একদিনের সফরে আজ চট্টগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে একগুচ্ছ কর্মসূচি

০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০০ AM
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান © সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। এক দিনের সফরে রবিবার (৯ আগস্ট) কক্সবাজারের মহেশখালী ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, আলেমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, কবর জিয়ারত ও দলীয় সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত করা সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল ৯টার দিকে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন।

মাতারবাড়ীকে ঘিরে চলমান অবকাঠামো ও শিল্প উন্নয়ন কার্যক্রম সরেজমিনে দেখবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অবহিত হবেন বলে জানা গেছে। মহেশখালীর কর্মসূচি শেষে দুপুর ১২টার দিকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী।

বাঁশখালীর সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে জেলে সম্প্রদায় ও মাটির ঘরে বসবাসকারী দরিদ্র পরিবারের অনেকে ঘর হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন।

এসব পরিবারের পুনর্বাসনে সরকারের উদ্যোগে ১০০টি নতুন ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রতীকীভাবে একজন স্বজনহারা নারীর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেবেন। এর মাধ্যমে ১০০ পরিবারের মধ্যে ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। এ সময় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রীও বিতরণ করার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বাহারছড়ায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য দুটি হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছে।

বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা অনুষ্ঠানস্থল, হেলিপ্যাড ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে ফটিকছড়ি উপজেলার বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। সাক্ষাতের পাশাপাশি হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রায় ৫০ জন নেতার সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের নেতারা এটিকে অরাজনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের সময় আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাতের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, সেটি রক্ষার অংশ হিসেবেই এ সাক্ষাৎ হচ্ছে। তবে সাক্ষাতের সময় স্থানীয় উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার প্রস্তুতিও রয়েছে হেফাজতের নেতাদের।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে এমনভাবে স্বাগত জানানো হবে, যাতে ফটিকছড়ির মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও দাবি-দাওয়া তার কাছে আলাদাভাবে তুলে ধরতে না হয়।

তিনি বলেন, ফটিকছড়িতে সরকারি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা, আরও কয়েকটি কলেজ সরকারিকরণ, তরুণদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, ফটিকছড়ির গ্যাস স্থানীয় জনগণের ব্যবহারের ব্যবস্থা, ১৮টি চা-বাগান ও চারটি রাবার বাগানে গ্যাস-সংযোগ এবং বিস্তীর্ণ খাসজমিতে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পর্যায়ক্রমে উপস্থাপন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে বাবুনগর মাদ্রাসা মাঠে প্যান্ডেল নির্মাণ, প্রবেশপথ সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা একাধিকবার মাদ্রাসার পুরো এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী বলেন, ফটিকছড়ির মানুষের দীর্ঘদিনের কয়েকটি দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে ৫০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন, চট্টগ্রাম থেকে নাজিরহাট হয়ে রামগড় পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার বিষয় রয়েছে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য ফটিকছড়ির পেলাগাজি এলাকায় অস্থায়ী হেলিপ্যাডও প্রস্তুত করা হয়েছে।

ফটিকছড়ির কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে হাটহাজারী যাবেন। সেখানে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন। এ সময় প্রয়াত আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীর কবরও জিয়ারত করার কথা রয়েছে।

এরপর প্রধানমন্ত্রী জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় কিছু সময় অবস্থান করবেন। পরে হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। হাটহাজারীর পুনর্বাসন কর্মসূচিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। প্রতিটি পরিবারকে এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। একই অনুষ্ঠানে ১৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।

অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে মঞ্চ নির্মাণের কাজ চলছে। সড়ক সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের পক্ষ থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারকে নতুন ঘর নির্মাণে সহায়তা হিসেবে এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। একই অনুষ্ঠানে ১৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। চট্টগ্রাম সফরের শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যায় নগরের পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের পাশাপাশি ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারাও অংশ নেবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ নেতাকর্মীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, তিন সাংগঠনিক ইউনিটের বিএনপি এবং ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা সভায় অংশ নেবেন।

নগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটির সদস্য এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের পাশাপাশি উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত থাকায় জ্যেষ্ঠ নেতাদের সমন্বয়ে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।

উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, এবারের সাংগঠনিক সভার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সাধারণত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় সীমিতসংখ্যক শীর্ষ নেতা অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এবার তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক তৃণমূল নেতা সরাসরি দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থল ও হেলিপ্যাডসংলগ্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া তারেক রহমানের এটিই প্রথম চট্টগ্রাম সফর। এর আগে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি। তারও আগে ২০০৫ সালে দলীয় কর্মসূচিতে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। সফর শেষে রাত ৯টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর এটাই ‘সেরা সময়’: ইরান…
  • ০৯ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশ করা হবে এসএসসির ফল
  • ০৯ আগস্ট ২০২৬
মিয়ানমারের নাগরিক পরিচয়ে পালাচ্ছিলেন সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের…
  • ০৯ আগস্ট ২০২৬
শোকার্ত ইন্টার মায়ামিকে হারিয়ে দিল মেক্সিকোর ক্লাব মনতেরের
  • ০৯ আগস্ট ২০২৬
সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলনে নামার ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের
  • ০৯ আগস্ট ২০২৬
দিল্লিতে হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ বক্তা সাতক্ষীরার তরুণ…
  • ০৯ আগস্ট ২০২৬