদিন ধরেই এই প্রবণতা চলতে থাকে। তবে বেশিরভাগ গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে এর প্রবণতা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে বলে একে ‘মর্নিং সিকনেস’ বলে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে অস্বস্তি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। তবে ব্যক্তি বিশেষে এর লক্ষণগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয় ।
সময়: গর্ভাবস্থায় ষষ্ঠ সপ্তাহ থেকে এই মর্নিং সিকনেসের সমস্যা শুরু হয়। অষ্টম ও নবম সপ্তাহে গিয়ে তা চূড়ান্ত আকার নেয়। কারো কারো ক্ষেত্রে এটি ২০ সপ্তাহ পর্যন্ত হয়। তবে ১২ সপ্তাহের বেশি হলে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
কারন: মর্নিং সিকনেস হওয়ার নেপথ্যে যে কারনগুলো তা হলো- গর্ভাবস্থার প্রথমদিকে দ্রুতগতিতে বিভিন্ন হরমোন লেভেল (ইস্ট্রোজেন, হিউম্যান করিওনিক গোনাডোট্রফিন) বাড়ে, গন্ধের প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়ে এবং পরিপাকতন্ত্র অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। সাধারণত এসব কারণে মর্নিং সিকনেসের প্রবণতা বেশি দেখা দেয়।
এছাড়াও তার আগে থেকেই মোশন সিকনেসের সমস্যা থাকলে, তার মা ও বোনদের একই ধরনের সমস্যা থাকলে, জন্মনিয়ন্ত্রক পিল গ্রহণ করে থাকলে এবং মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে মর্নিং সিকনেস হয়।
প্রতিকার: ‘মর্নিং সিকনেস’ প্রতিরোধের জন্য করণীয় বিষয়গুলো হলো..
এসময় প্রোটিন এবং জটিল শর্করা জাতীয় খাবার বেশি পরিমানে খাবেন। গর্ভাবস্থায় গর্ভের শিশুর খেয়াল রাখার জন্য মাকে বিশেষভাবে নিজের খেয়াল রাখতে হবে। তাই সঠিক সময়ে পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম যেমন প্রয়োজন, তেমনই কোনও ধরনের স্ট্রেস নেওয়া যাবে না।
লেখক: শিক্ষার্থী,
ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।