বাদাম বিক্রি ছেড়ে স্কুলে যাবে ৮ বছরের হাসান, পাশে দাঁড়ালেন জেলা প্রশাসক

০১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৯ PM
হাসানকে আর্থিক সহায়তাও তুলে দেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম

হাসানকে আর্থিক সহায়তাও তুলে দেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম © সংগৃহীত

যে বয়সে বই-খাতা হাতে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই পরিবারের অভাব ঘোচাতে রাস্তায় বাদাম বিক্রি করতে হতো আট বছরের শিশু হাসানকে। বাবাকে হারিয়ে সংসারের আর্থিক সংকটে শৈশবেই কাঁধে নিতে হয়েছিল উপার্জনের দায়িত্ব। তবে এবার হাসানের হাতে বাদামের প্যাকেটের বদলে উঠবে বই-খাতা। তার পড়াশোনার ব্যবস্থা করতে স্কুলে ভর্তির উদ্যোগ নিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। পাশাপাশি পরিবারটির আর্থিক সংকট মোকাবিলায় দিয়েছেন নগদ অর্থসহায়তা।

রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাসান ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ফরিদা খানম। এ সময় তিনি পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। হাসানের শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করতে স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি পরিবারটির হাতে আর্থিক সহায়তাও তুলে দেন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাসানের বাবা। এরপর তিন ভাই, এক বোন ও মাকে নিয়ে বারিধারার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছে শিশুটি। বাবার মৃত্যুর পর সংসারে নেমে আসে আর্থিক সংকট। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং জীবিকার তাগিদে বাদাম বিক্রি শুরু করে হাসান। ফলে যে বয়সে তার শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা, সেই বয়সেই তাকে নামতে হয় রাস্তায়।

শিশুটির এমন পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে তাকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে নেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। হাসানের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন তিনি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। দারিদ্র্য কিংবা পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো শিশু যেন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। শিশুর হাতে শ্রমের বোঝা নয়, বই-খাতা তুলে দিতে হবে। প্রতিটি শিশুর নিরাপদ শৈশব, শিক্ষার অধিকার ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসানের মতো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক সহায়তা নয়, বরং তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্বশীল উদ্যোগ। আমরা চাই, প্রতিটি শিশু শৈশব ফিরে পাক, নিয়মিত পড়াশোনা করুক এবং নিজের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ লাভ করুক। প্রতিকূলতার কারণে কোনো শিশু যেন শিক্ষার সুযোগ থেকে ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছে হাসান ও তার পরিবার। জীবিকার তাগিদে বাদাম বিক্রি করতে রাস্তায় নামা শিশুটি এবার স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যথাযথ শিক্ষার সুযোগ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে হাসানের মতো সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও নিজেদের ভবিষ্যৎ সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারবে।

এআইয়ের যুগে মিডিয়া লিটারেসি: তথ্যের সাগরে সত্য চেনার লড়াই
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
বাদাম বিক্রি ছেড়ে স্কুলে যাবে ৮ বছরের হাসান, পাশে দাঁড়ালেন …
  • ০১ নভেম্বর ২০২৬
মাথায় বুলেট নিয়েই ২ বছর পর চলে গেলেন আবু সাঈদের সহযোদ্ধা চন…
  • ০১ নভেম্বর ২০২৬
চুয়েটে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে অধ্যাপক দেলোয়ার, প্রতিবাদে…
  • ০১ নভেম্বর ২০২৬
জগন্নাথ হলে ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করে ধরিয়ে দেওয়া হলো ‘আপা আপ…
  • ০১ নভেম্বর ২০২৬
ছেলেকে এডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপি নেতার কাণ…
  • ০১ নভেম্বর ২০২৬