টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণ

‘ইন্টেরিম ১ দিন বা ৭ দিনে পেরেছে, আমাদের ৬ মাস অলরেডি চলে গেছে, আর কতদিন?’

৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৯ PM
বক্তব্য রাখছেন এমপি মোশাররফ হোসেন

বক্তব্য রাখছেন এমপি মোশাররফ হোসেন © সংগৃহীত

টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণে ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এটি বাস্তবায়ন করতে পারলেও বর্তমান সরকার ৬ মাস অতিবাহিত করেও তা করতে পারছে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। আজ রবিবার (৩০ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খানের উদ্দেশ্যে এই প্রশ্ন রাখেন তিনি।

এমপি মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা দেখেছি গত ২০ বছরে দেশে যে সরকার বিদ্যমান ছিল, সে সরকার দেশের অর্থনীতি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কথা বলার অধিকার হারিয়েছিল। সেখানে আমরা দেখেছি যে আমাদের এই ১৭ থেকে ২০ বছরে যে মানুষগুলো বেকার হয়ে গিয়েছে, যে মানুষগুলো এই রাজনীতির কষাঘাতে—সবাই কিন্তু আজকে মুখ থুবড়ে পড়েছে। শিক্ষিত বেকার যুবকগুলো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া করে আজকেও কিন্তু তারা বেকার।

তিনি বলেন, বিগত (আওয়ামী লীগ) সরকার তাদের এই টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের সাধারণ কাউকে সেখানে অংশগ্রহণ করতে দেয়নি। সে অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া তারা গলা চিপে ধরে তাদেরকে সেখান থেকে বের করে এনেছে। আমরা দেখেছি তারা একতরফাভাবে সেই টেন্ডার প্রক্রিয়া জাতকরণ করেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ এই প্রক্রিয়ার অংশ গ্রহণ হতে পারে নাই।

তিনি আরও বলেন, আমি মন্ত্রীর কাছে শুধু প্রশ্ন করতে চাই—যদি ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট তার সময় একদিনে বা দুই দিনে বা সাত দিনে যদি এটাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারে, তাহলে আমাদের বর্তমান সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হচ্ছে...। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, ২০ বছর তো গিয়েছে, এখন ছয় মাস যাচ্ছে; এই প্রক্রিয়াকরণ সহজীকরণ করা উচিত বলে আমি মনে করি। তাতে সাধারণ শিক্ষিত বেকার যুবক এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যারা এই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারছিল না, এই বেকার শিক্ষিত যুবকদেরকে আমরা ভোটের সময় বলেছিলাম—তাদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করব, তাদের চাকরি দেব। কিন্তু যদি যাদের চাকরির বয়স চলে গিয়েছে, তারা যদি এই টেন্ডার প্রক্রিয়ায়  অংশগ্রহণ করে কিছু করে খেতে পারে, তাহলে এটা ১৮-২০ কোটি মানুষের এই দেশে সবচাইতে ভালো কিছু হবে।

এমপি মোশাররফ আরও বলেন, মন্ত্রীর কাছে আমি শুধু প্রশ্ন রাখতে চাই—ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট যদি এটাকে একদিন বা সাত দিনে পারে, তাহলে আমার গভর্নমেন্ট যদি প্রসিডিং করে মন্ত্রিসভার সম্মিলিত প্রচেষ্টা নিয়ে বলে যে এইটা করতে হবে—শুধু বিএনপির জন্য নয়, অল ওভার বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ এই সহজীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে অতি দ্রুত যেন এই কাজটা করতে পারে। আমি দেশের আপামর মানুষের পক্ষে এই কথাটুকু বলে। আমার প্রশ্ন যে তিনি এটা কতদিনে বাস্তবায়ন করবেন, সেটাই এখন আমাদের দেখার বিষয়। জাতি এদিকে তাকিয়ে আছে।

এ সময় সব কিছু দেখার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর নয় বলেও মন্তব্য করেন এমপি মোশাররফ হোসেন। বলেন, যদিও আমাদের বর্তমান মানবিক প্রধানমন্ত্রীর সরকার, আজকে আমরা ক্ষমতায় এসেছি, সেই ক্ষমতার প্রাক্কালে আমি শুধু বলতে চাই—মানবিক সরকার হিসেবে আমাদের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী সব বিষয় দেখবে তা কিন্তু নয়। প্রত্যেকটা ডিপার্টমেন্ট এবং প্রত্যেকটা বিভাগ কিন্তু আলাদা আলাদা স্বতন্ত্রভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী যদি সবগুলো বিষয় তার মাথার ওপর নেয়, তাহলে এত বড় মন্ত্রিসভা, আমাদের কিন্তু অনেক করণীয়।

তার বক্তব্যের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেন, আইনটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় করে না, এই আইনটি করার দায়িত্ব হচ্ছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের। কাজেই একটি সরকার কতগুলো পদ্ধতির ভিতর দিয়ে কাজ করে। আপনি ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের কথা উল্লেখ করেছেন, আমি বিনীতভাবে বলব, ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট যেভাবে সৃষ্টি হয়েছিল আমরা কিন্তু সেভাবে সৃষ্টি হইনি। আমরা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সৃষ্টি হয়েছি, আমরা জনগণের কাজ করার জন্য কতগুলো আইন-কানুন, নিয়ম তার ভিতর দিয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাজ করে থাকি। এটা বুঝতে হবে ইন্টারিম গভর্নমেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেখানে কিন্তু আমাদের দেশের যে জেনারেল রুলস—সংবিধান থেকে শুরু করে বিভিন্ন আইন যেগুলো, সেগুলো কিন্তু তারা অনুসরণ অথবা মান্য করার জন্য বাধ্য ছিল না। এটা ছিল একটা সাময়িক ব্যবস্থা, এটা ছিল একটা বাস্তবতা। কিন্তু আজকে আমরা যেহেতু জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছি, যেহেতু আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, যেহেতু আমরা এই পার্লামেন্টের শক্তিতে বিশ্বাসী যারা আইন প্রণয়ন করে থাকে—সেই কারণে আমরা কিন্তু প্রত্যেকটি কাজ আইন-কানুনের ভিতর দিয়ে করে থাকি।

এদিকে পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নয়, আইন মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এ সময় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান দাঁড়িয়ে বলেন, প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস ২০০৮—পরবর্তীতে সংশোধন করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। এই দুটির মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্টরা এমন একটা স্কিম করেছিল, এখন আসলে সেই স্কিমের আওতায় এক দিকে বিগত ১৭ বছরে যারা বিরোধী রাজনৈতিক দল করত, বিরোধী মত-পথের মানুষ ছিল, তাদেরকে যেকোনো ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে দূরে রাখার প্রক্রিয়া করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমরা সেই প্রক্রিয়াটা যখন ডিটেক্ট করলাম, আমরা ওভারনাইট অনেকগুলো অ্যাকশন হয়তো নিতে পারতাম। কিন্তু আমরা ডিউ প্রসেসে আগাব বলে ক্যাবিনেট থেকে একটা সাব-কমিটি করে দেওয়া হয় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলসকে যুগোপযোগী করে এই সমস্ত সিন্ডিকেট এবং সিন্ডিকেটের যে ব্যারিকেড দেওয়া আছে—সবগুলো ভাঙার জন্য।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সেই সাব-কমিটিতে আমি ছিলাম চেয়ারম্যান। আমাদের মন্ত্রী ছিলেন মুক্তাদির সাহেব (ইন্ডাস্ট্রি মিনিস্টার) উনি ছিলেন, বিদ্যুৎ মন্ত্রী ছিলেন, আমাদের প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম সাহেব ছিলেন, ক্যাবিনেট থেকে সবাই ছিলেন। কয়েক দফায় আমরা মিটিং করে একটা খসড়া ড্রাফট ফাইনাল করেছি এবং সেটা অচিরেই পার্লামেন্টের সামনে আসবে। আসলে আমরা ডিউ প্রসেসে এই সিন্ডিকেট ভাঙার ব্যবস্থা করব বলে আশা করছি, ইনশাল্লাহ। আমরা খুব অতি দ্রুতই ওই সিন্ডিকেট ভাঙার যে আইন—আইনি প্রক্রিয়াই আমরা এটা মোকাবেলা করব।

ঢাবি শিক্ষার্থীদের আটকে থাকা টিউশনির টাকা তুলে দিতে উদ্যোগ …
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
দূরত্ব ভাতা পাচ্ছেন চর ও দুর্গম এলাকার শিক্ষকরা
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়তাবাদ থেকে রাষ্ট্রসংস্কার: বিএনপি’র ৪৮ বছরের পথযাত্রা …
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
বিপিএল নিয়ে কোয়াব-বিসিবি বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত এলো?
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
মিরাজ শেখের পরিবারকে সামনে বসিয়ে গুমের ঘটনা অস্বীকার করলেন …
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বক্তা থাকায় সেমিনার বন্ধ করল…
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬